শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১২

ডিজিটাল দ্বীপ হচ্ছে মহেশখালী

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

ডিজিটাল দ্বীপ হচ্ছে মহেশখালী

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপটি দেশের অন্যতম স্বল্পোন্নত জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত। এ দ্বীপে নিরক্ষরতার হার বেশি। কৃষি ফলনে অন্যতম অন্তরায় লবণাক্ত মাটি। নানা কারণে স্থানীয় যুব সমাজ স্থানান্তরিত হচ্ছে অন্যত্র। এসব কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এই দ্বীপের ভবিষ্যৎ। তবে এসব বাধা অতিক্রম হওয়ার পথে। সুদিন আসছে এ দ্বীপের। দ্রুততম গতির ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে বদলে যাবে মহেশখালী। রূপ নিচ্ছে ডিজিটাল দ্বীপে। বদলে যাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা,  কর্মসংস্থান ব্যবস্থা। ভূমিকা রাখবে দ্বীপের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে। জানা গেছে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) মহেশখালী দ্বীপের উন্নয়নে ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড (দ্বীপ)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রথম পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্প। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, আইওএম ও কোরিয়া টেলিকম যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মহেশখালীতে বিদ্যমান একটি টাওয়ার সংস্কার করে এতে ‘গিগা মাইক্রোয়েভ’ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ দ্বীপের বাসিন্দারা ১০০ এমবিপিএসেরও বেশি গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন। বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীটিকে দেশের দ্রুততম গতির ইন্টারনেট মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘দ্রুততর ইন্টারনেট সুবিধায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ দিচ্ছে। তাছাড়া, স্থানীয় শুঁটকি উৎপাদনকারীরাও ই-কমার্সের মাধ্যমে উৎপাদিত শুঁটকি বিক্রয়ের সুযোগ পাবেন। সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান।

 টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) পূরণে ডিজিটাল আইল্যান্ড দ্বীপ উদ্যোগ ও বাংলাদেশের অগ্রগতির একটি অংশ বলে আমি মনে করি।’

 

উল্লেখ্য, ডিজিটাল দ্বীপের নানা বৈশিষ্ট্য আছে। এর মধ্যে আছে, ২৫টি স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চারটি কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকের মাধ্যমে মোবাইল স্বাস্থ্য পরিসেবা প্রদান (পরিসেবাগুলো হলোÑস্বয়ংক্রিয় স্বাস্থ্যগত রেকর্ড সিস্টেম, টেলিমেডিসিন পরামর্শ, মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে রোগনির্ণয় যেমনÑ মূত্র পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ডডিভাইস এবং রক্ত পরীক্ষা), কীটনাশক এবং সংরক্ষণকারী রাসায়নিক উপকরণগুলোর ব্যবহার কমিয়ে স্থানীয়দের জৈবকৃষি এবং অর্গানিক পদ্ধতিতে মাছ শুকানোতে উৎসাহিত করা, একই সঙ্গে ই-কমার্সের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে আয় বাড়ানো, মধ্য স্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করা, জাগো ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দূর-শিক্ষণ পরিসেবা দেওয়া, ‘ই-টিচিং’ এবং ‘ই-লার্নিং’ এর মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নত করা, প্রকল্প শেষে শিক্ষা উপাদানগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা, এই প্রক্রিয়ায় রাজধানী ঢাকার শিক্ষকরা মহেশখালী দ্বীপের শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইংরেজি কোর্সে শিক্ষা প্রদান, স্থানীয় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কম্পিউটার দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কমিউনিটি ক্লাব, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কম্পিউটার এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩৮৮ দশমিক ৫০ বর্গ কিলোমিটারের এ দ্বীপ উপজেলার শিক্ষার হার ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ (বর্তমানে দেশে শিক্ষার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ)। এ উপজেলায় একটি পৌরসভা, ৮টি ইউনিয়ন ও ১৫১টি গ্রাম আছে। মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ২১৮ জন। ৫০ শয্যার হাসপাতাল একটি, সাইক্লোন শেল্টার ৯৪টি, মোট খাস লবণ জমি ৪৯৭ দশমিক ৭ একর, মোট কৃষি খাস জমি ১৩০২ দশমিক ৭৫ একর, অকৃষি খাস জমি ৩৩০৫ দশমিক ১০ একর।


আপনার মন্তব্য