শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুন, ২০১৯ ২৩:৫৪

কৃষি সংসাদ

পাহাড়ে মিশ্র ফলের সুবাস

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পাহাড়ে মিশ্র ফলের সুবাস

পার্বত্যাঞ্চলে এ বছরও মিশ্র ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিভিন্ন বাহারি ফলের মৌ মৌ গন্ধ পাহাড়ের বাতাসে দোল খাচ্ছে। নানা ধরনের এসব রসালো ফলে সয়লাব বাজার। প্রতিদিন বসছে মৌসুমি ফলের হাট। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে উন্নত জাতের কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও আম। রাঙামাটির হাটবাজারগুলোতে এখন চোখজুড়ানো  মৌসুমি ফলের সমারোহ। চাহিদা অনেক, দামও কম। স্বাদ ও সাধ্যের মধ্যে মিলছে যে কোনো ফল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,  পুষ্টিগুণে ভরপুর পাহাড়ে উৎপাদিত এসব ফলের চাহিদা এখন দেশজুড়ে। রপ্তানি হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। রাঙামাটি জেলা কৃষি তথ্য সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপযুক্ত আবহাওয়ার কারণে রাঙামাটিতে আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলা নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, রাজস্থলী ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় এসব ফলের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। জুম চাষের পাশাপাশি কৃষকদের মিশ্র ফল চাষাবাদে আগ্রহ বেড়েছে। তাই ১২ মাসে মিলছে পাহাড়ে কোনো না কোনো ফল। এরই মধ্যে পাহাড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে রেগুয়াই ও আম্রপালির। একই সঙ্গে বাজার দখলে আছে লিচুর। চায়না-২, চায়না-৩ জাতসহ মিলছে বোম্বে লিচু। শুধু রাঙামাটি জেলায় লিচুর বাগান রয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে। আনারস ৪ হাজার ২০০ হেক্টর ও কাঁঠাল ১০ হাজার ৮৬৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। আর আমের বাগান রয়েছে ৩ হাজার ৩৭০টি। রাঙামাটির স্থানীয় ফলচাষি রাসেল চাকমা জানান, পাহাড়ে এবার আগাম মৌসুমি ফল এসেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে বিভিন্ন ফলমূল গাছে পেকে গেছে। তাই ফলগুলোর পুষ্টতা তেমন ভালো হয়নি। তবে ফলন বাম্পার হয়েছে। হিমাগার না থাকার কারণে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না এসব পচনশীল দ্রব্য। তাই লাভ না করে বিক্রি  করে দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সহজ পরিবহন ও সুষ্ঠু বাজারজাত ব্যবস্থা না থাকায় এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে শুধু কাঁঠাল, আনারস নয়, পার্বত্যাঞ্চলে প্রতি বছর বিভিন্ন জাতের কোটি কোটি টাকার ফল নষ্ট হচ্ছে। তাই লাভের মুখ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা। রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাঙামাটিতে বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। ফলনও হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক। বিশেষ করে উন্নত ও আধুনিক চাষাবাদের কারণে পাহাড়ে যে কোনো মৌসুমে ফল পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য পাহাড়কে এখন মৌসুমি ফলের দেশ বলা হচ্ছে। কৃষকরা যদি আরও একটু সচেতন হয়, তাহলে এসব ফল উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, এ সম্ভাবনাময় কৃষি খাতের উন্নয়নে পার্বত্যাঞ্চলে মৌসুমি ফল সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপন খুবই প্রয়োজন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর