Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:৪৯

সন্দ্বীপে নৌকাডুবি

আরও নয়জনের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

আরও নয়জনের লাশ উদ্ধার

সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ‘লাল বোট’ ডুবির ঘটনায় গতকাল সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। বিকাল পর্যন্ত আরও নয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সন্দ্বীপ চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়নি সরকারি কোনো সংস্থা। এতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম জাকারিয়া বলেন, ‘স্থানীয় জনগণের সহায়তায় গতকাল আরও সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়া বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আমরা নিশ্চিত নই। তবে আশঙ্কা করছি নিখোঁজদের কেউ আর জীবিত নেই।’ আমাদের সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ প্রতিনিধি জানান, সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গতকাল দিনভর সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া, মাইটভাঙ্গা, মগধরার বিভিন্ন স্পটে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চলে। উদ্ধারকৃতরা হলেন টেকনাফের সামছুল আলম, কাছিয়াপাড়ের মাইনুদ্দীন, মুছাপুরের হাফিজ উল্ল্যা, বাউরিয়ার নিজাম উদ্দীন, ইনসেপ্টার এম আর মাগুরার কামরুজ্জামান, রহমতপুরের মাস্টার ইউসুফ ও অজ্ঞাত আরও দুজন। পরে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ শামছুল ইসলাম এবং মগধরার ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে লাশগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুপ্তছড়া-কুমিরা ঘাটে চলাচলকারী এস টি সালামের দীর্ঘদিন যাবৎ একটি ইঞ্জিন বিকল হওয়া সত্ত্বেও একটিমাত্র ইঞ্জিন দিয়ে উত্তাল সাগরে যাত্রী পারাপার করতে গিয়ে প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় হতো। যাত্রীদের অভিযোগ, সি-ট্রাকের কাছে লাল বোটটি উল্টে গেলেও ভেসে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারে সি-ট্রাকটি ভাটির দিকে একটুও এগিয়ে যায়নি। এ সময় সি-ট্রাকটি যদি দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যেত তাহলে আরও অনেক যাত্রীকে অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হতো। ডুবে যাওয়া নৌকার ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া উত্তর সন্দ্বীপের কলেজছাত্রী নাহিদা জানান, ‘নৌকার ভিতর থেকে কোনোমতে বের হয়ে বার বার মিনতি করেও কোনো সাহায্য পাইনি জাহাজ কর্তৃপক্ষ থেকে। এমনকি সি-ট্রাকের সার্চলাইটও জ্বালানো হয়নি। একই অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতা মাস্টার আনোয়ারুল আলম।’

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়নি সরকারি কোনো সংস্থা : সন্দ্বীপের লাল বোট ডুবির ঘটনায় অংশ নেয়নি কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী কিংবা সরকারি কোনো সংস্থা। এ নিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটলেও কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী কিংবা সরকারি কোনো সংস্থা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়নি। স্থানীয় জনগণ নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে সি-ট্রাক থেকে নেমে লাল বোটে করে উপকূলে যাওয়ার পথে গুপ্তছড়ায় প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে উল্টে বোটডুবির ঘটনা ঘটে।

 


আপনার মন্তব্য