শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১২

চুড়িহাট্টায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চুড়িহাট্টায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি

এক বছর আগে রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে হতাহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাদের স্বজন ও কয়েকটি সামাজিক সংগঠন। একই সঙ্গে ফের এমন দুর্ঘটনা এড়াতে পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থের গুদাম সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ওয়াহেদ ম্যানশনে আগুনে ঘটনাস্থলে মারা যান ৬৭ জন। পরে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত হন আরও অনেকে। দুর্ঘটনার বছর পার হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহায়তা না মেলায় গতকাল ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে পাঁচটি সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ সকল সামাজিক সংগঠনের’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক ও নিহত দুজনের চাচা এম এ রহিম বলেন, চুড়িহাট্টা  ট্র্যাজেডির এক বছর পার হলেও হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নেওয়ার লোক পাইনি। পাইনি কোনো সরকারি সাহায্য। অসহায় আহতদের তাৎক্ষণিক যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, তারপর আর সরকারি সহায়তায় কোনো চিকিৎসা হয়নি। পরিবারগুলো দিন দিন ভিটাবাড়ি বিক্রি করে নিঃস্ব। আর্থিকসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আগের দিন মেয়র সাঈদ খোকন নিহতদের ৩১ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মেয়রের এই আশ্বাসে বিশ্বাস করছি। কিন্তু অন্যান্য পরিবারের সহায়তা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা এখনো হয়নি। বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতি নিহতদের পরিবারগুলোকে ৫০ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করেছে।

অগ্নিকান্ডে নিহত মো. জুম্মনের ছেলে ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী মো. আসিফ বলেন, আমি বাবা হারিয়েছি।  যে কারণে আমার বাবাসহ অন্যরা মারা গেছেন, সেই কেমিক্যালের  কোনো মজুদ এখানে যাতে রাখা না হয় সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। নিহত মাসুদ রানা ও মাহবুবুর রহমানের পিতা সাহেব উল্লাহ পুরান ঢাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল দ্রুত সরানোর দাবি জানিয়ে বলেন, আগুনে ছেলেদের হারিয়েছি। ব্যবসা হারিয়েছি। পরিবার নিয়ে চরম অসহায়ভাবে দিনাতিপাত করছি। একটি বছর হয়ে গেছে, কেউ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। সংবাদ সম্মেলনের পর হতাহতের স্বজনসহ অন্যরা ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে একটি মানববন্ধন করেন।


আপনার মন্তব্য