শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ০০:০০

যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যা

টিপুকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

টিপুকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যা মামলার আসামি মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এর আগে টিপুকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় আসামির আইনজীবী গাজী জিল্লুর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আনোয়ার ছাদাত দুই আবেদন নাকচ করে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে টিপুকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মনসুর রিপন সাংবাদিকদের জানান, এ মামলার এজাহারভুক্ত ১০ নম্বর আসামি টিপু। এই আসামি ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী।

মামলার সাক্ষী মোরশেদুল আলম পলাশ, নিহত মিল্কীর স্ত্রী ফারহানা খানম শিপু, কায়সার জাহান ও মারুফ রেজা সাগরসহ অন্য সাক্ষীরা এ আসামির পরিকল্পনার কথা সুস্পষ্টভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া আসামি ফাহিমা ইসলাম লোপা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও আসামি টিপুর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারায় বর্ণিত যৌক্তিক কারণ থাকা সত্ত্বেও হাকিম তা আমলে না নিয়ে মনগড়া আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া শুনানি শেষ হওয়ার আগে হাকিম প্রকাশ্য আদালতে বলেছেন, আপনাদের উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করার মতোই আদেশ দেওয়া হবে, আপনারা শুনানি করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়াজুল হক খান মিল্কী এবং আসামি জাহিদ সিদ্দিক তারেক ওরফে কিলার তারেক একত্রে রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় রাজনীতি করতেন। এ কারণে এলাকার আধিপত্য বিস্তার, সাংগঠনিক পদ ও জমি-দখল, বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ ভাগ-বণ্টন নিয়ে তাদের মধ্যে চাপা বিরোধ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-১ এ শপার্স ওয়ার্ল্ড শপিং কমপ্লেঙ্রে সামনে মিল্কীকে আসামিরা হত্যা করে। মিল্কী হত্যার এ মর্মান্তিক দৃশ্য প্রত্যক্ষভাবে মার্কেটের ক্রেতা ও পথচারীরা দেখে। মিশন শেষ করে মোটরবাইকে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আসামিরা। পরে এ ঘটনার ১৪ সেকেন্ডের দৃশ্যটি ধরা পড়ে পার্শ্ববর্তী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। হত্যাকাণ্ডের পর পরই ভিডিও ফুটেজটি জব্দ করে র্যাব। এ ঘটনায় মিল্কীর ভাই মেজর রাশিদুল হক খান গুলশান থানায় মামলা করেন। এ মামলায় তারেকসহ ১১ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।


আপনার মন্তব্য