Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৩

কৃষি সংবাদ

বগুড়ায় বোরো চাষের প্রস্তুতি

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

বগুড়ায় বোরো চাষের প্রস্তুতি

রোদ আর কুয়াশার মধ্যেই বগুড়ায় বোরো চাষিরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। কাক-ভোরে মাঠে নামছেন তারা। বিকালের স্নিগ্ধ আলোয় ফিরছেন ঘরে। এ জেলার বোরো চাষিরা বীজতলা তৈরির পর এবার খেত তৈরি করছেন। দু-একটি স্থানে সেচ দিয়ে বোরো আবাদও করেছেন। বগুড়ার কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা রয়েছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ। ১২ উপজেলার বোরো চাষিরা বীজতলা তৈরি করছেন। বিভিন্ন উপজেলায় বীজতলা এখনো সতেজ রয়েছে। জেলায় এবার ফলন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৪.১ মেট্রিক টন চাল আর ধান ৬.৫ মেট্রিক টনের কিছু বেশি। তবে কিছু কিছু এলাকায় চাষিরা উন্নত জাত বা আগাম জাতের চাষবাস করেছেন। সেসব স্থানে বোরোর চাষ আগেই শুরু হবে এবং ফলনও বৃদ্ধি পাওয়ার আশা করছেন। ধুনট, সারিয়াকান্দি, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, তালোড়া, দুপচাঁচিয়া, কাহালু উপজেলায় চাষিরা নিচু এলাকায় বোরোর বীজতলা তৈরি করে এখন জমি তৈরি শুরু করেছেন। এবার প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২০ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ১ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে বীজতলায় চারা বাড়তে শুরু করেছে। চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জমিতে এ চারা রোপণ করার কথা। নন্দীগ্রাম উপজেলার সুঘাটের কৃষক মোজদার আলী জানান, শীতের পাশাপাশি রোদও আছে। এখন পর্যন্ত বোরোর বীজতলা ভালো রয়েছে। ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামের কৃষক হাসেম আলী, পাশের বিশালপুর ইউনিয়নের পালাশন গ্রামের আবদুস সাত্তারসহ একাধিক কৃষক জানান, এখন বীজতলা জমিতে রোপণের সময় হয়ে গেছে। কিন্তু গত কয়েকদিন থেকে প্রচ- ঠা-া ও শীতের কারণে বীজতলা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা। এ মুহূর্তে বীজতলা নষ্ট হলে তা কিনে রোপণ করা সম্ভব নয়। নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, শীত ও একটু কুয়াশা থাকলেও দিনের তাপমাত্রা ভালো। এ অবস্থায় বীজতলার তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর পরও তাঁর দফতরের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। এ আবহাওয়ায় করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ জেলায় বোরোর বীজতলা তৈরি হয়েছে। কোনো কোল্ড ইনজুরি নেই। সতেজ বীজ বপন শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যে। চলতি মৌসুমে এবার প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর