শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:২৩

কারাবন্দীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিলেন কারারক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বন্দী থাকার সুযোগকে ব্যবহার করে মোহাম্মদ আকাশ নামে এক কারাবন্দীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি আকাশের সঙ্গে দেখা করতে আসা তার স্ত্রী পারভিন আক্তারের সঙ্গে ভাব জমিয়ে এ কা- করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। জানা গেছে, কারারক্ষী মামুন হোসেন ৫ বছর ধরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত রয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ এলাকার বাসিন্দা। বিবাহিত ওই কারারক্ষী কারাগারের ব্যারাকে একাই থাকেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী বন্দী মোহাম্মদ আকাশ রাজশাহী নগরীর ষষ্ঠীতলা এলাকার বাসিন্দা। তার আট বছর বয়সী এক ছেলেসন্তানও আছে। তার স্ত্রী পারভিন আক্তার (২৮) চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকার রহমতপাড়া মহল্লার নাসির উদ্দিনের মেয়ে। ১৪ বছর আগে আকাশের সঙ্গে পরিবারের সম্মতিতে পারভিনের বিয়ে হয়েছিল।

ঘটনার ব্যাপারে পারভিন আক্তারের বড় বোন শিরিন আক্তার জানান, আকাশ জেলে যাওয়ার পর ওই কারারক্ষীর সঙ্গে পারভিনের মোবাইলে যোগাযোগ হয়। এরপর তারা পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। গত কোরবানির ঈদের তিন দিন আগে ওই কারারক্ষীর সঙ্গে পারভিন নিরুদ্দেশ হন। তিনি বলেন, ‘আমরা ধরেই নিয়েছিলাম পারভিন স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে। কিন্তু পরে ফোন করে আমাদের জানিয়েছে, ওই ছেলে (কারারক্ষী) তাকে জিম্মি করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে। তাকে বিয়ে না করেই স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করছে।’ শিরিন জানান, এমন তথ্য পেয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একই ভাষ্য পারভিনের স্বামী আকাশেরও। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন ওই কারারক্ষী। তিনি বলেন, তিনি নগরীর নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাথে দোকান করেন। সেই দোকানে মাদক রেখে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তিনি দোকান বন্ধ রেখে আত্মগোপন করেছেন। এ ঘটনার প্রতিকার ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন ভুক্তভোগী আকাশ।

এদিকে ওই নারীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন কারারক্ষী মামুন হোসেন। তিনি দাবি করেন, ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই। তিনি বিবাহিত। তার সংসার আছে। ওই নারীকে স্বামীর কাছ থেকে ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন কারারক্ষী মামুন হোসেন।


আপনার মন্তব্য