শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০২১ ২৩:২৩

শিল্পবর্জ্যে বংশীর সর্বনাশ

দূষিত ও কালো হয়ে গেছে পানি, বাতাসে দুর্গন্ধ

নাজমুল হুদা, সাভার

শিল্পবর্জ্যে বংশীর সর্বনাশ
সাভারে শিল্পবর্জ্যে নদীর বেহাল দশা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজধানীর অদূরে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদী ও কৃষি জমি। পানি ও বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। স্থানীয়রা বলছেন, শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি নদী ও খাল-বিলে ফেলার কারণে দূষিত ও কালো হয়ে গেছে এসব জলাশয়ের পানি। এতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। বিষাক্ত পানিতে অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সাভারের বংশী নদীর কূল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প কারখানা। এসব কারখানার অধিকাংশ কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার না করে বর্জ্যগুলো সরাসরি নদীতে ফেলছে। এর মধ্যে সাভারের কর্ণপাড়া এলাকার একটি শিল্প গ্রুপের তিনটি টেক্সটাইল মিল অন্যতম। কিছু কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার থাকলেও অতিরিক্ত খরচের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাদি জমি ও নদীর পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। নদীর দূষিত পানি দিয়ে সেচ দেওয়ায় নষ্ট হচ্ছে সবজি ও ধানের চারা। এলাকায় সেচ যোগ্য পানির সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মার্কেট ও বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে নদী দখল করছে প্রভাবশালীরা। প্রভাবশালীরা নদী দখল করে বাড়ি ও দোকান-পাট তৈরি করছে। এদিকে আশুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাল নয়নজুলি দখলদারদের কবলে পড়ে হারিয়েছে তার নাব্য। বর্তমানে খালটির নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় ইয়ারপুর ও আশুলিয়া ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০ গ্রামের মানুষ বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দী হয়ে পড়েন। খালটি দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য এলাকাবাসী মিটিং, মানববন্ধন করলেও কোনো ফল হয়নি।

নয়নজুলি খাল উদ্ধারের জন্য গঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রধান আলহাজ আবু শহীদ ভূঁইয়া বলেন, বর্ষায় জামগড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। সাভার-আশুলিয়ার বাইপাইলে নয়নজুলি খালে কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স বলেন, দ্রুতই এ খালের নাব্য ফিরিয়ে আনব এবং দখলবাজরা যতই শক্তিশালী হোক কেউ ছাড় পাবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে খালটি উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে। সাভার উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা বলেন, ‘সুতা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার বর্জ্যমিশ্রিত পানি শরীরে লাগলে চর্মরোগ এবং পান করলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা রোগ হয়।’ সাভার ও আশুলিয়ার গ্রামে ২০টি সুতা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা আছে। এর মধ্যে ইটিপি আছে মাত্র চারটিতে। ঢাকা অঞ্চল পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, নদী রক্ষা ও দূষণ বন্ধে অচিরেই অভিযান চালানো হবে। তবে অনেক সময় জনবল সংকট ও রাজনৈতিক জটিলতায় অভিযান চালাতে সমস্যা হয়। নয়নজুলি খালটি সরকারি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। এটি উদ্ধারের জন্য তিনি নির্দেশনা পেয়েছেন। খালটির দখলে রয়েছেন বড় বড় কারখানার মালিক ও রাজনৈতিক নেতারা। তারপরও উদ্ধারের জন্য শিগগিরই অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর