শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০২১ ০১:৪৯

এনু-রুপনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু এবং রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ৮৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগে দুটি চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্যাসিনোকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন পুরান ঢাকার আলোচিত দুই ভাই ও বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা এনু-রুপন।

গতকাল দুদক প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। দুদক সূত্র জানায়, ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত মেসার্স এনু-রুপন হাউসের প্রোপাইটার এনামুল হক এনু। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৪৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৮ টাকা ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৬ হাজার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। কমিশন এনুর সঙ্গে চার্জশিটে অন্যতম সহযোগী হারুনুর রশিদ ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে আজাদ রহমানের নাম উল্লেখ করে।

বলা হয় আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে বর্ণিত সম্পদের মধ্যে যথাক্রমে ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনে এনামুল হক এনুকে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেন। যার কারণে এই চার্জশিটে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। অপর মামলার চার্জশিটে বলা হয়, এনামুল হক ভূঁইয়া এনু ও রুপন ভূঁইয়ার অর্জিত সম্পদের অবস্থান, মালিকানা নিয়ন্ত্রণ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে স্থানান্তর রূপান্তর হস্তান্তর পূর্বক অর্থ পাচার আইনে অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারার কমিশন চার্জশিটের অনুমোদন দেয়। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ১৮ সেপ্টেম্বর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অভিযানে গিয়ে জুয়া খেলার উপকরণ ও মদ উদ্ধারের ঘটনায় দুই ভাই এনু-রুপনের সম্পৃক্ততা পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর ওই বছরই ২৪ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় এনু ও রুপনের বাড়িতে এবং পরে তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে ৫টি সিন্দুক জব্দ করা হয়। এসব সিন্দুকে প্রায় ৫ কোটি টাকা, ৮ কেজি সোনা এবং ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ওই মামলার পর গত বছরের ১৩ জানুয়ারি ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা সংক্রান্ত মামলায় পলাতক দুই সহোদর এনামুল হক এনু এবং রুপন ভূঁইয়াকে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ওই সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করা হয়। গ্রেফতারের পর গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার লালমোহন স্ট্রিটের ১১৯/১ হোল্ডিংয়ে মমতাজ ভিলায় অভিযান চালিয়ে আরও ৫টি সিন্দুকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখেরও বেশি টাকা, ১ কেজি সোনা ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করে র‌্যাব।

জানা গেছে, অভিযানের প্রথমদিকে র‌্যাবের কাছে দুই ভাইয়ের মালিকানায় ১৫টি বাড়ির তথ্য থাকলেও গ্রেফতারের পর সিআইডি জানায়, বাড়ির সংখ্যা ২২। আর রিমান্ড শেষে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে ১২০টি বাড়ি থাকার তথ্য দিয়েছে। গ্রেফতারের পর এ দুই ভাইয়ের বিরদ্ধে র‌্যাব ও সিআইডি একাধিক মামলা করে। সেগুলো পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।