শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:২৭

অনুপ্রেরণীয়

পাহাড়ে আলো ছড়াচ্ছে বোতল বাতি

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

পাহাড়ে আলো ছড়াচ্ছে বোতল বাতি

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের দুর্গম পাহাড়ি ত্রিপুরা পল্লী। জেলার অনুন্নত এলাকার একটি এ ত্রিপুরা পল্লী। সভ্য সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন এ পাহাড়ি এলাকায় একসময় রাতের আঁধার কাটাতে কুপি বাতির ওপর নির্ভর করতে হতো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। দুর্গম সেই এলাকায় এখন রাতের আঁধার কাটাতে কেরোসিনের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘বোতল বাতি’। চট্টগ্রামের গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘লিটার অব লাইট বাংলাদেশ’ উদ্ভাবিত এ বাতি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। পরিবেশবান্ধব এ উদ্ভাবন এরই মধ্যে আলোকিত করছে দুর্গম পাহাড়ি উপকূলীয় এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল, দ্বীপ, বস্তি এলাকা। বাদ যায়নি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিবিরও।

তরুণ গবেষক ও বোতল বাতির অন্যতম উদ্ভাবক সানজিদুল আলম সিবান শান বলেন, ‘দুর্গম এলাকা আলোকিত করতে বোতল বাতির বিষয়টা মাথায় আসে। বোতল বাতি ব্যবহার একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে অল্প টাকায় যে কেউ তা ব্যবহার করতে পারে।  এ ছাড়া এ উদ্ভাবন নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্র তরুণদের স্বাবলম্বী করে তোলাও হয়। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প পরিচালনা করা হয়। যেখানে প্রতি ব্যাচে ২০-২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীকে লাইট বানানো  শেখানো হয়। এরপর তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা কীভাবে করবে তা শেখানো হয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে তাদের ব্যবসা করার জন্য মূলধনও দেওয়া হয়। এভাবে কিছু স্বল্পশিক্ষিত তরুণ-তরুণীকে সোলার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তৈরি করা হয়, যারা ব্যবসা করে নিজেরাই স্বাবলম্বী হবে।’

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় আলোকিত করতে পরিবেশবান্ধব ‘বোতল বাতি’ উদ্ভাবন করে লিটার অব লাইট বাংলাদেশ টিম। মূলত দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে তারা এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে। বিনা মূল্যে হাজার হাজার মানুষের ঘর আলোকিত করছে। বোতল বাতি হচ্ছে ছোট সোলার চার্জার এবং ব্যাটারিসমৃদ্ধ একটি লাইট। লাইটের ক্যাসিং  তৈরি হয় পিভিসি পাইপ এবং পিভিসি ক্যাপ দিয়ে। ভিতরে থাকে একটি রিচার্জবেল ব্যাটারি, একটি চার্জিং সার্কিট, একটি পুশ সুইচ, একটি চার্জিং সকেট। আলোর জন্য এটিতে আছে একটি এলইডি টিউব এবং এ লাইটকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আবরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় একটি এক লিটারের স্বচ্ছ বোতল। ল্যাম্পটি চার্জ করার জন্য সোলার প্যানেলটি রোদে রেখে এর সঙ্গে থাকা তারের কর্ডটি লাইটের সকেটে লাগাতে হয়। যে কোনো ফেলনা জিনিস দিয়েই এ বাতি তৈরি করা সম্ভব। তাছাড়া সরকারের স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, পুনরায় ব্যবহার করা এবং রিসাইকেল করার নিয়ম আছে। কারণ প্লাস্টিক পরিবেশের অকল্পনীয় ক্ষতি করছে। এ জন্যই উদ্যোগের মাধ্যমে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল পুনরায় ব্যবহার করতে উদ্বুুদ্ধ করা হয়। এ লাইটগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি করার ফলে যে কোনো লাইটের চেয়ে সস্তা, সহজলভ্য এবং সহজে মেরামত করা যায়। বোতল বাতি দুর্গম ও দরিদ্র এলাকায় বিনা মূল্যে পৌঁছে দিতে লিটার অব লাইটের ‘লাইট গিভার’ নামে একটি প্রকল্প। দেশের বিদ্যুৎহীন একটি অঞ্চল নির্বাচন করে লিটার অব লাইটের পুরো টিম এবং স্বেচ্ছাসেবীরা সেখানে গিয়ে ল্যাম্পগুলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের বিনা মূল্যে বিতরণ করে। স্ট্রিট লাইটগুলো উঠোনে বা রাস্তায় স্থাপন করে আসে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসেই কোনো না কোনো এলাকা আলোকিত করা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য