বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

সারি সারি তাল গাছে শোভা

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

সারি সারি তাল গাছে শোভা

শোভা বাড়াচ্ছে সারি সারি তাল গাছ। নওগাঁর মহাদেবপুরের পল্লীতে ৩ কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ৫ হাজার তাল গাছ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পরিণত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক বিনোদন কেন্দ্রে। নির্মল বাতাস আর বিপুল এ তাল সাম্রাজ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন বিনোদনপ্রেমী মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, ৩০ বছর আগে রোপণ করা এসব তাল গাছ বজ্রপাত রোধেও রাখছে ব্যাপক ভূমিকা। এ তাল বাগান রক্ষাসহ অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের। শ্রাবণের ভরা মৌসুমে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠগুলো টইটম্বুর পানিতে। বিস্তৃত মাঠের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা সড়ক। আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামের সংযোগ সড়কটি স্বাধীনতার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তৈরি করেন। প্রথম দিকে সড়কটি গ্রামের মানুষের জন্য ছিল মেঠো পথ। তবে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় সম্প্রতি পাকা করা হয়েছে সড়কটি। নওগাঁর মহাদেবপুরের খাজুর ইউনিয়নের কয়ারপাড়ার ১২ কিলোমিটারের এ সংযোগ সড়কের ৩ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে সারি সারি তাল গাছ। এ তাল বাগান বিনোদন প্রিয় মানুষের কাছে এক ভিন্ন আমেজ তৈরি করেছে। সড়কের দুই পাশে নিবিড় তাল গাছগুলোকে সাদা চুনকাম করায় দূর  থেকে দেখলে ফুটে ওঠে গ্রামীণ আবহের এক অনন্য চিত্র। চারপাশে বিস্তৃত সবুজ মাঠের নির্মল পরিবেশ আর মুক্ত বাতাস এক ভিন্ন আবহের সৃষ্টি করেছে।

আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে গ্রামীণ এ মেঠো পথ নিয়ে স্বপ্ন বুনেছিলেন স্থানীয় কয়ারপাড়া গ্রামের বৃক্ষপ্রেমিক ক্ষিতীশ চন্দ্র। নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাল বীজ সংগ্রহ করে সড়কের দুই পাশে রোপণ করেন তিনি। সময়ের ব্যবধানে এসব তাল গাছ বজ্রপাত রোধে যেমন রাখছে অবদান, তেমনি সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে বিনোদন প্রিয় মানুষের কাছে। জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের এ তাল সাম্রাজ্য পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সড়কের দুই পাশের এ সৌন্দর্য আকৃষ্ট করছে দর্শনার্থীদের। প্রয়াত ক্ষিতীশের ছেলে তপন মন্ডল জানান, বাবা কোনো স্বার্থ নিয়ে এসব গাছ রোপণ করেননি। পরিবেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় রোপণ করেছিলেন। জীবিত অবস্থায় তার এ তাল বাগানের মূল্যায়ন করতে না পারলেও মহত এ কাজের জন্য স্বজন ও এলাকাবাসী গর্বিত।

স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষক আশরাফ আলী, বলরাম চন্দ্র বর্মণ জানান, জীবিত অবস্থায় আমরা ক্ষিতীশের মূল্যায়ন করতে পারিনি। কিন্তু আজ খুব ভালো লাগছে তার কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে দেখে। করোনা ও লকডাউনের মাঝেও সকাল-বিকাল দূর-দূরান্ত থেকে তাল বাগানের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ দেখতে আসছে নানা বয়সী মানুষ। নির্মল প্রকৃতির নির্যাস নিতে ক্ষণিক সময় পার করেন আগত দর্শনার্থীরা। তাল সাম্রাজ্যের এ সৌন্দর্য ধরে রাখতে বাড়তি কিছু অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি তাদের।

এই রকম আরও টপিক