শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

স্বপ্ন আছে সারথি নেই

স্বপ্ন আছে সারথি নেই

আফিফ হোসেনের রান আউটের পর হতাশায় মাঠে বসে পড়েছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মূলত তারই ভুলে আফিফ সাজঘরে ফেরত গেছেন -এএফপি

‘গর্জে ওঠো বাংলাদেশ’ লেখা প্লাকার্ড হাতে ছোট্ট ছেলেটি প্রেস বক্সের ডান পাশের গ্যালারিতে প্রখর রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল। ম্যাচ শুরুর আগে সে কী উচ্ছ্বাস! খেলা শেষ হওয়ার পর ছেলেটিকে আর দেখা গেল না। কিন্তু প্লাকার্ড সেখানেই পড়ে রইল!

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় দেখার জন্য কতটা আশা নিয়েই না কাল শত শত মাইল মরুপথ পাড়ি দিয়ে খেলা দেখতে এসেছিলেন দর্শকরা। কিন্তু জয় তো দূরের কথা, বাংলাদেশ কাল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্ধন্ধিতাই গড়ে তুলতে পারল না। বাংলাদেশের দেওয়া ১২৫ রানের সহজ টার্গেটে ইংলিশরা পৌঁছে গেল ৩৫ বল হাতে রেখেই। টানা দুই হারে যেন ‘কার্যত’ বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল!

বাংলাদেশ দলের অবস্থা অনেকটা এমন ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেব কোথা’! প্রথমে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক ভুল শট করে ১২৪ রানেই আটকে যায় ইনিংস। তারপর বোলাররাও সুবিধা করতে না পারায় ৮ উইকেটের ব্যবধানে হার। সুপার টুয়েলভে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর এবার ইংলিশদের বিরুদ্ধে স্রেফ উড়ে গেল লাল-সবুজরা। এমন পরাজয়ের ব্যাখ্যায় ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, ‘এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে আমাদের ব্যাটিং একদমই ভালো হয়নি। উইকেট খুবই ভালো ছিল। কিন্তু আমরা শুরুটা ভালো করতে পারিনি। আমাদের কোনো পার্টনারশিপ হয়নি। এমনকি মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরাও ভালো কিছু করতে পারেনি। প্রথমে ব্যাট করে স্কোর বড় করতে না পারলে কোনো পরিকল্পনা করা যায় না।’

গতকাল বাংলাদেশের চার চারজন জেনুইন ব্যাটসম্যান দুই অংকের কোটাতেই পৌঁছাতে পারেননি। অন্যরা শুরুটা ভালো করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ঘুরেফিরে সেই পাওয়ার প্লেতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা। গতকাল মাহমুদুল্লাহরা যেখানে পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে ৩ উইকেটে করেছে মাত্র ২৭ রান, সেখানে ইংল্যান্ড ১ উইকেট হারিয়ে করে ৫০। এখানেই দুই দলের ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

আগের ম্যাচে শারজাহ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হারার পর এ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল টাইগাররা। কিন্তু উল্টো আরও বিশাল ব্যবধানে হারতে হলো। বাংলাদেশের সামনে আরও তিন ম্যাচ আছে। সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। কাল ম্যাচ শেষে মিডিয়াকে নাসুম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এখনো তিনটা ম্যাচ আছে। এখান থেকে একটা ক্লিক করতে পারলে বাকি দুইটা ম্যাচেও ক্লিক করতে পারব। আর একটা জিতলে পরের ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাব। কারণ বাংলাদেশে যে ম্যাচ জিতেছিলাম আত্মবিশ্বাস উঁচুতে ছিল। ওমানে প্রথম ম্যাচ হারলেও বাকি দুইটা জিতে সুপার টুয়েলভে এসেছি। আমাদের ইচ্ছা ভালো কিছু করার, হচ্ছে না। এটা আমাদের জন্য দুভার্গ্য।’

দুই ম্যাচে দুই রকম চিত্র দেখল দল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যানরা বড় সংগ্রহ এনে দিলেও বোলার ও ফিল্ডারদের ভুলে হেরে যায় বাংলাদেশ। আর এ ম্যাচে তো ব্যাটসম্যানরাই ব্যর্থ। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে কি আর প্রতিপক্ষকে মাত্র ১২৫ রানের টার্গেট দিয়ে জেতা যায়!

এভাবে চলতে থাকলে পরের তিন ম্যাচেও যে কোনো সম্ভাবনা নেই -তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ টি-২০ এমন এক ফরম্যাটে যেখানে জিততে হলে সামর্থ্যরে পাশাপাশি আগ্রাসী মনোভাব থাকা চাই। কিন্তু টাইগাররা এখন যেন একটা ট্র্রমায় ভুগছেন। আগের ম্যাচে হারার পর টিম হোটেলে কেউ কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথাও বলেননি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা কেমন হবে কে জানে?

তবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে একটা বিষয় পরিষ্কার করেছেন নাসুম। তিনি বার বার উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা আসলে পারছি না। চেষ্টা করছি হচ্ছে না!’ নাসুম আহমেদের কথার অর্থ তো এটাই, বাংলাদেশ দলের স্বপ্ন আছে, কিন্তু তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো ‘সারথি’ নেই! আর সারথি না থাকলে স্বপ্নের রথ চলবে কীভাবে!

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর