শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৭

চিরকুট ধরে তদন্ত শুরু

ড্রামে স্ত্রী ও স্বামীর ঝুলন্ত লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিরকুট ধরে তদন্ত শুরু

রাজধানীর ফকিরাপুলে উদ্ধার হওয়া স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তারা মনে করছে, স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বামী। তবে তাদের দুজনের বিয়ের বিষয়ে পরিবার কিছু না জানায় এ ঘটনার পেছনে অন্য কারও হাত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। এজন্য ঘটনাস্থলে পাওয়া চিরকুট ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ওই দম্পতির কললিস্টও চেক করা হচ্ছে। গতকাল তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে বুধবার রাতে ফকিরাপুলের কোমর গলির ৫৫ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় বাড়িটির কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মর্জিনার (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় শহিদুলের লাশ ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নেওয়া অবস্থায় ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। আর মর্জিনার লাশ পাওয়া যায় একটি ওল্টানো ড্রামের ভিতর। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। গতকাল এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের মতিঝিল জোনের এসি মো. জাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন শহিদ। এজন্য পারিবারিক কলহ, পূর্বশত্রুতা, আর্থিক কলহসহ বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত হচ্ছে। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসি মো. এনামুল হক মিঠু জানান, ‘ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি চিরকুটসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট। আশা করি খুব দ্রুতই এর রহস্য উন্মোচন সম্ভব হবে।’ ঘটনাস্থলে পাওয়া কয়েকটি চিরকুটে লেখা ছিল, ‘ড্রামে আমার স্ত্রীর লাশ, একসাথে আমাদের কবর হবে, আমাদের বিয়ে কেউ জানত না’, ইত্যাদি। মতিঝিল থানার এসআই সুজন চন্দ্র রায় বলেন, কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। জানা গেছে, তিন-চার মাস আগে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে বিয়ে করেন শহিদ ও মর্জিনা। এর পর থেকে ওই বাসাতেই থাকতেন এই দম্পতি।

 ওই ভবনের কর্মচারীরা জানান, যে ভবনটি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তার মালিক যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং পুরো ভবনটি প্রেসের কারখানা। মালিক বিদেশ থাকায় শহিদ কারখানাগুলো থেকে ভাড়া তুলে যুক্তরাষ্ট্রে তার মালিককে পাঠাতেন। বুধবার রাতে ট্যাংকিতে পানি না থাকায় কর্মচারীরা ছাদে গিয়ে কলাপসিবল গেট বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে শহিদের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। এরপর একটি ড্রামের ভিতর থেকে মর্জিনার লাশ উদ্ধার করে। ড্রামটির মুখ সিমেন্ট দিয়ে আটকানো ছিল। শহিদের গ্রামের বাড়ি সিলেট আর মর্জিনার চট্টগ্রামের রাউজানে। তিন দিন ধরে বাড়ির বাসিন্দারা কেয়ারটেকার শহিদকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তার ঘরও ছিল বন্ধ। পানি না থাকায় চিলেকোঠায় গিয়ে উৎকট গন্ধ পেয়ে তারা পুলিশ খবর দেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর