চার চ্যাম্পিয়ন খেলবে একই গ্রুপে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের ড্র হয়ে গেল গতকাল। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল বসুন্ধরা কিংসের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ কোথায় এবং কোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলবে। ফিকশ্চার ছাড়া এএফসি সদর দপ্তরে ড্রতে সব ঠিক হয়ে গেছে। বসুন্ধরা কিংস কুয়েতে খেলবে। গ্রুপ ‘বি’ যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে পাছে আল কুয়েত এফসি, ওমান আলশিব ও লেবাননের আল-আনসার। কিংস যেমন বাংলাদেশ পেশাদার লিগে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন। তেমনি তিন প্রতিপক্ষও নিজ দেশের সর্বোচ্চ আসরে একাধিকবার শিরোপা জিতেছে। কিংস চাচ্ছিল ভুটানের চাংলিমিঠাঙ ভেন্যু এড়াতে। ড্রতে পারো এফসি প্রতিপক্ষ না হওয়ায় ভুটানে খেলতে হচ্ছে না। তবে কিংস যে গ্রুপ পড়েছে তা একেবারে ডেড গ্রুপ। শক্তির দিক দিয়ে কেউ কারও চেয়ে কম না।
‘বি’ গ্রুপে কুয়েতের ক্লাব আল কুয়েতকে চোখ বন্ধ করেই হট ফেবারিট বলা যায়। ঘরোয়া লিগে ২০ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এএফসি কাপে তিনবার শিরোপা জয়ের রেকর্ড রয়েছে। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল কুয়েত। তবে এশিয়ান ফুটবলে ঠিকই তারা জ্বলে উঠছে। এএফসি কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই যেখানে গর্বের, সেখানে আল-কুয়েত ফুটবল ক্লাবের ঘরে তিনবার ট্রফি গেছে। ওমানের আলশিব ক্লাবও যথেষ্ট শক্তিশালী। তাদের ঘরোয়া ফুটবলে সর্বোচ্চ আসরে চারবার চ্যাম্পিয়ন ছাড়াও ২০২২ সালে এএফসি কাপে শিরোপার রেকর্ড রয়েছে। লেবাননের আল-আনসার এফসি কাপে কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ঘরোয়া আসওে সর্বোচ্চ ১২ বার শিরোপা জয় করেছে তারা।
বসুন্ধরা কিংস এমন গ্রুপে পড়েছে যেখানে দুই প্রতিপক্ষের এএফসি কাপে চ্যাম্পিয়নের রেকর্ড রয়েছে। অন্য দিকে আল-আনসার এএফসি কাপে সাফল্য না পেলেও ঘরোয়া আসরে সর্বোচ্চ শিরোপা তাদের। ‘বি’ গ্রুপে তাই কঠিন লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে হবে কিংসকে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ার আল কারামাহকে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। লক্ষ্য এখন কোয়ার্টার ফাইনাল। গ্রুপ পর্বে শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, রানার্স আপ হলেও শেষ আটে ওঠার সুযোগ থাকবে। একেবারে নতুন তিন প্রতিপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্য জয় করে আসরে টিকে গেছে কিংস। আরেকবার মধ্যপ্রাচ্য জয় করে নতুনত্ব আনতে পারবে কি বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস?
বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন, ‘অবশ্যই কঠিন গ্রুপ। এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। প্রিলিমিনারি রাউন্ড পেরোনোর পর ধরেই নিয়েছিলাম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। সেটাই হয়েছে। এটা ক্লাব পর্যায়ের টুর্নামেন্ট হলেও দেশ জড়িয়ে আছে। দেশের ইমেজ বাড়াতে সর্বোচ্চ দেওয়াটাই চেষ্টা করবে কিংস। জয়-পরাজয় নিয়েই তো খেলা। এখানে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’
গ্রুপিং ও দলের নাম ঠিক হলেও ফিকশ্চার চূড়ান্ত হয়নি। তবে ২৫, ২৮ ও ৩১ অক্টোবর কিংসের ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চ্যালেঞ্জ লিগের চ্যালেঞ্জে নামার আগেই ১৫ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া ফুটবলে চ্যালেঞ্জ কাপে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে কিংস। এরপর আবার কিংসের অধিকাংশ খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে খেলবেন। এখানে নিজেদের ভালোমতো ঝালাই করে নিতে পারবেন তপু, রাকিবরা। তা ছাড়া কাতারে প্লে-অফের লড়াইয়ে সিরিয়ার চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে উজ্জীবিত কিংস। যা গ্রুপ লড়াইয়ে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এবার স্মরণকালের সেরা দল গড়েছে কিংস। যা কাতারে প্রমাণও দিয়েছে। হাই প্রোফাইলের আর্জেন্টাইন কোচ মারিও গোমেজ কিংসের দায়িত্ব নিতে চলেছেন। চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়েই তার অভিষেক হবে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে গোমেজের প্রশিক্ষণে কিংস কতদূর যাবে সেটাই এখন অপেক্ষা।