শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২৩:৩৩

সাংবাদিক পরিচয়ে ব্ল্যাকমেলিং ওদের পেশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে ওরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্ল্যাকমেলিং করতেন। তাদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। মানসম্মানের ভয়ে অনেক মানুষ এসব কথিত সাংবাদিকের আবদার পূরণ করে আসছিল। তাদের দাপটে রীতিমতো কোণঠাসা উত্তরা-উত্তরখান এলাকার মানুষ। তবে এবার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে জিম্মি করে টাকা আদায় করতে গিয়ে মঙ্গলবার র‌্যাবের হাতে পাকড়াও হয়েছেন সাংবাদিক পরিচয়ধারী দুর্বৃত্ত মো. আমিরুল ইসলাম (৩৫) ও তার সহযোগী মো. ইকবাল হোসেন (৩১)। একই জালে আটকা পড়েছেন বহুল আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত সেই আসামি আবদুল মালেকও (৪৫)। র‌্যাব বলছে, তাদের কাছ থেকে ক্যামেরা ও বেসরকারি একটি টেলিভিশনের বুম, ৫ লাখ টাকা, তিনটি ১০০ টাকার স্ট্যাম্প, দুটি ব্যাংকের (৪৫ লাখ ও ৫০ লাখ টাকার) চেক জব্দ করা হয়। গতকাল বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ৩১ আগস্ট দুপুরে আবদুল মালেককে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছে একটি চক্র। এমন অভিযোগে র‌্যাব তাকে (ভিকটিম) উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। একই দিন বিকালে উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মালেককে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পরিকল্পনাকারী ইকবাল  হোসেন ও তার সহযোগী আমিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। কমান্ডার আল মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন তারা মালেককে ব্ল্যাকমেল করতে বেশ কয়েক দিন তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে মালেক উত্তরখানে তার আত্মীয়ের বাসায়  গেলে পরিকল্পনাকারীরা সেখানে যান। এ সময় তারা ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তার বিরুদ্ধে মিডিয়াতে হলমার্ক কেলেঙ্কারি বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলে হুমকি দেন। পরে মালেককে উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর স্বজনদের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করা কোটি টাকা, চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে আসতে বলা হয়। কমান্ডার মঈন আরও জানান, চক্রের সদস্যরা এলাকায় প্রাণের বাংলাদেশ, স্বাধীন সংবাদ, বিডব্লিউ নিউজ, প্রথম বেলা, ডেইলি নিউজসহ আরও কয়েকটি সংবাদপত্রের পরিচয় দিতেন। তারা রাজধানীর উত্তরা ও উত্তরখান এলাকায় এসব সংবাদপত্রের পরিচয় দিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অপরাধী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। কে এই মালেক? : আবদুল মালেক পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যাংকের ঋণ খেলাপি। এ ছাড়া হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই কেলেঙ্কারিতে সে সময় যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা হয়েছিল তার মধ্যে মালেকের প্রতিষ্ঠানটিও ছিল বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘হলমার্ক মামলার মালেক একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।’