শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৫

টার্গেট ছিল আরও বিদেশি হত্যা

সিদ্ধান্ত সারোয়ারের, বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন তামিম

সাখাওয়াত কাওসার

টার্গেট ছিল আরও বিদেশি হত্যা

আরও বিদেশি হত্যার টার্গেট ছিল নব্য জেএমবির। হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সফল অপারেশনের আগেই বিদেশিদের সমাগম হয় এমন আরও একটি জায়গার রেকিও সম্পন্ন করেছিল জঙ্গিরা। ওই স্থানটি রেকির দায়িত্বে ছিলেন তাওসিফ। তবে হলি আর্টিজানে তাওসিফ নিহত হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য থেমে যায় ওই অভিযান। আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত নব্য জেএমবির প্রধান সারোয়ার জাহানের ল্যাপটপ থেকে এমন তথ্য উদ্ধারের পর রীতিমতো বিস্মিত তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র বলছে, ধানমন্ডির একটি জায়গায় প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা মিলিত হন। ওই স্থানটির চারপাশ রেকি করে নিহত তাওসিফ এর প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন নব্য জেএমবির প্রধান সারোয়ার জাহানের কাছে। তবে এর আগেই সারোয়ার জাহান তার সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছিলেন শীর্ষস্থানীয় নেতা তামিম আহমেদ চৌধুরীর কাছে। বাস্তবায়নের দায়িত্বও দিয়েছিলেন তাকে। আর গুরুত্বপূর্ণ এ কাজের জন্য তামিম ভরসা রেখেছিলেন তাওসিফের ওপর। রেকির পর তাওসিফের বিস্তারিত ওই প্রতিবেদনটি তামিমের হাত ঘুরে পৌঁছেছিল সারোয়ার জাহানের কাছে। তবে গুলশানের হামলায় তাওসিফের নিহত হওয়া এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একের পর এক অভিযানের কারণে নড়বড়ে হয়ে পড়ে নব্য জেএমবির কাঠামো। হয়তো এ কারণেই নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের অপেক্ষা করছিল জঙ্গিরা।

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক লুত্ফুল কবীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) নয়ন ও হাসিবের রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা ছিল। দুই আসামির প্রত্যেকের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনও করা ছিল। কিন্তু নানা কারণে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সময় করতে পারেননি। তবে আগামীকাল (আজ) শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।’ সূত্র বলছে, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রেষণা দেওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হিসেবে উত্তরাঞ্চলের ছয় জেলা বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা। সংগৃহীত মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে এসব জেলায় জায়গা কেনার পরিকল্পনা ছিল তাদের। ওই জায়গাতেই হতো আস্তানা। তবে এ জন্য থেমে ছিল না তাদের কর্মকাণ্ড। নদী-তীরবর্তী গহিন চরাঞ্চলে মাঝেমধ্যেই চলত জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, ‘গ্রেফতার দুজনকে রিমান্ডে আনলে তাদের কাছ থেকে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে তারা যে বিভিন্ন সময় নব্য জেএমবিকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন, এর প্রমাণ আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি।’

৮ অক্টোবর আশুলিয়ার ঘটনার পর আবদুর রহমানের বাসা থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা, অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সাংগঠনিক অনেক নথি জব্দ করে র‌্যাব। পরে  তার পাসপোর্টের সূত্র ধরে র‌্যাব নিশ্চিত হয়, আবদুর রহমানের প্রকৃত নাম সারোয়ার জাহান। তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের থুমরিভোজা এলাকায়। পরে ২০ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল ও মহাখালী এলাকা থেকে নয়ন ও হাসিবকে ২৮ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর