Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:২১

চমকে ভরা ডিজিটাল মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চমকে ভরা ডিজিটাল মেলা

প্রযুক্তির বিস্ময় তুলে ধরতে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড মেলায় হাজির করা হয়েছিল পৃথিবীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট সোফিয়াকে। গতকাল শুধু সোফিয়া নয়, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রজুড়ে সাজানো স্টলে দেখা মেলে হাজারো প্রযুক্তির। তাই বেলা বাড়তেই মেলা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সরেজমিন মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, বেলা ১টা বাজতেই রোবট সোফিয়াকে দেখতে ঢল নামে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে। ‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুইটা ৪৫ মিনিটে মঞ্চে নিয়ে আসা হয় সোফিয়াকে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন সোফিয়া। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ এর উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় পর্বে দর্শকের সামনে হাজির করা হয় হলুদ জামদানি আর সাদা ওড়না পরিহিত রোবট সোফিয়াকে।

গ্যালারি উপচেপড়া দর্শকের মুহুর্মুহু হাততালিতে কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছিল সোফিয়ার। আয়োজকদের চেষ্টায় কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রথমে রোবটটির নির্মাতা ড. ডেভিড হ্যানসনকে কতদিন হলো রোবট নির্মাণ করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ২৩ বছর হলো এ ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট তৈরির চেষ্টা করছি। আর সোফিয়াকে তৈরি করতে সময় লেগেছে তিন বছর। আগামী বছরের জানুয়ারিতে পা লাগিয়ে সম্পূর্ণ করা হবে সোফিয়াকে। বাংলাদেশের রোবটিক্সে উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, রোবট সোফিয়া তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আউটসোর্সিং মার্কেটেই পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ চাইলেই প্রাযুক্তিক বিষয় শিখে নিয়ে এ ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট তৈরি করতে পারে। এরপর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশ সম্পর্কে রোবট সোফিয়াকে তার অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে সে উত্তর দেয়, ‘বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। আমি জানি ২০২১ এর মধ্যে তোমরা ২ মিলিয়ন লোকের কাজের সন্ধান করছ, প্রাযুক্তিক পণ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করবে। তোমাদের অনেক ভালো উন্নতি হচ্ছে।’ এসময় উপস্থাপক গাউসুল আলম শাওনের ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে উপস্থিত দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই রোবট। সোফিয়াকে প্রশ্ন করা হলে মুখে বিভিন্ন রকমের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলে উত্তর দেয় রোবটটি। সোফিয়াকে প্রশ্ন করা হয়, যে পোশাকটি সে পরেছে এ সম্পর্কে কিছু জানে কিনা? উত্তরে সোফিয়া জানায়, ‘এই পোশাকটির নাম জামদানি। এটা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এর পেটেন্টও বাংলাদেশের।’ এরপর উপস্থাপক শাওন বলেন, সোফিয়া তোমার জন্ম তারিখ কত? উত্তরে সোফিয়া জানায়, ‘১৪ ফেব্রুয়ারি’। তখন উপস্থাপক তাকে বলেন, তোমারও মাথায় চুল নেই আমারও নেই। তোমার আর আমার রাশি এক। তাহলে মনে হয় আমাদের ভালোই জমবে। এর উত্তরে সোফিয়া বলে, আমি শুনেছি তোমার স্ত্রী অনেক সুন্দর। আমার মনে হয় তোমার তার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এরপর রোবটের আবিষ্কারে মানুষের কর্মবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা প্রশ্ন করলে সোফিয়া বলে, মানুষই তো রোবট তৈরি করেছে।

 রোবট মানুষের কাজে সহায়তা করবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সভ্যতা এগিয়ে যাবে। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে স্টেজ থেকে নামিয়ে আনা হয় রোবট সোফিয়াকে। এরপর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয় তারা। কিন্তু তখনো মেলাজুড়ে সহস  মানুষের ভিড়। মেলায় উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি যন্ত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। নয়া প্রযুক্তির ল্যাপটপ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যানবাহন, ডিজিটাল ক্রিকেট গেমসহ অসংখ্য উদ্ভাবনের দেখা মেলে মেলায়। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসেছিলেন মেলা ঘুরে দেখতে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফারিয়া রহমান বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এসেছি। রোবট সোফিয়া ছিল প্রথম আকর্ষণ। ওই অনুষ্ঠান শেষে অন্য স্টলগুলো ঘুরে দেখেছি। এখানে প্রায় প্রতিটি স্টলেই নিত্যনতুন প্রযুক্তির দেখা মিলেছে।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর