শিরোনাম
বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা

বিপুল সম্ভাবনা তেঁতুলিয়ায়

পর্যটন

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়

বিপুল সম্ভাবনা তেঁতুলিয়ায়

তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা। এ উপজেলার তিন দিকে ভারত, শুধু দক্ষিণ দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা। পুণ্ড্র, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম শাসনামলের হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ জনপদের রয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিপুল সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। তাই হিমালয়কন্যাকে পরিকল্পিত পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। সমতল ভূমিতে চা বাগান দেখার আকর্ষণে প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন তেঁতুলিয়ায়। তেঁতুলিয়া ছুঁয়ে গেছে সীমান্ত নদী মহানন্দা। মহানন্দার বুক থেকে নুড়ি পাথর তোলার দৃশ্য শ্রম ও সৌন্দর্যকে একাকার করে ফেলে। এ নদীর হাঁটুজলে নেমে সন্ধ্যা উপভোগ করা পর্যটকের জন্য বিপুল আনন্দের। শরতের শেষের দিক থেকে শীত পর্যন্ত তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোয় দাঁড়িয়ে উত্তরের মেঘমুক্ত আকাশে তাকালেই চোখে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহময় মায়াবী দৃশ্য। এ দৃশ্য উপভোগের জন্য নানা প্রান্ত থেকে পর্যটক ভিড় জমান তেঁতুলিয়ায়। একমাত্র এ এলাকায় কালাতিতির নামের একটি পাখির দেখা মেলে। এ ছাড়া হিমালয়ে প্রচণ্ড শীত পড়ার কারণে অনেক প্রজাতির অতিথি পাখি বিচরণ করে। তাই পাখিপ্রেমীরা শীতকালে ছুটে আসেন তেঁতুলিয়ায়।

তেঁতুলিয়ায় রয়েছে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটক ভিড় করেন এখানে। এখানে অবস্থিত ব্যবসা-বাণিজ্যের একমাত্র সম্ভাবনাময় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল, ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট স্থাপিত হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এ চেকপোস্ট দিয়ে সহজে ও কম খরচে ভারত, নেপাল, ভুটানে চিকিৎসা এবং ভ্রমণে যাচ্ছেন অনেকেই। বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, এভারেস্ট শৃঙ্গ ৭৫ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, চীন ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিং ৫৪ কিলোমিটার আর শিলিগুড়ি ৮ কিলোমিটার। তেঁতুলিয়ায় প্রতি বছর পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো আবাসন। ফলে পর্যটকদের থাকতে হয় তেঁতুলিয়া থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে জেলা শহরের কোনো হোটেলে। পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কোনো মোটেল গড়ে ওঠেনি। তাই স্থানীয়রা এবং আগত পর্যটকদের দাবি অচিরেই তেঁতুলিয়াকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা হোক। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পর্যটন এলাকা ঘোষণা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে তেমন সরকারও পাবে রাজস্ব।

তেঁতুলিয়া নাট্যগোষ্ঠীর সভাপতি ও চা বাগানের মালিক সাদেকুল ইসলাম জানান, মহানন্দার পাড়ে আমার চা বাগান দেখতে প্রতি বছর অনেক পর্যটক আসেন। তেঁতুলিয়ার সমতল ভূমির যে সৌন্দর্য তা দেখার জন্য নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। কিন্তু এখানে এসে সুযোগ-সুবিধার অভাবে হতাশ হন। তেঁতুলিয়াকে অবিলম্বে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা উচিত। আমদানি ও রপ্তানিকারক মখলেছুর রহমান জানান, বাংলাবান্ধা একটি সম্ভাবনার স্থলবন্দর। এ পোর্ট দিয়ে চার দেশের বাণিজ্য ও লোক যাতায়াত চলছে। সিকিমের গ্যাংটকের দূরত্ব অনেক কম। অনেক পর্যটক এখন এই বন্দর দিয়ে দার্জিলিং, নেপাল, ভুটানসহ ভারতের নানা শহরে যাচ্ছেন। কিন্তু সিকিম যেতে পারছেন না। কারণ একটি আইন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার উদ্যোগী হলে পাহাড়ে বরফ পড়ার দৃশ্য দেখার জন্য এ দেশের অনেক পর্যটক বাংলাবান্ধা পোর্ট ব্যবহার করবেন। সরকার রাজস্ব পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বেকারত্বের হার কমবে। উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহীন বলেন, ‘পর্যটকের জন্য তেঁতুলিয়ায় সরকারি উদ্যোগে রিসোর্ট, থিম পার্ক, পাখির অভয়ারণ্য করা জরুরি। আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করি সরকারও এগিয়ে আসবে।’

সর্বশেষ খবর