Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:৫৫

মহাকাশচারী হতে চেয়েছিলেন হিলারিও, নিষেধাজ্ঞা ছিল নাসার!

অনলাইন ডেস্ক

মহাকাশচারী হতে চেয়েছিলেন হিলারিও, নিষেধাজ্ঞা ছিল নাসার!

মহাকাশচারী হতে চেয়েছিলেন হিলারিও! কিশোরী হিলারি ক্লিনটন একবার নাসাকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, সে মহাকাশচারী হতে চায়। জবাবে মার্কিন গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছিল, 'তারা মেয়েদের নেয় না'। এদিকে গতকাল ইতিহাস গড়েছে নাসার দুই কন্যা ক্রিস্টিনা কোখ ও জেসিকা মেয়ার। এই প্রথম ‘স্পেসওয়াক’ করেছে নাসার মহিলা দল। এরপরেই টুইট করে প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি ও ডেমোক্র্যাট নেত্রী হিলারি ক্লিনটন জানান, তাঁর জীবনের এমন কাহিনি। শুধুমাত্র মেয়ে বলে কীভাবে কিশোরী-বেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তার। তিনি লিখেছেন, 'নতুন প্রজন্মের ছোট ছোট মেয়েরা আজকের ঐতিহাসিক স্পেসওয়াক দেখলো। প্রার্থনা করি তাদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নগুলো যেনো কোনো গণ্ডিতে আটকে না পড়ে'। 

ছোটবেলাতে স্বপ্ন ভেঙেছিল হিলারি ক্লিনটনের। কিন্তু এই একুশ শতকেও মন ভেঙেছে অনেকের। সাত মাস আগে প্রথম মহিলা দলের স্পেসওয়াকের কথা ছিল। নাসা ঘোষণাও করে দেয়। সেই সময়ে সেই দলে ক্রিস্টিনা কোখের সঙ্গে মহাকাশে হাঁটার কথা ছিল অ্যান ম্যাক্লেনের। কিন্তু মহিলা মহাকাশচারীর পোশাক কম পড়েছিল। এ-ও মেয়ে বলেই মনভাঙা। নজির গড়ার সুযোগ থেকে বাদ যান অ্যান। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এতদিন নভশ্চরদের পোশাক তৈরি করাই হতো পুরুষদের কথা মাথায় রেখে। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের দেহের তাপমাত্রা বেশি। তাঁদের কথা মাথায় রেখে মহাকাশচারীর পোশাকে বিশেষ ‘ভেন্টিলেশন’ ও ‘কুলিং সিস্টেম’ থাকে। মেয়েদের শরীরের জন্য ওই পোশাক উপযোগী নয়। এ নিয়ে একটি প্রথম সারির মার্কিন পত্রিকার মহিলা সম্পাদক রসিকতা করে বলেছেন, ‘‘আমাদের অফিসও তো এ রকমই (পুরুষ কর্মীদের কথা ভেবে তৈরি)। কিউবিকলে বসে আমি ঠান্ডায় কাঁপি।’’ 

কিন্তু নাসা-র বতর্মান কিছু পদক্ষেপে মনে করা হচ্ছে, এই ‘বৈষম্যের’ প্রতিকার হয়ত তারাও চায়। ২০২৪ সালে চাঁদে ফের মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। এ বারে পৃথিবীর উপগ্রহে প্রথম মহিলা পাঠিয়ে তারা ফের নজির গড়তে চায়। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে সেই পোশাকের আনুষ্ঠানিক প্রকাশও হয়ে গিয়েছে। নাসার অন্যতম কর্তা জিম ব্রাইডেনস্টাইন জানিয়েছেন, মূল লক্ষ্য হচ্ছে মঙ্গল। কিন্তু তার আগে চাঁদে পাঠানো হবে পরবর্তী প্রজন্মের মহাকাশচারী। সফল হলে পাড়ি দেওয়া যাবে আরও দূরে। আর এ সবের সঙ্গেই অন্যতম প্রয়াস, ‘লিঙ্গবৈষম্য’ কাটিয়ে ওঠা। শুধু নারী-পুরুষ নয়, সব ধরনের বিভেদ। নাসা জানাচ্ছে, যে কোন উচ্চতার, যে কোন মাপের, যে কোন লিঙ্গের মানুষ যাতে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন, সে বিষয়টি মাথায় রেখে পোশাক তৈরি করা হয়েছে। আনন্দবাজার।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য