Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৮
জেএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি
বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ভাল করতে যা করনীয়

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, বাংলা দ্বিতীয়পত্রের মোট ৫০ নম্বরের মধ্যে ৩০ নম্বর রচনামূলকে এবং ২০ নম্বর নৈর্ব্যক্তিকে। সুতরাং বিরচন অংশকে অবহেলা করা যাবে না। কেননা এই অংশে নম্বর বেশি। ২০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক অংশ ভালো করার জন্য ব্যাকরণ অংশের সব অংশ ভালো করে বুঝে বুঝে পড়তে হবে। কেননা বেশি নম্বর পাওয়ার সিঁড়ি হলো নৈর্ব্যক্তিক। এ অংশে ভালো করা মানে পুরো নম্বর অর্জন এবং ভালো ফল। নৈর্ব্যক্তিক অংশের উত্তরপত্রে টিকচিহ্ন দিতে হবে।  প্রয়োজনের বাইরে কোনো প্রকার দাগ দিবে না । 

নৈর্ব্যক্তিক অংশে বা ব্যাকরণে ভালো করার অন্যতম উপায় হলো বুঝে পড়া। পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো দাগ দিয়ে রাখবে। উদাহরণগুলো গুরুত্বসহকারে পড়বে এবং মনে রাখবে। আর যে পরিচ্ছেদগুলো তোমার কাছে কঠিন মনে হবে তা বার বার অনুশীলন করবে। 

রচনামূলক অংশের প্রশ্ন পাওয়ার পর তা শুরু থেকে পর্যন্ত ভালো করে দেখবে। কোনো প্রশ্ন অজানা থাকলে মন খারাপ করবে না কারণ লিখতে লিখতে অজানা বিষয়গুলো মনে পড়তে পারে। যে প্রশ্নটা সবচেয়ে ভালো পারবে তার আগে উত্তর দেবে। তবে ছোট প্রশ্নগুলো আগে লেখাই ভালো  যেমন সারাংশ/সারমর্ম বা অনুচ্ছেদ। রচনামূলক অংশে ফুল মার্কস পাওয়া যায় সারাংশ/সারমর্মে। সুতরাং এটি লেখার পদ্ধতি জানা অপরিহার্য। এ অংশে ভালো করতে হলে মূল অংশটি কয়েকবার পড়ে মূল ভাবটি খুঁজে বের করবে। এরপর সহজ-সরল ও সাবলীল ভাষায় স্বল্প অবয়বে, স্পষ্ট বক্তব্যে লিখবে। বক্তব্য সংক্ষেপ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

রচনামূলক অংশে পুরো নম্বর পাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পত্র/দরখাস্ত। এটি পাশাপাশি দুই পৃষ্ঠায় লিখতে হবে। স্পষ্ট অক্ষরে, সহজ-সরল এবং বিষয়ভিত্তিক ভাষায় পত্র/দরখাস্ত লিখবে। প্রকাশভঙ্গি হবে আকর্ষণীয় ও আধুনিক। পত্র লেখার কাঠামোগত পদ্ধতিগুলো মেনে চলবে। ব্যক্তিগতপত্র, আবেদনপত্র এবং নিমন্ত্রণপত্র- এ তিনটির যথার্থ নিয়মগুলো অনুসরণ করবে।

অনুচ্ছেদ পড়ার ক্ষেত্রে বাংলা প্রথমপত্রের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিবে। লেখার সময় কোনো প্যারা করবে না। প্রাসঙ্গিক ভাষা ও গঠনমূলক বাক্য ব্যবহার করবে। অনুধাবন অংশে একটি উদ্দীপক থাকে। এর আলোকে তিনটি বা চারটি প্রশ্ন থাকে যা সহজ ভাষায় এবং সংক্ষেপে লিখতে হবে। প্রশ্নে যা চাওয়া হবে তা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।

ভাব-সম্প্রসারণ অবশ্যই তিন প্যারায় লিখতে হবে। তবে প্যারার নাম উল্লেখ করার দরকার নেই। ভাব-সম্প্রসারণ ১৫০ শব্দের মধ্যে লেখা উত্তম। কবি সাহিত্যিকদের অন্তর্নিহিত ভাবকে সহজ ও সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলাই বাঞ্ছনীয়। কোনো কথার পুনরাবৃত্তি করবে না। শিরোনাম অবশ্যই লিখবে।

রচনামূলক অংশের বড় জায়গাজুড়ে আছে প্রবন্ধ ও রচনা। তথ্যমূলক রচনা থাকলে সেটি লেখার জন্য নির্বাচন করা ভালো। প্রত্যেকটা ভাব আলাদা আলাদা প্যারায় লিখবে এবং তা যেন সঙ্গতিপূর্ণ হয়। রচনায় যত বেশি কোটেশন, উদ্ধৃতি এবং কবিতার লাইন ব্যবহার করবে তত বেশি নম্বর পাবে। তবে অপ্রয়োজনীয় লাইন ব্যবহার করবে না। বোর্ডের রচনার বইটি মূল হিসেবে ধরে অন্যান্য বই থেকে প্রাসঙ্গিক কিছু আলোচনা সংগ্রহ করবে।  রচনার প্যারাগুলো পরস্পরের মধ্যে মিল রেখে উপস্থাপন করবে। 

 

ফারুক আহম্মদ, সহকারী শিক্ষক

বাংলা বিভাগ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা  বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ভালো করতে করণীয়

এই পাতার আরো খবর
up-arrow