Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৯

প্রকৃতি

হালদায় অবমুক্ত করা হচ্ছে এক লাখ মাছ

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

হালদায় অবমুক্ত করা হচ্ছে এক লাখ মাছ

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্যপ্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে অতীতে স্থানীয় হ্যাচারি থেকে ক্রয় করে কার্প জাতীয় মাছ ছাড়া হতো। ফলে এসব মাছ আশানুরূপ ফল পাওয়া যেত না। তবে এবার প্রথমবারের মতো হালদা নদীর রেণু প্রক্রিয়া করে হালদায় ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।    

গত মৌসুমে হালদা নদীর এককেজি রেণু ক্রয় করা হয়। প্রতিকেজি রেণু থেকে প্রায় দুই লাখ পোনা হয়। তবে এর মধ্যে ৬০ শতাংশ রেণু থেকে পোনা হয়। এ হিসেবে বর্তমানে এককেজি রেণু থেকে এক লাখ পোনা মাছ তৈরি হয়। শিগগিরই এসব পোনা হালদায় অবমুক্ত করা হবে। জানা যায়, অতীত থেকেই সুবিধিত যে, হালদা নদীর পোনা অনেক মানসম্পন্ন। কিন্তু হালদার পোনা দেশের অন্যত্র নিয়ে প্রক্রিয়া করে বাজারজাত করা হলেও এ নদীতে ফেলার কোনো উদ্যোগ ছিল না। এবার প্রথমবারের মতো হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর কার্প জাতীয় মা মাছের মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ আগস্ট। গত ২৫ মে হালদা নদীতে ডিম ছাড়ে মা মাছ। এরপর স্থানীয়রা সেই ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারি অথবা মাটির তৈরি কুয়ায় স্থানীয় পদ্ধতিতে রেণু উৎপাদন করে। উৎপাদিত এককেজি রেণু ক্রয় করে গত জুন থেকে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের একটি পুকুরে নিবিড় পরিচর্যা করা হয়।

৬ ইঞ্চি বা তার বেশি আকার ধারণ করলে তা হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হবে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হালদা নদীর পোনা হালদায় ফেলার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করি। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও খাবার দিয়ে প্রায় ৬ ইঞ্চি আকার ধারণ করেছে। খুব শিগগিরই এসব মাছ হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতে, হালদা নদীর পোনা যথেষ্ট মানসম্পন্ন। তাই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর পোনা হালদাতে অবমুক্ত করে মা মাছের পরিমাণ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করি। হালদা নদীতে উন্নতমানের মা মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ডিমের পরিমাণও বাড়বে। যা দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। অতীতে স্থানীয় হ্যাচারি থেকে পোনা নিয়ে ছাড়া হলেও হালদার পোনা হালদাতে ছাড়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এবার হালদার পোনা হালদায় ছাড়া হলে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর