১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৭:৫৯

পবিত্র শবেমেরাজ

মাওলানা আবু তালহা তারীফ

পবিত্র শবেমেরাজ

আজ পবিত্র শবেমেরাজের রাত। শব শব্দটি ফারসি অর্থ রাত ও আরবি মেরাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ বা ঊর্ধ্বগমন। অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ইসলামের ইতিহাসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, রজব মাসের ২৬ তারিখে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে হজরত উম্মে হানি (রা.)-এর ঘরে বিশ্রামে ছিলেন। তাঁর অর্ধনিদ্রা অবস্থায় জিবরাইল (আ.) অন্যান্য ফেরেশতাসহ ওই ঘরে অবতরণ করেন এবং প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসায় গমন করেন। সেখানে রসুল (সা.) নবীদের জামাতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বালোকে গমন করেন।

বুখারি শরিফে উল্লেখ রয়েছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম আসমানে হজরত আদম (আ.), দ্বিতীয় আসমানে হজরত ইয়াহইয়া (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.), তৃতীয় আসমানে হজরত ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে হজরত ইদ্রিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হজরত হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে হজরত মুসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে হজরত ইবরাহিম (আ.)-সহ সবার সঙ্গে সালাম ও কথাবার্তা বলেন। অতঃপর তিনি বায়তুল মামুর গেলেন, বাইতুল মামুর হলো প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় হাজার ফেরেশতা আসেন ও প্রস্থান করেন, তাঁরা দ্বিতীয়বার আর আসার সুযোগ পান না। অতঃপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহার কাছে গেলেন। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছিলেন। যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।’ সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ১। আজ এই রাতটি নবী প্রেমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত। কেননা মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় নবী তাঁর হাবিবকে সশরীরে মেহমান বানিয়ে আরশ মহল্লায় ভ্রমণ করিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন। যা কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানো হয়। এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন, জান্নাতের প্রাসাদগুলো মুক্তার তৈরি আর তার মাটি হলো মেশকের। বুখারি।

মহিমান্বিত এই রাতে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পেলেন একদল লোকের তামার নখ। তারা সেই তামার নখ দিয়ে নিজেরা নিজেদের গাল, বুক ও শরীরে আঁচড় কাটছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে জিবরাইল (আ.) এরা কারা? হজরত জিবরাইল (আ.) উত্তরে বললেন, এরা ওই সমস্ত লোক, যারা মানুষের গোশত খেত এবং তাদের সম্ভ্রমে আঘাত হানত। অর্থাৎ গিবত করত এবং মানুষকে লাঞ্ছিত করত। মুসনাদে আহমাদ।

বুখারি শরিফের বর্ণনায় পাওয়া যায়, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরশে আজিমের এ গুরুত্বপূর্ণ সফরে মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ একটি উপহার পেয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ উপহারটি হলো হাউজে কাউসার। যা প্রথম আসমানে নবীজিকে দেখানো হয়েছিল। নবীজি সেই কাউসারের বিবরণও দিয়েছেন। এ ছাড়াও এ সফরে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনটি উপহার দেওয়া হয়। তা হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সুরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো এবং এই উম্মতের যারা শিরক থেকে বেঁচে থেকে মৃত্যুবরণ করবে তাদের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়ার ঘোষণা। মুসলিম।

প্রিয় পাঠক, আসুন আজ গুরুত্বপূর্ণ এই রাতের পবিত্রতা রক্ষা করি। অনৈতিক বেদায়াতি কর্মকান্ড থেকে বিরত থেকে নিজেকে আল্লাহ ও রসুলের রেজামন্দি হাসিল করি। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজে গিয়ে যেসব উপহার নিয়ে এসেছেন তা পাওয়ার জন্য প্রিয় নবীজিকে অনুসরণ করি। রসুলের ভালোবাসায় নিজেকে সঁপে দিই। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের খাঁটি বান্দা ও রসুলের উম্মত হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর