শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০২০ ২২:৪১

প্রধানমন্ত্রীর মহতী উদ্যোগের প্রেক্ষিতে একটি পরামর্শ

এম এ হাসেম

প্রধানমন্ত্রীর মহতী উদ্যোগের প্রেক্ষিতে একটি পরামর্শ

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রতিটি গৃহহীনকে ঘর দেওয়ার যে অঙ্গীকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করেছেন তাকে দেশের সবাই স্বাগত জানিয়েছে। গৃহহীনরা নিজঘরে বসবাসের যে স্বপ্ন দেখেন প্রধানমন্ত্রীর এই মহতী উদ্যোগ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। এক জরিপে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ঢাকা নগরীতে বিভিন্ন বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এমন পরিবারের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ হাজার। দেখা যায়, প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো বস্তিতে আগুন লেগে এই গরিব মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এমন অবস্থায় তাদের মাথা গোঁজার স্থায়ী ব্যবস্থার পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রতিটি পরিবারকে ৫০০ বর্গফুটের একটি করে ফ্ল্যাট করে দিলে প্রতি ফ্ল্যাটের পেছনে ব্যয় হবে ৮ লাখ টাকা। আমার পরামর্শ হলো, ঢাকার অদূরে ২৫ বিঘা জমিতে এদের জন্য ২৫ তলাবিশিষ্ট কয়েকটি ভবন করে দিয়ে বাসস্থান সমস্যার প্রতিকার সম্ভব। প্রতি ফ্ল্যাট ৮ লাখ টাকা হিসেবে ১০ হাজার ফ্ল্যাটের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ৮০০ কোটি টাকা। নগরীর কড়াইল বস্তি, মিরপুর বস্তি, কমলাপুর বস্তিসহ আনাচে-কানাচে ছোটখাটো সব বস্তির সবার একটি স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এতে করে আপনার প্রতিশ্রুতিরও বাস্তবায়ন হবে। ঢাকা নগরীতে যানজট, মাদকসেবী ও সমাজবিরোধীদের অপকর্ম যে হারে বাড়ছে তার পেছনে এসব বস্তির একটা প্রভাব আছে। বস্তিবাসীর জন্য স্থায়ী আবাসন হলে যানজট, মাদকসেবীদের অবাধ চলাফেরা ও অসামাজিক কার্যকলাপও বন্ধ হবে। নগরীর মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন থাকবে। এতে করে প্রধানমন্ত্রীর নিজের এবং তাঁর সরকারের সুনাম বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী, আপনি জনস্বার্থে দেশে অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। কিছু কিছু প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণের প্রকল্পটি আপনার জন্য তাৎপর্যময় একটি প্রকল্প। প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বিদেশি দাতা সংস্থা ও রাষ্ট্রগুলোর অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত আছে। যেমন সৌদি আরব, জাপান, মালয়েশিয়া, কাতার, দুবাই এরা। তা ছাড়া মানবিক কারণে আরও অনেক দেশ এগিয়ে আসবে। বিদেশি বহু কোম্পানি আছে যারা মানবতার খাতিরে সাহায্য হিসেবে আর্থিক অনুদান দেবে, তবে আমাদের পরিকল্পনার প্রতি সৎ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আপনি যদি আগ্রহী হন তাহলে চীনা ও জাপানিরা এক বছরের মধ্যে এ ধরনের বিরাট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দেবে। পরিশেষে আমি আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। লেখক : জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য


আপনার মন্তব্য