শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০২১ ২৩:৩৮

প্রকৃতি

মেহেরপুরে মাচা পদ্ধতিতে হলুদ জাতের তরমুজ চাষ

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরে মাচা পদ্ধতিতে হলুদ জাতের তরমুজ চাষ
Google News

মেহেরপুরে এই প্রথম মাচা পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন ‘তৃপ্তি’ জাতের হলুদ রঙের তরমুজ চাষে সফল হয়েছেন কৃষক জহিরুল ইসলাম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনও হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সদর উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের মাঠে জহিরুল ইসলাম তরমুজ চাষ করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়- মাচায় ঝুলছে তৃপ্তি (হাইব্রিড) জাতের হলুদ রঙের তরমুজ। দাবদাহের মধ্যে এখন তরমুজের ব্যাপক চাহিদার কারণে জমি থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দেশি তরমুজের চাষ মাটিতে করতে হলেও এ তরমুজ মাচায় চাষ করতে হয়। চাষি জহিরুল ইসলাম জানান, ঝুলে থাকার কারণে তরমুজের ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লতা থেকে তরমুজ ছিঁড়ে পড়ে যাবে। এ জন্য যখন তরমুজ আড়াই শ গ্রাম ওজনের হবে এ সময় থেকে প্রতিটি তরমুজ নেটের ব্যাগ দিয়ে মাচার সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। তরমুজ রোপণের পর ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। তিনি ২৫ কাঠা জমিতে এ তরমুজ চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। ২ লাখ টাকার বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন। নিরাপদ ফল উৎপাদন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার কারণে তৃপ্তি (হাইব্রিড) জাতের তরমুজ খেতে দারুণ সুস্বাদু। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকার কারণে ফলন হয়েছে ভালো। অসময়ের এ তরমুজের ব্যাপক চাহিদা বাজারে। জমি থেক প্রতি মণ তরমুজ ১৬০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা দরে ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নাসরিন পারভিন জানান, অসময়ে তরমুজের চাষ করে জহিরুল ইসলাম যে সাফল্য পেয়েছে আমরা এতে খুশি। সাধারণত তরমুজ বৃষ্টির মৌসুমের আগেই শেষ হয়ে যায়। ১ বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ সাত থেকে আটটি বেড তৈরি করা যাবে। চারা রোপণের মাত্র ৩০ দিনেই পুরো মাচায় গাছ উঠে যাবে এবং ফুল ও ফল ধরা শুরু হবে। বাকি ৩০ দিনের মধ্যে তরমুজ তোলার উপযুক্ত হয়ে যাবে। সকালবেলা স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী ফুলকে পুরুষ ফুল দিয়ে পরাগায়িত করে দিলে ফলন ভালো হয়। তবে জমিতে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। এ তরমুজ অক্টোবর মাসে চাষ করা লাভজনক। কারণ ডিসেম্বরে সাধারণত দেশি ফল তেমন পাওয়া যায় না। এ সময় বাজারজাত করতে পারলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর