শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:২০

অর্জন

ব্রিটিশ বাংলাদেশি আমালের চমক

চ্যানেল ফোরের জুনিয়র বেইক অফ এর ফাইনালিস্ট

আ স ম মাসুম, যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ বাংলাদেশি আমালের চমক

রবিবার, লন্ডনে ছুটির দিন। ইস্ট লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে পেন্সিল ইউকে নামের একটি সামাজিক সংগঠনের ইভেন্টে ১৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আমালের স্টলে অনেক ভিড়! কিশোরী আমাল নিজের হাতে বানিয়ে এনেছে কুকিজ, কাপ কেকসহ নানান মজাদার খাবার। সেই খাবার মানুষজন ভিড় করে কিনছেন! আমাল খাবার বিক্রি করে যে টাকা পাবে সেটা তার নিজ জেলা মুন্সীগঞ্জে তারই বয়সী দুটি মেয়ের শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায়!

আমালের গল্পটি আরেকটু পেছন থেকে বলা যাক। আমাল ছোট বয়সেই তারকা রন্ধনশিল্পী। লন্ডনের দূরদূরান্ত থেকে বাচ্চারা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে আসে আমালকে দেখতে আর ছবি তুলতে।

ছোট্ট আমাল স্বাচ্ছন্দ্যে ছবিও তোলে তাদের সঙ্গে। একই সঙ্গে তার বানানো কেকও তুলে দেয় বাচ্চাদের হাতে। চ্যানেল ফোর আয়োজিত যুক্তরাজ্যের বহুল জনপ্রিয় এবং বাচ্চাদের পছন্দের বেকিং অনুষ্ঠান জুনিয়র বেইক অফ-২০১৯ এ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বেইকিং তারকা বনে যায় বাংলাদেশি মেয়ে আমাল। প্রায় চার হাজার জুনিয়র বেকিং শিল্পীকে পেছনে ফেলে আমাল প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হিসেবে জুনিয়র বেইক অফ-২০১৯ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। আর তার রন্ধনশিল্পের জাদুতে জায়গা করে নেয় টপ ফোরে, গ্র্যান্ড ফাইনালে।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত রাহনুমা তাবাসসুম এবং আবু রানার একমাত্র মেয়ে আমাল। আমালের মা রাহনুমা তাবাসসুম জানান,  সাত বছর থেকেই কেক বানানোর শখ আমালের। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে নতুন নতুন কেক বানাত সে। আমাল নিজের চেষ্টায় যা করছে তাই আমাদের আনন্দ। আমাল জানায়, ছোটবেলা থেকেই কেক খেতে আর বানাতে পছন্দ করি আমি। ইউটিউব দেখে, বিভিন্ন রান্নার বই পড়ে প্রথমে কেক বানাতাম। পরে নিজে নিজে ফিউশন করে নিজের মতো করে কেক বানিয়েছি।

জুনিয়র বেইক অফে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আমাল আরও বলে, সিনিয়র বেইক অফে কয়েক বছর আগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রিটিশ বাংলাদেশি নাদিয়া। মূলত ওখান থেকেই এই অনুষ্ঠানে আসার উৎসাহ পাই। তারপর কয়েক বছর ধরে নিজেকে তৈরি করি। মূলত যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে চার হাজার  বেইক শিল্পী যাদের বয়স নয় থেকে পনেরো বছর তারা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছিল। তারপর তাদের মধ্য থেকে দুই হাজার প্রতিযোগীকে বাছাই করা হয়। আর তাদের নিয়েই অনুষ্ঠিত হয় কঠিন সব প্রতিযোগিতা। সব শেষে চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাছাই করা হয় এ দেশের সেরা চার প্রতিযোগীকে। যাদের মধ্যে ছিল আমাল।

আমাল জানায়, মূলত এক বান্ধবীর আগ্রহেই প্রতিযোগিতায় নাম দেয় সে। নিজের এই প্রতিভা সম্পর্কে আমাল বলে, অনেকেরই তো অনেক কিছু করতে ইচ্ছা করে। আমার রান্না করতে ভালো লাগে। শুধু কেক না। সব ধরনের খাবারই রান্না করতে ভালো লাগে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি বিভিন্ন ধরনের রান্না শেখার ইচ্ছাও পোষণ করে আমাল।


আপনার মন্তব্য