Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৭

পঙ্গু হাসপাতাল

অব্যক্ত যন্ত্রণায় রাতের রোগীরা

মাহবুব মমতাজী

অব্যক্ত যন্ত্রণায় রাতের রোগীরা

ডান পা কয়েকজন আলতোভাবে ধরে রেখেছেন। আর ট্রলিতে শুয়ে চিৎকার করছেন আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারী। কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের সামনে তাকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। মিনিট দশেক পর কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন চিকিৎসক। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ শেষে জানালেন, পা এক্স-রে করতে হবে। তবে পায়ে একটু ছোঁয়া পেলেই শুরু হয় ওই নারীর চিৎকার। কিন্তু এক্স-রে কাউন্টারের সামনে অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় এ নারী ছাড়াও আরও কয়েকজন আহত রোগীর স্বজনদের। কারণ কাউন্টারে এক্স-রের টাকা নেওয়ার কোনো লোক নেই। এমন ভোগান্তিতে যেন তাদের ভাঙা হাত-পায়ের যন্ত্রণা আরও তীব্র হতে থাকে। এসব সোমবার রাত ১১টার পরের চিত্র। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিকস হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) প্রতি রাতেই রোগীদের কাতরাতে হয় নানা যন্ত্রণায়। এদিন রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন আহত রোগী ভর্তি হন। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালটিতে রাতে কিছু সময় পর পর দুর্ঘটনার শিকার হওয়া হাত-পা ভাঙা বিভিন্ন রোগী আসতেই থাকেন। অথচ এদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য জরুরি বিভাগে রয়েছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক, তিনজন নার্স ও একজন ওয়ার্ডবয়। আবার একজন নার্সকেই জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টার, এক্স-রে কাউন্টারে বসতে হয় এবং আহত রোগীদের ব্যান্ডেজ করার কাজও করতে হয় তাকে। প্রতি রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত গড়ে পঙ্গু হাসপাতালে ১৩০ জন রোগী ভর্তি হন। হাসপাতালের রাতের চিত্র : রাত তখন ১১টা ০৩ মিনিট। ডিজিটাল এক্স-রে কাউন্টারের সামনে দেখা যায় সাত-আটজন লোকের জটলা। এরপর ৪ মিনিট না গড়াতেই কাতর হয়ে উপস্থিত হন আরও তিনজন রোগী। তবে এক্স-রে কাউন্টারে অপেক্ষমাণদের মধ্যে আনিসুর নামে এক লোক দাঁড়িয়ে আছেন তার শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে। জটলার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, কাউন্টারে কোনো লোক নেই। তাই তারা টাকা জমা দিতে পারছেন না এবং এক্স-রেও করাতে পারছেন না। আনিসুর জানান, তার ছেলে উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে হাতে তীব্র ব্যথা পেয়েছে। সেখানে স্পর্শ পেলেই চিৎকার করে কাঁদে। তাৎক্ষণিকভাবে সন্তানকে কোলে করে হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখে এক্স-রে ফিল্ম নিয়ে যেতে বলেছেন। কিন্তু কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও টাকা জমা দিতে পারেননি। প্রায় ৩০ মিনিট পর কাউন্টারে আসা নার্স জানালেন, তিনি আরেক রোগীর পায়ে ব্যান্ডেজ করতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া রাতে লোক কম থাকায় একজনের ওপর সব দায়িত্ব এসে বর্তায়। অন্যদিকে পায়ের রক্ত নিয়ে ডিজিটাল এক্স-রে রুমের সামনে হুইল চেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে দেখা গেল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ২২ বছর বয়সী সায়েম নামের এক যুবককে। সঙ্গে ট্রলিতে শুয়ে অপেক্ষা করছিলেন আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী আরেক রোগী। তারা জানালেন, টাকা জমা দেওয়ার রসিদ দিতে না পারায় তাদের এক্স-রে রুমে নেওয়া হচ্ছে না। আরও জানা যায়, রাতে অস্ত্রোপচার রুম বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। আলো জ্বললেও ভিতরে পাওয়া যায় না কোনো লোক। রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকলেও সময় ক্ষেপণ করা হয় অস্ত্রোপচার না করেই। আর আহত রোগীদের ট্রলিতে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার নাম করে সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে বখশিশ। এ ছাড়া ওয়ার্ডবয়সহ কিছু দালাল সিন্ডিকেট করে রোগীদের নানাভাবে প্রতারিত করে, ওষুধপত্র কিনিয়ে আনে।

 


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর