শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:১৯

দুই যুগ ধরে পরিত্যক্ত মিন্টো রোডের লাল বাড়ি

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

দুই যুগ ধরে পরিত্যক্ত মিন্টো রোডের লাল বাড়ি
মিন্টো রোডে পরিত্যক্ত অবস্থায় বাড়ি -রোহেত রাজীব

প্রায় দুই যুগ ধরে পরিত্যক্ত মিন্টো রোডের সেই ‘লাল বাড়ি’। বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন হিসেবে মন্ত্রিপাড়ায় ২৯ মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক লাল ভবনটি বরাদ্দ থাকলেও ২০০১ সালের পর থেকে আর কেউই এটি ব্যবহার না করায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় খালি পড়ে আছে। দশম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ওই সরকারের পুরো সময়টাতে এক দিনের জন্যেও বাড়িটিতে ওঠেননি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর কেটে গেছে আরও দেড় বছর। এবারও তিনি বাড়িটিতে থাকছেন না। গুলশানের ৬৭ নম্বর রোডের নিজ বাড়িতেই থাকছেন রওশন এরশাদ। তাই আপাতত ঐতিহাসিক লাল বাড়িটি ব্যবহারের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না কেউ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির প্রবেশমুখে ছোট্ট একটি গেট। চাইলে যে কেউ অনায়াসে আসা-যাওয়া করতে পারে। নেমপ্লেটের পরিবর্তে দেয়ালে লেখা ‘২৯’ সংখ্যাটি। বাড়িটির সামনের দিকটার খোলা জায়গায় বেশ কয়েকটি মেহগনি গাছ। ঘাস ও জঞ্জালগুলো বলে দিচ্ছে অনেক দিন কারও হাতের ছোঁয়া পড়েনি তাতে। লাল দালানটির লাল রং ফ্যাকাসে হয়ে গেছে অনেকটাই। কার্নিশের কোথাও কোথাও শ্যাওলা জমেছে। মরচে পড়েছে দরজা-জানালায়ও। বিশাল খোলামেলা জায়গায় দোতলা বাড়িটির সুনসান চেহারা দেখলেই গা শিউরে ওঠে। এমন ভুতুড়ে বাড়িতেই পরিণত হয়েছে মন্ত্রিপাড়ায় ২৯ মিন্টো রোডের ঐতিহাসিক ভবনটি। দেখে মনেই হয় না এটি কোনো ভিআইপির বাড়ি। আশপাশে জানাশোনা কাউকে জিজ্ঞাসা না করলে এটি বিরোধীদলীয় নেতার বাড়ি বলে বোঝার কোনো উপায় নেই। মনে হবে এটি একটি পরিত্যক্ত ‘ভূতের বাড়ি’। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মিন্টো রোডের এ বাড়িতে ওঠেন। টানা পাঁচ বছর সেখানে থাকেন তিনি। ১৯৯৬ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হলেও নিজে না থেকে এ বাড়িটিকে তিনি তার রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করেন। এরপর ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া থাকেন এরশাদের দেওয়া ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাড়িতে। আর বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা মিন্টো রোডের এ বাড়িতে না উঠে থাকেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সুধা সদনে। ক্ষমতার পালাবদলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া হন বিরোধীদলীয় নেতা। এরপর খালেদা জিয়া বাধ্য হয়ে ক্যান্টনমেন্টের সরকারি বাসভবন ছেড়ে ওঠেন প্রয়াত ছোটভাই সাঈদ এস্কান্দারের গুলশানের বাসায়। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই বাসার পরিবেশ ভালো নয়। তাই ওই বাসা তিনি ব্যবহার করছেন না। 

এদিকে বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা ২৯ মিন্টো রোডের বাড়িতে উঠবেন- এমন নির্দেশনা তাদের কাছে নেই। দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। অব্যবহৃত থাকায় বাড়ির ভিতরের পরিবেশ ভালো থাকার কথাও নয়। এখন শুধু তিনজন পাহারাদার দিয়ে বাড়িটি পাহারা দেওয়া হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, বাড়িটির ভিতরে ঢুকতেই হাতের ডান পাশে নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য ছোট্ট একটি পরিত্যক্ত বক্সরুম। অপরিচ্ছন্ন সেই বক্সরুম ময়লা-আবর্জনায় একাকার। সেই আবর্জনায় জন্মেছে ছোট ছোট গাছপালাও। বিশাল দোতলা বাড়ি। বাড়ির আঙিনা ও এর আশপাশে নোংরা পরিবেশ। কুকুরের অবাধ আনাগোনা। বাসভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত না হওয়ায় অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর