শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৩

তিন পণ্য নিয়ে সতর্ক সরকার

চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, নজরদারি বাড়াতে স্বরাষ্ট্রে চিঠি, লবণ নিয়ে বাণিজ্য সচিবের বৈঠক, আসছে পিয়াজ

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

তিন পণ্য নিয়ে সতর্ক সরকার

পিয়াজের দাম কমতে না কমতেই গুজবের ওপর ভিত্তি করে দোকানগুলোতে দেখা দিয়েছে লবণ সংকট। আবার কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে চালের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই তিন পণ্য নিয়ে সরকার যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদন উল্লেখ করে চাল রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। পণ্যটির দামের ঊর্ধ্বগতি রোধে নজরদারি জোরদার করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়েও। অপরদিকে সারা দেশে লবণের বাজারে মনিটরিং বাড়াতে চিঠি দেওয়া হয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে। জরুরি সভা করে ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা। গতকাল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, লবণ ও পিয়াজ- এই তিন পণ্য নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ গত ১৮ নভেম্বর ‘হঠাৎ চাল নিয়ে চালবাজি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চালের বাজারের ওপর গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। 

গত ১৯ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে এই চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. অনিমা রানী নাথ জানান, নতুন ধান ওঠার ভরা মৌসুমের আগে হঠাৎ করে চালের মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর একই রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে সরু চাল রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এই চিঠিটিও দেওয়া হয় ১৯ নভেম্বর। চিঠি পাওয়ার পর গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদন নিয়ে দেশ থেকে সুগন্ধি ও সরু চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। খাদ্য বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর এখন সরু চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

লবণ নিয়েও সতর্কবার্তা : কোনো কারণ ছাড়া লবণের দাম বাড়ায় সারা দেশে মনিটরিং জোরদার করার জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চক্র এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিবর্গ বাজারে ভোজ্য লবণের ঘাটতি রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তি নিরসনের লক্ষ্যে বাজার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে। এদিকে  লবণের উৎপাদন, মজুদ ও বিপণন-সংক্রান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জরুরি সভা করেছেন বাণিজ্য সচিব।

পিয়াজের প্রথম ফ্লাইট পৌঁছেছে : গতকাল সন্ধ্যায় পাকিস্তানের করাচি থেকে সাদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বেসরকারি কোম্পানির আমদানি করা পিয়াজের প্রথম চালান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। এ ছাড়া গতকাল মধ্য রাতে মিসর থেকে আমদানিকৃত পিয়াজ নিয়ে সৌদি এয়ারলাইন্স (এসভি ৩৮০২)-এর একটি উড়োজাহাজ জেদ্দা হয়ে ঢাকায় আসার কথা। এদিকে আকাশপথে পিয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মাশুল জনস্বার্থে মওকুফ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

প্রতিদিনের চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয় : শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, দেশে বর্তমানে ছয় মাসের লবণ মজুদ রয়েছে। গত মৌসুমে ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ম্যাট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে।গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি হোটেলে বাংলাদেশ ডিজিটাল ওয়েজ সামিট উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান। আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট লবণ মিলের সংখ্যা ২৭০। এর মধ্যে ২২২টি চালু রয়েছে। চালু মিলগুলোর সর্বমোট দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার ৫২০ ম্যাট্রিক টন।

অন্যদিকে ভোজ্য লবণের দৈনিক চাহিদা ২ হাজার ৪৫৪ ম্যাট্রিক টন। ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কম থাকায় মিলগুলো উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ম্যাট্রিক টন লবণ উৎপাদন করছে। তিনি বলেন, গতকাল ১৯ নভেম্বর মিলগুলো থেকে বাজারে মোট ৩ হাজার ২০০ ম্যাট্রিক টন লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন মৌসুমে উৎপাদিত লবণও ইতিমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে। পর্যাপ্ত মজুদের ফলে শুধু ছয় মাস নয়, আগামী এক বছরেও লবণের কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানান মন্ত্রী।

রাজধানীতে লবণের ট্রাক সেল চালু করেছে বিসিক

ভোক্তাদের সুবিধার্থে গতকাল বিসিক রাজধানীর চার স্পটে খোলা বাজারে লবণ বিক্রি শুরু করেছে। স্পটগুলো হচ্ছে উত্তরা বিজিবি মার্কেট, ধানমন্ডি ৯/এ, মিরপুর-১ ও লালবাগ শ্যামা সল্ট মিলপ্রাঙ্গণ। প্রতি কেজি সরু লবণ ৩০ ও মোটা লবণ ১৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর