প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ আগস্ট, ২০২১ ২৩:২৪

লাল কার্ড নয় ম্যাজিক কার্ড

রেফারির কাণ্ডে বিস্ময়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

লাল কার্ড নয় ম্যাজিক কার্ড
Google News

এএফসি কাপে মোহনবাগানের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বসুন্ধরা কিংসের বিরতিতে যাওয়া যখন নিশ্চিত তখনি ওমানের ফিফা ব্যাজধারী রেফারি কাশেম মাতার আল হাতমি রীতিমতো যেন ম্যাজিক প্রদর্শন করেন। বল নিয়ন্ত্রণে আনতে বসুন্ধরা কিংসের সুশান্ত ত্রিপুরা ও মোহনবাগানের সুবাশিষ লাফিয়ে ওঠেন। দুজনায় শরীর ঠিক রাখতে না পেরে মাটিতে পড়ে যান। তাতে কারোর ফাউল হওয়ার কথা নয়। সেখানে কিনা রেফারি সুশান্তকে লাল কার্ড দেখাল। ১ গোলে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে ঠিকই। কিন্তু ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়। যা মোহনবাগানকে বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। গোল শোধ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় তারা।

ম্যাচ ড্র হতেই পারে। কিন্তু বিতর্কটা সুশান্তকে লাল কার্ড দেখানো নিয়ে। সত্যিই কি তিনি প্রতিপক্ষের সুবাশিষকে এমন মারাত্মক ফাউল করলেন যা লাল কার্ড পাওয়ার যোগ্য? বিতর্ক উঠেছে রেফারি বসুন্ধরাকে দুর্বল করতে এমন পথ বেছে নিয়েছেন।

এ নিয়ে কথা হয় সাবেক ফুটবলার, কোচ ও বিশ্লেষক গোলাম সারোয়ার টিপুর সঙ্গে। তিনি বলেন, টিভিতে ম্যাচটি দেখি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে ওমানের  রেফারি যখন পকেট থেকে লাল কার্ড বের করে শো করলেন তখন মনে হচ্ছিল উনি মোহনবাগানের সুবাশিষকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন। যখন সুশান্তের নাম শুনলাম আমিতো অবাক। ওতো কোনো ফাউলই করেনি, সেখানে লাল কার্ড দেখে কীভাবে? যদিও সুবাশিষের শরীরে পড়ে যায় তাতো ব্যালেন্স না রাখার কারণে। সেখানেতো হলুদ কার্ডও হয় না। যাক ফিফা বলে দিয়েছে রেফারির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আমারতো আর বহিষ্কারে ভয় নেই। তাই সত্যিই বলছি এটাকে আমি লাল কার্ড নয়। বলব রেফারির ম্যাজিক কার্ড। তারই জাদুতে মোহনবাগান বেঁচে গেল। রবসনকে মুখে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল তা কি লাল কার্ড হয় না? আমি বলব বিষয়টি ফিফা বা এএফসির তদন্ত করা উচিত। রেফারির পক্ষপাতিত্বের কারণে কারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে তাতো মানা যায় না। বসুন্ধরাকে ধন্যবাদ জানাই পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলার জন্য।

সাবেক ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, সোজা কথা বলব সুশান্ত কোনোভাবেই লালকার্ড পায় না। আসলে ওতো কোনো ফাউলই করেনি। এখানেতো হলুদ কার্ডও দেখার কথা নয়। দুজনায় ব্যালেন্স রাখতে পারেনি। তা কি সুশান্তের অপরাধ। এখন যদি বলি বিশেষ কোনো সুবিধা পেতে রেফারি এ কাজ করেছেন। তা কি বাড়িয়ে বলা হবে। ভুল হতেই পারে। কিন্তু রেফারি হাতমি যা করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। হয়তো তিনি শাস্তি পাবেন তাতে কী, বসুন্ধরার  স্বপ্নতো শেষ হয়ে গেল। সাবেক ফিফা ব্যাজধারী রেফারি মনসুর আজাদ বলেন, বার বার আমি শ্লো মোশনে দেখেছি, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি সুশান্তকে লাল কার্ড দেখানোটা অন্যায় হয়েছে। এএফসির তা তদন্ত করা উচিত। একটা ভুলের জন্য দলের স্বপ্ন ভেঙে যাবে তা মানা যায় না।