শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মার্চ, ২০২০ ২১:৫৯

করোনায় পর্যটকশূন্য বিশ্ব

তানভীর আহমেদ

করোনায় পর্যটকশূন্য  বিশ্ব

পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে বিশ্ব। কোয়ারেন্টাইনে আছে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। করোনা সংকটে দেশে দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে বিমানবন্দর। বহু দেশ তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু দেশ পর্যটক প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশের ভিতরেও গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া ও শহরজুড়ে কোয়ারেন্টাইন পালন করায় পর্যটন শিল্পে ভয়াবহ ধস নেমেছে। সারা বিশ্বে একই চিত্র। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে থাইল্যান্ড, ভুটান সব দেশই এখন স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা, পার্ক, রিসোর্ট জনশূন্য।

লাইফ সাপোর্টে ইতালির পর্যটন শিল্প [ইতালি]

করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্র ইউরোপ। ইতালিকে পুরোপুরি অচল করে দিয়েছে মহামারী আকার নেওয়া এ ভাইরাস। মৃত্যুর মিছিল সেখানে দীর্ঘ হচ্ছে। ইতালি প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির পর থেকেই পর্যটকদের ভিড়ে হিমশিম খেতে শুরু করে। কিন্তু এবার সব এলোমেলো করে দিয়েছে করোনা। করোনার আগ্রাসী আক্রমণে পুরো ইতালি অচল হয়ে পড়েছে। তার স্পষ্ট ছাপ পড়েছে দেশটির পর্যটন শিল্পেও। রোম, ভেনিসসহ দেশের প্রতিটি পর্যটকপ্রিয় শহর এখন ভুতুড়ে নগরীতে রূপ নিয়েছে। সব দোকান, শিক্ষা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে কয়েক কোটি মানুষ। ঘরে স্বেচ্ছাবন্দী মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে। পর্যটকদের ভিড় নেই। সব হোটেল, মোটেল খালি। শহরের জনপ্রিয় কিছু হোটেল এখন হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিখ্যাত স্থাপনাগুলোর সামনে সেনা-পুলিশের কঠোর পাহারা। রাতে জেগে থাকা ইতালির পর্যটকপ্রিয় শহরগুলো এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘুমিয়ে গেছে। পর্যটন ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা নানা দেশ থেকে বুকিং দিয়েছিলেন তারা সেটা বাতিল করেছেন। বিভিন্ন ধরনের বিনোদন অনুষ্ঠান হওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইতালিতে। সেসবও বাতিল করা হয়েছে। পুরো ইতালিতে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য স্থাপনাগুলো এখন জনশূন্য। মুমূর্ষু রোগীর মতোই ইতালির পর্যটন শিল্প রয়েছে লাইফ সাপোর্টে।

লকডাউন শহরে শহওে নেই পর্যটক [যুক্তরাষ্ট্র]

নিউইয়র্ক লকডাউনের ঘোষণা দেওয়ার পরদিন শহরটির মেয়র বলেছিলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সত্যিই তাই হলো। ইতালি, স্পেনকে পর্যুদস্ত করে করোনাভাইরাস থামিয়ে দিল না ঘুমানো শহর নিউইয়র্ককে। পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এখন করোনা ঠেকাতে গিয়ে একের পর এক শহর লকডাউনের ঘোষণা দিচ্ছে। শহরবাসীকে প্রাণে বাঁচাতে কোয়ারান্টাইনের ডাক দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের পদচারণায়মুখর থাকা শহরগুলো থমকে গেছে। নাইট ক্লাব, ডিস্কো বার, ক্যাসিনো সব বন্ধ করে দিয়েছে মালিকরা। শহরের বড় হোটেলগুলোকে বিপদে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। পর্যটকরা তাদের ছুটিতে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল কয়েক মাস আগেই। সেসব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ইউরোপে করোনা ভয়াবহ রূপ নেওয়ার পরই বিদেশি পর্যটকরা নিজ দেশেই গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন। আমেরিকার ভিতরেই যারা ঘুরতে যাওয়ার চিন্তা করেছিলেন তারাও সব বুকিং বাতিল করেছে। সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্টগুলো খুব জনপ্রিয় আমেরিকায়। সেগুলো এখন খালি পড়ে আছে। লকডাউনে থাকা এক শহর থেকে আরেক শহরে কেউ যেতে পারছে না। কেউ বের হলেই জেরা করা হচ্ছে। ক্যাসিনো আর মদের বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধনকুবেরদের আনাগোনা নেই বড় বড় রিসোর্টে। যারা গ্রান্ড ক্যানিয়ন, বনে-পাহাড়ে ক্যাম্পিং কিংবা ট্রাকিং ট্যুর দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সবাই ফিরে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি যেভাবে খারাপের দিকে এগোচ্ছে তাতে পর্যটনে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে বলেই মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, মিয়ামী, লাস ভেগাস, সান ফ্রান্সিকো, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এখন ভুতুড়ে শহর হয়ে উঠেছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা করোনার নতুন কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র বলেই আশঙ্কা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি স্টেট করোনায় কাঁপছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন পথে বসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পর্যটকশূন্য অচেনা যেন থাইল্যান্ড [থাইল্যান্ড]

করোনা আতঙ্কে পর্যটন এলাকাগুলো মৃতপ্রায়। দেশটির পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী তিন মাসের মধ্যে যদি করোনা বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে থাইল্যান্ডের পর্যটন ব্যবসা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে

প্রায় ২০ বছর ধরে ফুকেটে নৌকা, ক্রুজ ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করে আসছেন ব্যবসায়ী নাতাতিক। আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন, প্রতিদিন যেখানে এক হাজারেরও বেশি যাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে যেতেন সেখানে দিনে ১০০ জনেরও দেখা পাচ্ছেন না তিনি। এ অভিজ্ঞতা শুধু তার একার নয়। পর্যটকদের স্বর্গ থাইল্যান্ডকে এখন দেখে অনেকেই চিনতে পারবেন না। সমুদ্র তীরে নেই ভিড়। ঘাটে অলস পড়ে আছে বিনোদন জাহাজ, নৌকা। রাস্তা পুরো খালি। শৌখিন পণ্যের দোকানগুলোতে নেই ক্রেতা। হোটেলে নেই পর্যটকরা। যারা অগ্রিম বুকিং দিয়েছিলেন তারা সেটা বাতিল করেছেন। ব্যস্ত বিমানবন্দরেও নেই কোলাহল। ভাড়া দেওয়া গাড়িগুলো বন্ধ, পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে গ্যারেজে। নাইট ক্লাব, বারও বন্ধ রয়েছে। পুরো থাইল্যান্ডের এমন চিত্র কেউ কখনো কল্পনাও করেনি। কিন্তু করোনার কারণে দেশটির পর্যটন এখন এই দশা। রেস্টুরেন্ট মালিকরা দোকান বন্ধ করে ঘরে ফিরে গেছেন। করোনা আতঙ্কে পর্যটন এলাকাগুলো মৃতপ্রায়। দেশটির পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী তিন মাসের মধ্যে যদি করোনা বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে থাইল্যান্ডের পর্যটন ব্যবসা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।

লকডাউনে ফাঁকা পর্যটন এলাকা [ভারত]

পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি ভারতের তাজমহল। সারা বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ পর্যটক তাজমহলের রূপ দেখতে ছুটে আসেন দেশটিতে। মানুষের জট লেগে থাকে আগ্রায়। সেই তাজমহল কিছুদিন আগেই বন্ধ করে দেয় সরকার। পুরো ভারত ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করার পর পর্যটক চলাচল শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। দেশের সব বিনোদন পার্ক, সিনেমা হল, রিসোর্ট বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় নেই গণপরিবহন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোরভাবে মানুষের চলাচল সীমিত করে দিয়েছে।

করোনার কারণে আগেই বিদেশি নাগরিকদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি। বৈশ্বিক করোনা সংকটে ভারতের কয়েক হাজার পর্যটক এলাকা এখন জনশূন্য। ভারতে সবচেয়ে বেশি যে দুটি দেশ থেকে পর্যটক আসে সে তালিকায় নাম আসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই করোনায় কাঁপছে। বাংলাদেশও লড়াই করছে। সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতত্ত্ব এলাকা রয়েছে ভারতে- এসবই এখন ফাঁকা।

পর্যটকরা ঘরে বসে দেখল চীনের লড়াই [চীন]

চীনের গ্রেট ওয়াল খুলে দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের নির্দেশনা উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবুও এখন পর্যন্ত চীনের জীবন স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। পর্যটকশূন্য চীন কবে আবার মুখর হয়ে উঠবে সেটা কেউ জানে না

গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিনটিতে চীন জানাল করোনাভাইরাসের নতুন সংক্রমণ ঘটেছে হুবেই প্রদেশের উহানে। পর্যটকরা তখনো দেশটির নানা প্রদেশে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। করোনার ভয়াবহতা টের পাওয়া গেল চীন যখন উহানসহ একের পর এক মোট চারটি শহর লকডাউন করে দিল। এ শহরগুলোতে প্রবেশ ও বাহির দুটিই বন্ধ করে দিল তারা। পর্যটকরা আতঙ্কে ফিরতে শুরু করল যার যার দেশে। পুরো চীন করোনার সঙ্গে লড়াই শুরুর পর থেকেই বন্ধ হতে থাকে দেশটির পর্যটন এলাকাগুলো। চীনের অহংকার গ্রেট ওয়াল বন্ধ করে দেওয়া হলো। যা দেখতে সারা বিশ্বের পর্যটকরা ছুটে আসেন সেটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে তারা বুঝতে পারলেন করোনা কতটা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে চীনকে। পর্যটকদের প্রিয় দেশ চীন বহু পুরনো ঐতিহ্য স্থাপনায় ভরপুর।দেশজুড়েই এসব ঐতিহ্য স্থাপনা রয়েছে। লকডাউনের পর থেকেই চীনের ভিতর পর্যটকদের চলাচল থেমে যায়। একের পর এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করা হয় চীনে। সীমান্তগুলো সিল করে দেওয়া হয়। একঘরে হয়ে পড়া চীনের পর্যটনপ্রিয় শহরগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য সতর্কতায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। জনসমাগম নিষিদ্ধ করার পর গণপরিবহন বন্ধ করা হয়। চীন করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকটাই সামলে উঠছে। চীনের গ্রেট ওয়াল খুলে দেওয়া হয়েছে। লকডাউনের নির্দেশনা উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবুও এখন পর্যন্ত চীনের জীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। পর্যটকশূন্য চীন কবে আবার মুখর হয়ে উঠবে সেটা কেউ জানে না।

পর্যটন এলাকা ছেড়ে যেন পালিয়েছে সবাই [অস্ট্রেলিয়া]

বন, পাহাড়, সমুদ্র, দ্বীপ কিংবা মরুভূমিÑ অস্ট্রেলিয়ার রূপ কোনোখানেই কম নেই। সেই রূপের টানে ছুটে আসা পর্যটকদের এখন ঘরে বন্দী করে রেখেছে করোনাভাইরাস। করোনার বিস্তার ঠেকাতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া শহরের পর শহরে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে লাখ লাখ মানুষকে। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোতে নেই মানুষের চিহ্ন। লকডাউনে থাকা শহরের ছবি দেখে মনে হবে এ শহর পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নইলে শহর ছেড়ে পালিয়েছে সবাই। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতীরে বছরের এ সময়টায় পর্যটদের ভিড় লেগে যায়। অস্ট্রেলিয়ানরা ছুটি কাটাতে এ সময়টাতে বছরজুড়ে পরিকল্পনা নিয়ে থাকে। সেসব এখন বাতিল করতে হয়েছে। ইস্টারের ছুটির মৌসুম এখন সেখানে। বিনোদন পার্কগুলোতে এ সময় পর্যটকদের চাপ বাড়ার কথা। সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কঠোর লকডাউন পালনের ঘোষণা আসার পর রাস্তা জনশূন্য হয়ে পড়েছে দেশটির। ছুটির মৌসুমে করোনা এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণে পর্যটকদের এখন ঘরে বন্দী থাকার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের বার্তা পরিষ্কার, সব ধরনের ভ্রমণ নিষেধ। ঘর ছেড়ে বেরোলেই জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। যারা বছরের এ সময়টায় পর্যটকদের ঘর ভাড়া দিয়ে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগ খোঁজেন তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে সতর্ক বার্তা। পর্যটকদের ঘর ভাড়া দিয়ে উল্টো দন্ডের মুখে পড়তে হবে তাদের। হোটেল, মোটেলগুলো সব বুকিং বাতিল করে দিয়েছে। লকডাউনে থাকা পর্যটন এলাকাগুলোতে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মিসরের ভ্যালি অব দ্য কিংস করোনায় কাবু [মিসর]

প্রতœতাত্ত্বিকপ্রিয় পর্যটকরা ছুটে আসেন মিসরে। হাজার হাজার বছর পুরনো মিসরীয় পিরামিড আর সম্র্রাটদের অবিশ্বাস্য স্থাপনা দেখতে এ ভিড় কখনো কমে না। কিন্তু এবার করোনা এসে সেই ঐতিহ্যে বাধা দিয়েছে। তুতেনখামেনের সমাধি শহর, ভ্যালি অব দ্য কিংসÑ এসব নিয়ে মানুষের কৌতূহল অদম্য। পর্যটকরা সারা বছর ধরে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। মিসরের পিরামিড আর মমি দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় সামাল দিতে হাঁপিয়ে যায় স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ আর ট্যুরিস্ট বাসের কোম্পানিগুলো। এবার সে দৃশ্য নেই। ফেব্রুয়ারির পর থেকে পুরো চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। চীনের পর ইতালি থেকে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মধ্যপ্রাচ্যে হামলে না পড়লেও ছেড়ে দেয়নি কাউকে। স্বাভাবিক কারণেই মিসরের পর্যটন শিল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে এসে পর্যটকসংখ্যা কমতে শুরু করে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে মিসর। যারা হোটেল ও পর্যটন কোম্পানিতে বুকিং দিয়েছিলেন তারা সেটি বাতিল করেছেন। পর্যটকদের সবচেয়ে আগ্রহের শহর তুতেনখামেনের সমাধি শহর, ভ্যালি অব দ্য কিংস এখন মিসরে করোনাভাইরাসের কেন্দ্র! পর্যটক দূরের কথা, স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন সেখানে। কোয়ারেন্টাইন শুরুর পরে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে করোনা পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। হোটেলগুলো থেকে তারা বের হতে পারছেন না। বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরাই দেশে করোনা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ও তাদের মাধ্যমেই ভাইরাসটি দেশে ছড়িয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠার পর দেশেটির সরকার পর্যটন মোটামুটি বন্ধ করে রেখেছে।


আপনার মন্তব্য