Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৭

সেই নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডে

মেজবাহ্-উল-হক

সেই নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডে
নেপিয়ারে বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটার নাঈম হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার ও মেহেদি হাসান মিরাজ -ইনস্টাগ্রাম

নেপিয়ারের ম্যাকলায়েন পার্কে মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশ দলের। একটি ২০০৭ সালে আরেকটি ২০১০ সালে। দুই ম্যাচের ভরাডুবি। প্রথমটিতে হার ১০২ (ডার্কওয়াথ/লুইস পদ্ধতি), দ্বিতীয়টিতে ব্যবধান ছিল ১৪৬ রানের। হক’স উপসাগরের কোলে নিউজিল্যান্ডের ৫৪ বর্গমাইলের ছোট্ট শহর নেপিয়ারে দুই ম্যাচের দুঃস্মৃতির কথা মাথায় রেখেই আগামীকাল প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য উপমহাদেশের দলগুলোর কাছে ছিল ‘বদ্ধভূমি’! তবে ভারতীয় দল ব্লাক ক্যাপসদের ঘরে গিয়ে তাদেরকে সিরিজে হারিয়ে যেন বাংলাদেশের সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও টাইগাররা সব শেষ সফরেও ওয়ানডে সিরিজে কিউইদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। তবে এবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ওয়ানডে মিশনে নামছেন টাইগাররা।

দুই ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দুটি ছিল ৩৩৫ ও ৩৩৬ রান। আর বাংলাদেশ করেছিল ১৮১ ও ১৯০ রান। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে নেপিয়ারে কতটা অসহায় ছিলেন টাইগাররা।

 তবে এটাও ঠিক যে, ২০০৭ ও ২০১০-এ বাংলাদেশ দলের ‘অঘোষিত’ লক্ষ্যই ছিল যেন সম্মানজনক হার! আর এবার নিউজিল্যান্ডে অন্য বাংলাদেশ! যে দলটির ক্রিকেটারদের মনে জয়ের তীব্র আকাক্সক্ষা। তা ছাড়া এবার নিউজিল্যান্ডে মাশরাফিরা পা রেখেছেন বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে! ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে অনেকটা মিল আছে নিউজিল্যান্ডের। সে কারণে এই সফরকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সফর হিসেবে ধরে নিয়েছেন মাশরাফিরা। নেপিয়ারের দুই ম্যাচেই খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের এই দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের। একটি করে ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি, মাহমুদুল্লাহ ও শফিউল।

মি. ডিপেন্ডেবলের নেপিয়ার অভিজ্ঞতা মোটেও সুখের নয়। দুই ম্যাচ মিলে তিনি রান করেছিলেন মাত্র ১২। যদিও এক ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন। তবে দারুণ ব্যাটিং করেছিলেন তামিম। প্রথম ম্যাচে ৪৩ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৬৩ রান। ড্যাসিং ওপেনার এবার নিউজিল্যান্ডে গেছেন দুর্দান্ত ফর্ম সঙ্গে নিয়ে। বিপিএলের ফাইনালে ১৪১ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের পর কাল নেপিয়ারে খেলতে নামবেন। সুখস্মৃতিই তামিমকে আরও ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

ম্যাকলায়েন পার্কে সুখের স্মৃতি আছে পেসার শফিউলেরও। তিনি যে একটি ম্যাচ খেলেছেন, ৪ উইকেট শিকার করেছিলেন। তবে অনেক বেশি রান দিতে হয়েছিল তাকে। এছাড়া মাশরাফি ও মাহমুদুল্লাহ ভালো করতে পারেননি। সেই সময়ের তরুণ মাশরাফি, তামিম, মুশফিক, মাহদুল্লাহ এখন দলের সিনিয়র। ভরসার প্রতীকও বটে।

তবে বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে, নেপিয়ারের দুই ম্যাচের খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাকিব আল হাসানকে না পাওয়া! হাতের ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ড সফর মিস করছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তবে সাকিব না থাকলেও এবারের দলটি অনেক ভারসাম্যপূর্ণ। বোলিং আক্রমণে মাশরাফির সঙ্গে থাকছেন মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। রয়েছেন শফিউল ও নবাগত ইবাদতও। তাসকিনের ইনজুরির কারণে পরে দলভুক্ত করা হয়েছেন এই দুই পেসারকে।

বাংলাদেশের ভরসার জায়গা হচ্ছে ব্যাটিং লাইনআপ। তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে সৌম্য-মিথুন-লিটনরা। হার্ডহিটিং ব্যাটিংয়ের কথা চিন্তা করে সাব্বির রহমানকেও নেওয়া হয়েছে। বিপিএলে সৌম্য ছাড়া বাকিরা সবাই রানও পেয়েছেন। তাই ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে সন্তুষ্টই থাকার কথা কোচ স্টিভ রোডসের।

নেপিয়ারের ম্যাচগুলো সাধারণত হাই স্কোরিং হয়! এই মাঠে সর্বোচ্চ দুটি স্কোরই (৩৭৩ ও ৩৬৯ রান) নিউজিল্যান্ডের।

এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর কিউই ব্যাটসম্যান রস টেলর। এই ব্লাক ক্যাপস তারকার তিনটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি আছে। ৯৩.১৪ গড়ে করেছেন ৭৩৪ রান। মার্টিন গাপটিল ও কেন উইলিয়ামসনেরও বেশ পছন্দের। তাই এই তিন কিউই ব্যাটসম্যানের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে মাশরাফিদের।

নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পর টাইগাররা একটি প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন। হারতে হয়েছে। যদিও প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়নি বাংলাদেশ দল। কম সময়ে কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও কঠিন। তবে বিপিএলের কারণে খেলার মধ্যেই ছিল টাইগাররা। যদিও টি-২০ ফরম্যাট থেকে খেলতে হবে ওয়ানডে। কিন্তু নেপিয়ারের যে রান-বন্যার উইকেট, হয়তো টি-২০র ম্যাচ প্রাকটিসই তামিমদের জন্য শাপেবর হতে পারে!

 

 


আপনার মন্তব্য