শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৪

আহত কর্নেল তুহিন ও এসপি আবদুল আহাদের প্রতিক্রিয়া

স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা কিছুটা কমবে

আলী আজম

স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা কিছুটা কমবে

চাঞ্চল্যকর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওই ঘটনায় আহত কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ ও এসপি আবদুল আহাদ। তারা বলেছেন, রায়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। দ্রুত এ রায় কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করি। কোনো ধরনের ধর্মীয় উগ্রবাদ বাংলাদেশে যেন জন্ম না হয়। এ রায়ের ফলে স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা কিছুটা কমবে। জঙ্গিদের হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। পাশাপাশি তাদের দুজনের মতো যারা আহত হয়েছেন তারাও যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে পারেন সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

হোলি আর্টিজান বেকারি থেকে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেড হামলার শিকার হয়ে শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে এখনো যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তৎকালীন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (বর্তমানে বিজিবির রাজশাহী ক্যাম্পের সেক্টর কমান্ডার) কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ ও গুলশান জোনের এডিসি (বর্তমানে এসপি) আবদুল আহাদ। কর্নেল মাসুদ বলেন,  রাত সোয়া ৯টা। তখন তারাবির নামাজ পড়ছিলাম। এ সময় র‌্যাব ডিজির একটা কল রিসিভ করি। তিনি জানান, কোন রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে বিদেশিদের কেউ জিম্মি করেছে কিনা। আমি খবর নিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। দ্রুত হোলি আর্টিজান বেকারিতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আশপাশে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। তিনিও পাশের ভবনের ওপর থেকে দেখার চেষ্টা করলেন ভিতরে কী হচ্ছে। র‌্যাব সদস্যদেরও ভবনটি ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের (জঙ্গি) সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। তখন জঙ্গিরা একটি আইইডি দিয়ে হামলা করে। বিস্ফোরণের পর পরই দেখলাম আমার দুই পাশে দুজন পড়ে গেলেন। একজন এসি রবিউল ইসলাম এবং অপরজন ওসি সালাহউদ্দিন। কর্নেল মাসুদ বলেন, বিস্ফোরণের পর পরই সবাই পেছন দিকে সরে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসি রবিউল এবং ওসি সালাহউদ্দিন মারা যান। বিস্ফোরণে আরও প্রায় ২০ জনের মতো আহত হয়েছিল। মনে হলো আমার পায়ের মধ্যে গরম কিছু একটা আঘাত করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্লিডিং শুরু হলো। তখন বুঝতে পারলাম আমারও কিছু একটা ক্ষতি হয়েছে, ‘নিজের পায়ে নিজেই ব্যান্ডেজ করে নিই’। ওই সময়ে পুলিশের গুলশান জোনের দায়িত্বে থাকা এসপি আবদুল আহাদ সেই বীভৎসতার সাক্ষী হয়ে এখনো শরীরে স্পিøন্টার নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর
close