Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩১
ভিসির কথা
উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী করতে হবে
উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী করতে হবে

উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ভিসি  প্রফেসর মো. রুহুল আমিন। দেশের উচ্চশিক্ষার মান ও এর উন্নয়নে করণীয় কী, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের করণীয় কীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দিনাজপুর প্রতিনিধি মো. রিয়াজুল ইসলাম।

 

প্রশ্ন : দেশের উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন আছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

ভিসি : বিতর্ক ও প্রশ্ন দুটোই আছে। এর পিছনে যুক্তিও আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর উচ্চশিক্ষা শুরু হয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলাতে গেলে আমাদের আরও দক্ষতা ও গতি বাড়াতে হবে। এজন্য উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।

প্রশ্ন : দেশে গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত না হওয়ার পেছনে প্রধান অন্তরায়গুলো কী?

ভিসি : বর্তমান বিশ্বে এখন এক ক্লিকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সহজেই জানা যায়। আর একদিনেই বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে সমকক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে উত্তরণে বড় বাধা আর্থিক বিনিয়োগ এ খাতে বাড়াতে হবে এবং যোগ্যতাসম্পন্নদের সম্পৃক্ত করতে পারলেই প্রধান অন্তরায়গুলো কেটে যাবে।

প্রশ্ন : উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী ধরনের সংস্কার আনা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

ভিসি : উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে মেধাবী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও ভালো মনের ভালো শিক্ষককে নিয়োগ করতে হবে। আর তাদের এদিকে আসতে ভালো জোগানের পাশাপাশি ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন ব্যবস্থা, আবাসন সুযোগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান বৃদ্ধিকল্পে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে।

প্রশ্ন : বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণার মান্নোন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দেশের ৬১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ‘কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স প্রকল্প’ গ্রহণ করেছে ? বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

ভিসি : ‘কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স প্রকল্প’ এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এটি পাঁচ বছর আগে নিলে আরও ভালো হতো। এ প্রকল্পে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

প্রশ্ন : বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীরাও চাকরি লাভের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। বলা হচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য চাহিদামাফিক যোগ্যতা নেই তাদের। এ থেকে উত্তরণে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার করণীয় কী?

ভিসি : বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীরাও চাকরি লাভের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে- কথাটি সত্য নয়। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য চাহিদামাফিক যোগ্যতা নেই এটাও ঠিক নয়। তবে শিক্ষাব্যবস্থায়  চাকরি ক্ষেত্রে পদ কম কিন্তু যোগ্যতাসম্পন্ন ডিগ্রিধারীরা পাস করে বের হচ্ছে বেশি। এতে কেউ না কেউ প্রতিযোগিতায় বাদ পড়তেই পারে। এখানে শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে নিজেকেই। বিশ্ববিদ্যালয় তার সহায়ক হিসেবে কাজ করবে মাত্র।

প্রশ্ন : গুণগত ও মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আপনার প্রতিষ্ঠান কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?

ভিসি : গুণগত ও মানসম্পন্ন দুটি শব্দ হলেও এর ব্যাপকতা অনেক। এ হাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম থেকেই এ লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য দরকার মানসম্মত শিক্ষক। দেশের এক প্রান্তে এ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় অনেকে আসতে চায় না। এখানে সেশনজট নেই বললেই চলে। এরপরেও এখানের শিক্ষার পরিবেশসহ শিক্ষার মান উন্নয়নকে ধরে রাখতে সবার মিলিত প্রচেষ্টায় আজ হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের এমনকি বিদেশি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়েছে। এখানে তত্ত্বীয়ের সঙ্গে ব্যবহারিকের গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কারণেই দেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এখানে বিদেশি শিক্ষার্থী বেশি।

প্রশ্ন : হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত? আপনার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে?

ভিসি : হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ২০০। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের ১৪৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে। আর সহশিক্ষা কার্যক্রম ভালোভাবে চলছে।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা সহজ। মুক্ত আলোচনা বিতর্ক সেমিনার, গান-কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে স্বদেশ প্রেম, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আবৃত্তি, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।

প্রশ্ন : আপনার শিক্ষাজীবনের কোনো মধুর স্মৃতি থাকলে বলুন।

ভিসি : আমার শিক্ষাজীবনে আমার শিক্ষকদের কথা আজও ভোলা যায় না। তাদের শ্রদ্ধা করতে এখনো ইচ্ছা হয়।

প্রশ্ন : বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?

ভিসি : এটি স্বাধীন দেশ। জাতির জনকের স্বপ্ন আপনা আপনি বাস্তবায়ন হবে না। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। আগামী ভিশন-২০২১ সাল ২০৪১ সালে কোথায় যেতে হবে আমাদের তা এখন থেকেই চেষ্টা করতে হবে। শুধু সনদপত্র ও ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়, দেশ ও জাতিকে সেবাদানের জন্য জ্ঞানবান ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে গুণগত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সেসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow