Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০১৯ ২৩:২৪

অপহরণ থেকে ফিরে প্রকৌশলীর সংবাদ সম্মেলন

আমাকে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমাকে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়

অপহরণের পর মুক্তি মিললেও ফের শঙ্কায় পড়েছেন প্রকৌশলী দেওয়ান শামসুল হুদা। তার আশঙ্কা, তাকে আবারও অপহরণ করা হতে পারে। এমন হুমকি ধমকি পাচ্ছেন তিনি। এ অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন। প্রকৌশলী বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আমাকে অপহরণ করা হয়। চোখ, হাত বেঁধে আটকে রেখে আমাকে নির্যাতন করে অপহরণকারীরা।

গতকাল দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে স্ত্রীসহ হাজির হয়েছিলেন  বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার দেওয়ান শামসুল হুদা। সংবাদ সম্মেলনে তাকে  অপহরণের নেপথ্য ঘটনা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন। দেওয়ান শামসুল হুদার স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী এখনো সুস্থ হয়ে উঠেননি। গত ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি বগুড়ার আদমদীঘি যান তার স্বামী। ৯ জুন আমার ভাই মামুনুর রশিদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। ইন্দইল ব্রিজের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একদল লোক আমার স্বামী দেওয়ান শামছুল হুদাকে অপহরণ করে একটি মাইক্রোতে তুলে নেয়। আমার ভাইকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চলে যায়। ভাইয়ের চিৎকারে এ সময় আশপাশের লোকজন ধাওয়া করে অপহরণকারীদের অপর একটি মাইক্রোবাস আটক করে এবং পাঁচ-ছয়জনকে নামিয়ে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় মামুনুর রশিদ ওইদিন রাতেই আদমদীঘি থানায় একটি জিডি করেন। (জিডি নম্বর-৩৫৫)। পরদিন অর্থাৎ ১০ জুন রাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কচুক্ষেত এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় পাওয়ায় যায় ফ্ল্যাট ক্রেতা শামসুল হুদাকে। ওই ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে ফের আদমদীঘি থানায় জিডি করেন তিনি।

তিনি বলেন, আড়াই বছর আগে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ৭ নম্বও রোডের ৪২৩ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট (৩/এ নম্বর) কেনেন তারা। বায়না অনুযায়ী মালিক মুশরাত জাহানকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকাও পরিশোধ করেন। তারা সেখানেই বসবাস করছিলেন। কিন্তু ফ্ল্যাট  রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে উল্টো গত বছরের ৬ ডিসেম্বর শামসুল দম্পতিকে ওই ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে একটি মামলাও হয়। মামলায় আদালত মুশরাত জাহানকে এক বছরের কারাদ- দেয়। এরপরও তিনি গ্রেফতার হননি। উল্টো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মোবাইল নম্বও থেকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। বলছেন, ফ্ল্যাট ও টাকা কিছুই দেবেন না। জেসমিন আক্তার বলেন, ফ্ল্যাট প্রতারণার দায়ে মামলা করায় ক্ষিপ্ত মুশরাত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কতিপয় ব্যক্তিকে তার স্বামীর পেছনে লেলিয়ে দিয়েছেন। মুশরাত প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। এ অবস্থায় টাকা উদ্ধার, নয়তো ফ্ল্যাট ফেরত  পেতে চাইছেন ভুক্তভোগী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর