Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:১৮

গোলরক্ষকের ভুলে বিদায়

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

গোলরক্ষকের ভুলে বিদায়
আক্রমণের পর আক্রমণ। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। বাহরাইনের কাছে ১-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে জাতীয় দল —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যর্থতা ছাপিয়ে হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন মামুনুলরা, কাল সেই স্বপ্নকে চুরমার করে দিলেন ইব্রাহিম আল হুতিরা। মামুনুলদের এমন দৃষ্টিকটূ পারফরম্যান্সে শুধু স্বপ্নই ভঙ্গ হয়নি,  বাংলাদেশের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়েও জন্ম নিয়েছে প্রশ্নের। ব্যর্থতার গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেতে খেতেও গত আসরে ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। এবার থমকে দাঁড়িয়েছে সেমিফাইনালে। বাংলাদেশের ব্যর্থতার দিনে ১-০ গোলে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ঠাঁই করে নিল মধ্যপ্রাচ্যের দল বাহরাইন। আগামী ২২ জানুয়ারি দলটি ফাইনাল খেলবে নেপাল-মালদ্বীপের বিজয়ী দলের বিপক্ষে।

দিন তিনেক আগে অনৈতিক কাজে সম্পৃৃক্ততা পাওয়ায় জাহিদ হোসেনকে দলের সঙ্গে মাঠে আনেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। হোটেলবন্দী করে খেলতে আসে। জাহিদকে হারানোয় অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে মধ্যমাঠ। দুর্বল, ক্ষয়িঞ্চু মধ্যমাঠ নিয়ে কাল খেলতে নামেন মারুফুলের শিষ্যরা। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা পায় নিয়মিত গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার ইনজুরি। তার অনুপস্থিতে গোলবার আগলানোর দায়িত্ব বর্তায় শহিদুল ইসলামের উপর। দায়িত্ব নিয়েই ‘ভিলেন’ বনে যান দীর্ঘকায় গোলরক্ষক শহিদুল। তার ব্যর্থতায় কাল স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে যে গোলটি খায় বাংলাদেশ, তাতে শহিদুলের প্রতিভা নিয়ে জন্ম নিয়েছে প্রশ্নের। এমন মানের গোলরক্ষক কীভাবে জাতীয় দলে খেলেন, এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে কোচকে।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কাল ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নামে মামুনুল বাহিনী। অবশ্য প্রথম মিনিটেই চাপে পড়ে। ডি বক্সের মাথায় পাওয়া ফ্রি কিক কাজে লাগাতে পারেননি নাফসার আল কাসমি। এরপর আরও কিছুসময় আক্রমণ শানায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। খেলার ১০ মিনিট পার হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। মধ্যমাঠ থেকে হেমন্ত ভিনসেন্ট, মোনায়েম খান রাজু, মিঠুন, মামুনুলরা ছোট ছোট পাসে ওয়াল ফুটবল খেলে বিধ্বস্ত করতে থাকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে। ২৪ মিনিটে সুযোগও তৈরি করে মামুনুল বাহিনী। কিন্তু হেমন্তের বাড়ানো বল কাজে লাগাতে পারেননি শাখাওয়াত রনি কিংবা মিঠুন। ৩৪ মিনিট আবারও সুযোগ তৈরি করে মারুফের শিষ্যরা। কিন্তু এবারও ব্যর্থ। দুই দুটি শানানো আক্রমণের পর হঠাৎ খেই হারিয়ে ফেলেন মামুনুলরা। ওই ট্রাকশূন্য হয়ে গোল খেয়ে যায় বাংলাদেশ। অতিরিক্ত সময়ে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করে বাহরাইন। ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা সোয়ার্ভিং বল ধরতে গোলবার থেকে বেরিয়ে আসেন শহিদুল। বেরিয়ে আসায় বলের লাইন বুঝতে ব্যর্থ হয়ে শেষ মুহূর্তে পাঞ্চ করেন। বল চলে আসে ডি-বক্সে ফাঁকায় দাঁড়ানো ইব্রাহিম আল হুতির কাছে। ইব্রাহিম সময় ক্ষেপণ না করে হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে (১-০)। গোলরক্ষকের ভুলে গোলটি হজম করতে হয় বাংলাদেশকে।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি বদল আনেন মারুফ। মামুনুলের জায়গায় সোহেল রানা এবং মিঠুনের বদলে নামানো হয় তপু বর্মণকে। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। সমতা ফিরেনি ম্যাচে। বিদায়ের ম্যাচে কাল অবশ্য দুর্ভাগ্যও সঙ্গী ছিল বাংলাদেশের। ৫২ মিনিটে মিঠুনের বাঁ পায়ের ক্রসে সামনে ঝাঁপিয়ে হেড করেন শাখাওয়াত রনি। গোলরক্ষক মাহবুব আলদোসারীকে পরাস্ত করলেও সাইড বারে লেগে ফিরে আসে।

ফলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। চার মিনিট পর মামুনুলের ক্রসে আবার হেড করেন রনি। কিন্তু এবারও বল তার শেষ ঠিকানা খুঁজে পায়নি। ফলে আর গোলের দেখা পায়নি। হেরেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেন মামুনুল, মারুফরা। বিদায় নিল বাংলাদেশ। আর এতে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না ফুটবলাররা।


আপনার মন্তব্য