Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৭ ২২:১১
বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম
শামছুল হক রাসেল

সংবাদ বা খবরের প্রতি মানুষের আগ্রহ চিরাচরিত। এ আগ্রহ মেটায় বিভিন্ন ধরনের সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশন।

দৈনিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন, টেলিভিশন, অনলাইন নিউজপোর্টাল ও হালের সোশ্যাল সাইট সবই প্রভাবশালী ভূমিকা রেখে চলেছে খবরের খোরাক জোগাতে। বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়াগুলোর তালিকায় এদের প্রতিযোগীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। প্রতিনিয়তই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে। হালের সোশ্যাল নেটওয়ার্কও পিছিয়ে নেই। তবে প্রচার সংখ্যা ও পাঠক-দর্শকের আগ্রহের সঙ্গে যোগ হওয়া জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মিডিয়াগুলোকে নিয়ে আজকের এ আয়োজন—

 

বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

সরকারি ও বেসরকারি তথ্য মোতাবেক বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। বিগত টানা পাঁচ বছর ধরে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রয়েছে। সর্বশেষ ৪ মে ২০১৬ তারিখে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ সংক্রান্ত সরকারি তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেই তথ্য মতে, ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ প্রচার সংখ্যা নিয়ে চতুর্থবারের মতো শীর্ষ স্থান ধরে রাখে বাংলাদেশ প্রতিদিন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জাতীয় সংসদে প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে মিডিয়াভুক্ত দেশের ৪৩০টি দৈনিক পত্রিকার যে তালিকা প্রকাশ করেন, তাতে টানা চতুর্থবারের মতো শীর্ষে থেকে নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখার এ রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন। বর্তমানে পত্রিকাটির সার্কুলেশন ছয় লাখের বেশি। নঈম নিজামের সম্পাদনায় পত্রিকাটির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প কথায়, অল্প পাতায়, অল্প পয়সায় বেশি খবরের নতুন ধারণা নিয়ে ২০১০ সালের ১৫ মার্চ যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ প্রতিদিন। ব্যতিক্রমী পরিবেশনা, বিন্যাস ও বিষয়বস্তুর কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পাঠকের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। মাত্র ১২ পৃষ্ঠার দৈনিক হয়েও সব ধরনের খবরে সবাইকে অতিক্রম করে শীর্ষে পৌঁছে যায় পত্রিকাটি। এরই মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিদিন নিয়মিত ১৩ x ২০.৫ ইঞ্চি  সাইজের পাশাপাশি সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক দুটি ট্যাবলয়েড ফিচার সাপ্লিমেন্ট প্রকাশনা শুরু করেছে। গত দেড় বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ৮ পৃষ্ঠার সাপ্তাহিক লাইফস্টাইল ট্যাবলয়েড ‘ফ্রাইডে’। লাইফস্টাইল বিষয়ক সব আয়োজন এতে থাকছে। এ ছাড়া এক বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে পাক্ষিক ট্যাবলয়েড ‘শনিবারের সকাল’। অনুপ্রেরণীয় ব্যক্তিত্ব, অর্জন ও সাফল্য প্রধান ফিচার এখানে থাকছে। মূল পত্রিকার সংবাদ ফিচার ও উপসম্পাদকীয় প্রভৃতি কনটেন্ট এর বাইরে এই সাপ্লিমেন্টগুলোও পাঠকের কাছ থেকে আশাতীত সাড়া পেয়েছে। ছাপা পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন পোর্টালেও দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। অষ্টম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে ‘কোটি মানুষের দৈনিক’ স্লোগানে নতুন উদ্যমে পাঠকের সামনে হাজির হচ্ছে পাঠকের প্রিয় বাংলাদেশ প্রতিদিন।

 

দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন

জাপানি ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক ‘দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন’। বিশ্বের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক এটি। ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে সকাল-সন্ধ্যা মিলিয়ে এক কোটির উপরে পত্রিকা ছাপানো হচ্ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সকাল-সন্ধ্যা মিলিয়ে এক কোটি ৩৫ লাখ পত্রিকা প্রকাশিত হয় শিমবুনের। এটি টোকিও, ওসাকা, ফুকুকা ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রকাশিত হয়। জাপানিজ মিডিয়া জগতের নক্ষত্র প্রতিষ্ঠান ইয়োমিউরি গ্রুপ থেকে প্রকাশিত হয় দ্য শিমবুন। এর প্রধান কার্যালয়গুলো জাপানের ওটিমাচি, চিওদা, টোকিওতে অবস্থিত। এছাড়া বেশ কয়েকটি শহরে ১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি।   এর প্রধান সম্পাদক Yoichi Funabashi.  দিনে দুবার ছাপানোর পাশাপাশি এর বিভিন্ন লোকাল এডিশন প্রকাশিত হয়। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি ইয়োমিউরি পুরস্কার ঘোষণা করে। দীর্ঘ এ পথচলায় আরও অনেক পত্রিকা প্রকাশ করছে এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের সদস্য দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন। এমনকি জাপানের অন্যতম অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষক এ পত্রিকাটি। ১৯২৪ সালে শোরিকি মাতসুতারো কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়ার পর পত্রিকাটির মোড় ঘুরিয়ে ফেলেন চমকপ্রদ নিউজ কাভারেজ, পুরো পৃষ্ঠাব্যাপী রেডিও অনুষ্ঠান গাইড যুক্ত করে।

 

আনন্দবাজার পত্রিকা

আনন্দবাজার পত্রিকা। এর সম্পর্কে আর নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রকাশ সংখ্যার ভিত্তিতে ভারতে বাংলা ভাষার সর্বাধিক প্রকাশিত দৈনিক এটি। কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স এর প্রকাশক। কলকাতা, নয়াদিল্লি ও ভারতের অন্যান্য শহর থেকে দৈনিক ১৩ লাখ কপিরও বেশি আনন্দবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ইন্ডিয়ান রিডারশিপ সার্ভের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী পত্রিকাটির পাঠক সংখ্যা ১ কোটি ৫৬ লাখ। তাদের মতে, একটি আনন্দবাজার পত্রিকা কমপক্ষে ১২ জন লোক পাঠ করেন। বাংলা ভাষাভাষী যেকটি পত্রিকা ভারত থেকে প্রকাশ হয় তার মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা অন্যতম। বর্তমানে বেশ কয়েকটি বাংলা পত্রিকা পাঠকপ্রিয়তায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আনন্দবাজারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কেউ দাঁড়াতে পারছে না। এক কথায় বাঙালিদের হৃদয়ে দাপটের সঙ্গে দখল করে রয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। শুধু ভারতীয় বাঙালি নয়, বাংলাদেশের বাঙালিদের কাছেও এ পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে পাঠক সংখ্যা বাংলাদেশেও খুব একটা কম নয়। ১৯২২ সালের ১৩ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। এর প্রধান কার্যালয় কলকাতায়। এ ছাড়া দিল্লি থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় জোর দেওয়া হয় ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাঠপরিক্রম।

 

আল আহরাম

দৈনিক আল আহরাম আরব বিশ্বের অন্যতম পুরনো পত্রিকা। মিসর থেকে প্রকাশিত আরবি ভাষার ব্রডশিট পত্রিকা এটি। পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালে। প্রতিদিনের সার্কুলেশন ১০ লাখ কপি। শুক্রবার এর সার্কুলেশন দাঁড়ায় ১২ লাখ। এর প্রকাশক আল আহরাম পাবলিশিং হাউস। ১৯৫২ সালের অভ্যুত্থানের পর জামাল আবদেল নাসের পত্রিকাটিকে জাতীয়করণ করেন। তা সত্ত্বেও পত্রিকাটি মিসরের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক।

১৮৭৫ সালে লেবাননের দুই ভাই বেশারা তাকিয়া ও সালিম তাকিয়া আল আহরাম প্রতিষ্ঠা করেন। তারা ওই সময় আলেকজান্দ্রিয়ায় বসবাস করতেন। প্রথমে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রতি শনিবার এটি বের হতো। কিন্তু দুমাস পর দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আল আহরাম। তাকিয়া ভাইয়েরা এটাকে দৈনিক পত্রিকার রূপ দেন। প্রথম দিকে পত্রিকা মিসরে ও লেবাননে ভাগ করে বিলি করা হতো। ১৮৯৯ সালের নভেম্বরে আল আহরামের কেন্দ্রীয় অফিস কায়রোতে স্থানান্তর করা হয়। ধর্মীয় সংস্কারক মুহাম্মদ আবদাহ ও জামাল আল দীন আল আফগানি প্রথম দিকে এ পত্রিকায় লিখতেন। আল আহরাম বর্তমানে আল আহরাম পাবলিশিং হাউস, যা মিসরের সবচেয়ে বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। পত্রিকাটি মিসরের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

 

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইংরেজি ভাষার আন্তর্জাতিক পত্রিকা, যেখানে মূলত ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির খবর প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ভো জোন্সের কোম্পানি; যা বিশ্ববিখ্যাত নিউজ করপোরেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও এশিয়ান এবং ইউরোপভিত্তিক সংখ্যাও প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকাটি মার্কিন মুলুকে সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক। বর্তমানে বিশ্বে এর অবস্থান পঞ্চম। আউট ব্যুরো অব সার্কুলেশনের মতে, প্রতিদিন প্রায় ২৪ লাখ কপি প্রকাশিত হয়। যার মধ্যে অবশ্য চার লাখ অনলাইন সাবসক্রিপ্ট। পত্রিকাটির প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউএসএ টুডে। যেহেতু এটি বাণিজ্যকেন্দ্রিক পত্রিকা, তাই লন্ডনের ফিনানশিয়াল টাইমসের প্রতিদ্বন্দ্বী। পত্রিকাটির নাম দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত ওয়াল স্ট্রিটের নামানুসারে। পত্রিকাটি চার্লস ডো অ্যাডওয়ার্ড জোন্স এবং চার্লস বার্গস্ট্রেচার হাত ধরে ১৮৮৯ সালের ৮ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়। তবে ১৯০২ সালে সাংবাদিক ক্ল্যারেন্স ব্যারন পত্রিকাটি ১ লাখ ৩০ হাজার ইউএস ডলারের বিনিময়ে কিনে নেন। তখন মাত্র ৭ হাজার কপি প্রকাশ পেত। কিন্তু ব্যারনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯২০ সালের শেষের দিকে তা ৫০ হাজারে গিয়ে পৌঁছায়। তবে পত্রিকাটির আধুনিকায়ন হয় মূলত ১৯৪০ সালের দিকে।

 

টিভি চ্যানেল বিবিসি

গত কয়েক দশকে অনেক টিভি চ্যানেল সারা বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। তবে বিবিসি নিউজের কথা বলতে হয় আলাদা করে। নির্ভরযোগ্য খবর দেখা ও শোনার জন্য বিবিসি নিউজের প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে খুব কমই। সেই হিসেবে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী টিভি চ্যানেল হিসেবে বিবিসি নিউজের নাম চলে আসে। ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন সংক্ষেপে বিবিসি। জনপ্রিয়তার দিক থেকে এটি এখনো ঈর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এই শক্তিশালী সংবাদ মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় সব ধরনের সর্বশেষ খবর প্রকাশিত হয়ে থাকে বিবিসি নিউজে। এখানকার প্রায় প্রতিটি খবরই বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন, ম্যাগাজিন ও দৈনিক প্রত্রিকায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হয়ে থাকে। বিশ্বের যে কোনো বড় ধরনের ঘটনা সবার আগে বিশ্বব্যাপী প্রচার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে তারা। বিবিসি নিউজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় টিকে আছে সিএনএন-এর মতো শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম। তবে বিবিসি নিউজের ব্যতিক্রমী দিক হচ্ছে তারা বিভিন্ন শ্রেণি, বয়স ও পেশার মানুষের জন্য বিভিন্ন বৈচিত্র্যধর্মী খরবও সংগ্রহ করে থাকে। এ কারণে এই টিভি চ্যানেল দেখতে বিভিন্ন দেশের কোটি দর্শক টিভি সেটের সামনে এই খবরগুলো উপভোগ করে। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এ সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা।

 

টাইমস অব ইন্ডিয়া

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, সংক্ষেপে টিওআই। বিশ্বের ইংরেজি ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক এটি। যে কোনো ভাষার সংবাদপত্রে এর অবস্থান তৃতীয়। ইন্ডিয়া সার্কুলেশন অডিট ব্যুরোর তথ্য মোতাবেক এর সার্কুলেশন ৩১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। ইন্ডিয়ান রিডারশিপ সার্ভের জরিপ অনুযায়ী টাইমস অব ইন্ডিয়ার পাঠকসংখ্যা ৭০ লাখ ৩৫ হাজার। ওয়েবসাইটেও পত্রিকাটি সবচেয়ে বেশি দেখা হয়। ২০০৯ সালের মে মাসে পত্রিকাটির ১৫৯ মিলিয়ন পৃষ্ঠা দেখা হয়েছে, যা নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য সান, ওয়াশিংটন পোস্ট, ডেইলি মেইল এবং ইউএসএ টুডে থেকে বেশি। ১৮৩৮ সালের ৩ নভেম্বর ‘দ্য বোম্বে টাইমস অ্যান্ড জার্নাল অব কমার্স’ নামে বোম্বেতে (তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামল) পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। ওই সময় পত্রিকাটি শুধু শনি ও বুধবার প্রকাশিত হতো সেমি-উইকলি পত্রিকা হিসেবে। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক রায় বাহাদুর নারায়ণ দিনোনাথ ভেলকার। আর তখন মূলত ব্রিটেন এবং ভারতীয় উপমহাদেশের খবর প্রকাশিত হতো। এ পত্রিকাটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশ শুরু হয় ১৮৫০ সালে। ১৯৬১ সালে এর নাম বোম্বে টাইমস থেকে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া হয়। মালিকানার পালাবদল ঘটলেও পত্রিকাটির নীতি এবং খবর পরিবেশনের ধারাবাহিকতা ঠিক আগের মতোই রয়েছে।

 

ট্যাবলয়েড বিল্ড

জার্মানির সর্বোচ্চ পঠিত দৈনিক ‘বিল্ড’। মূলত এটি একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা। ট্যাবলয়েডটি সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ছাপা হয়। আর রবিবারে একটু ভিন্নভাবে পাঠকের হাতে পৌঁছায় এটি। বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুকে কেন্দ্র করে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয় এ সংখ্যায়। বিল্ড যদিও স্টাইলের দিক দিয়ে ট্যাবলয়েড কিন্তু সাইজের দিক দিয়ে ব্রডশিট। এর অন্যতম জনপ্রিয় স্লোগান হলো ‘ফ্রম ইওর ওন ওপেনিয়ন’ (সবার নিজের মতামত থেকে)। বিশেষজ্ঞদের চোখে ‘বিল্ড’ হলো বহুমাত্রিকতার নাম, যেখানে একই সঙ্গে খোশগল্প, শক্ত ভাষা কিংবা আবেগঘন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং সাংবাদিকতার মারপ্যাঁচে ট্যাবলয়েডটিকে অনেকেই ব্রিটিশদের জাতীয় পত্রিকা ‘দ্য সান’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। ব্রিটেনের বিখ্যাত ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা এ ট্যাবলয়েড সম্পর্কে বলেছে, বিল্ডের আছে টপলেস গার্লস ফিচারিং, যা এটির প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপানো হয় এবং এটি এরই মধ্যে পাঁচ হাজার টপলেস ছবি প্রকাশ করেছে। ১৯৫২ সালে বিল্ড প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাক্সেল স্প্রিনজার। এটি রকমারি ছবি পরিবেশনের জন্য বিখ্যাত। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ বিক্রীত ট্যাবলয়েডে পরিণত হয় এটি। বিল্ডের ইতিহাসজুড়ে আছে হ্যামবার্গ। তবে ২০০৮ সালের মার্চে এর সদর দফতর হ্যামবার্গ থেকে বার্লিনে স্থানান্তরিত হয়। দৈনিক প্রকাশ সংখ্যা ২৫ লাখেরও বেশি।

 

দৈনিক জাগরণ

দৈনিক জাগরণ হিন্দি ভাষার পত্রিকা। ভারতের সর্বাধিক প্রচারিত হিন্দি দৈনিক এটি। ইন্ডিয়ান রিডারশিপ সার্ভে অনুযায়ী দেশটির সর্বাধিক পঠিত পত্রিকাও এ দৈনিক জাগরণ। শুধু সংবাদই নয়, ভারতে এটি একটি ব্র্যান্ড হিসেবেও পরিচিত। বর্তমানে এর পাঠকসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৫৭ লাখ। বিবিসি ও রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী ভারতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন করে দৈনিক জাগরণ। ২০১০ সালের তিন মাসের জরিপে এ ফলাফল বেরিয়ে আসে। এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪২ সালে। ভারতের জানসি থেকে এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশ হয়। ১৯৪৭ সালে কানপুরে দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। পত্রিকাটির প্রধান কার্যালয় কানপুরে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন যখন বেগবান হচ্ছে তখনই দৈনিক জাগরণ আত্মপ্রকাশ করে। এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রী পুরান চন্দ্রগুপ্ত। ‘মানুষের স্বাধীন মতামতের প্রতিনিধিত্ব করবে’— এটি ছিল পত্রিকাটির মূল লক্ষ্য। কানপুর, রেওয়া, ভূপাল, গোরাকপুর, বেনারসি, এলাহাবাদ, লক্ষেৗ, মিরাট, আগ্রা, দিল্লিসহ প্রধান প্রধান শহর থেকে সংস্করণ বের হয়। বর্তমানে পত্রিকাটির প্রকাশক জাগরণ প্রকাশ লিমিটেড। দৈনিক জাগরণই সর্বপ্রথম ভারতে পাঠকদের সবচেয়ে কাছাকাছি আসতে সক্ষম হয়।   দৈনিক প্রায় ৩৬ লাখ কপি প্রকাশিত হয় এই পত্রিকাটির।

 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুক

তরুণ বিলিওনিয়ার মার্ক জাকারবার্গ। তার হাতে ২০০৪ সালে গড়ে ওঠে ফেসবুক। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট হিসেবে এর ধারে-কাছেও নেই কেউ। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ ফেসবুকে বিভিন্ন অনুভূতি ও খবর আদান-প্রদান করে থাকে। ফেসবুক বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সোশ্যাল সাইট হিসেবে সবচেয়ে পাকাপোক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফেসবুকে কাজ করছে ১৭ হাজারের বেশি কর্মী। ১.৮৬ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন। শুরুর দিকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ভিন্ন মাধ্যম হিসেবে আভির্ভূত হলেও বর্তমানে এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের আনাচে-কানাচে ফেসবুকের জয়জয়কার। সে কারণে ধীরে ধীরে ফেসবুকে যোগ হয়েছে ৭০টিরও বেশি ভাষা। ফেসবুক ভিডিও কলিং সুবিধাসহ ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ যোগ করায় এর জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। গুগলের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে বিশ্বের এক নম্বর ওয়েবসাইট হিসেবেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ফেসবুক। বিশ্বব্যাপী ফেসবুকের এই গ্রহণযোগ্যতার কারণে এর প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। সাধারণ ব্যবহারকারী, রাজনীতিবিদ ও তারকারাও খবর শেয়ার করেন এই ফেসবুকে।

 

দ্য ওয়াচটাওয়ার

দ্য ওয়াচ টাওয়ার। এই ম্যাগাজিনের ধারে-কাছেও নেই কেউ। পৃথিবীর অনেকগুলো নামকরা জনপ্রিয় ও প্রচারিত ম্যাগাজিনের তালিকায় দ্য ওয়াচ টাওয়ারের নাম উঠে এসেছে সর্বপ্রথমে। পৃথিবীর যে কোনো ম্যাগাজিনের তুলনায় বহুল প্রচারিত এটি। প্রতিটি সংখ্যাই ছাপা হচ্ছে ৬২ মিলিয়নের বেশি কপি। আশ্চর্য শোনালেও এটিই সত্যি। গড়পরতা দ্য ওয়াচটাওয়ার বিক্রি হয় ৬১ মিলিয়নের মতো। এর পাশাপাশি রয়েছে অ্যাওয়াক ম্যাগাজিনটি। দুটি ম্যাগাজিনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে এখনো। প্রায় ২৩৬টি বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যায় এই ম্যাগাজিন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রচার সংখ্যা নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠান দাবি করে দ্য ওয়াচটাওয়ার বিশ্বের সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ম্যাগাজিন। জনপ্রিয়তার দিক থেকেও পিছিয়ে নেই এটি। তবে বিক্রির দিক থেকে এটিই সেরা। ম্যাগাজিনটির পাঠকদের বয়স ৫০ এর কাছাকাছি বলে তাদের খবর ও ছবি খুবই আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। ভিন্ন স্বাদের সংবাদ ও লাইফস্টাইল যুক্ত থাকায় প্রায় সব ধরনের পাঠকের কাছে এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রতি বছরই এর প্রচার সংখ্যা বাড়ছে। তবে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। জার্মানি এবং চীনের আরও দুটি ম্যাগাজিন এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে।

 

ইয়াহু নিউজ

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম হয়ে উঠছে অনলাইন পোর্টালগুলো। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কাগজের পত্রিকার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। সেই হিসেবে গুগল নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস, মেইল-অনলাইন-এর নাম উঠে আসে। তবে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইয়াহু নিউজ। খবরের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও যোগ হওয়াতে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো বিশ্বজুড়ে এত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ইয়াহু নিউজের ক্ষেত্রে সর্বশেষ খবর প্রচারে সুনাম রয়েছে।

বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কোনো সময় এই সংবাদ মাধ্যমে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খবর পড়ার সুযোগ রয়েছে। ইয়াহু নিউজের বৈচিত্র্য হচ্ছে বিভিন্ন সেগমেন্টের সমাহার। এ ছাড়া সব বয়সের কথা বিবেচনা করে সাজানো হয় খবরগুলো। অনেকগুলো আলাদা আলাদা বিভাগে বিভিন্ন স্বাদের খবর তারা প্রকাশ করে থাকে। এ ছাড়া অনলাইন সংবাদমাধ্যম হওয়ায় পাঠকদের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ সিটিজেন জার্নালিজম ও ব্লগ লেখার সুযোগ থাকায় অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে মানুষের আগ্রহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ইয়াহু নিউজে প্রতিমাসে প্রায় সাড়ে ২০ কোটির বেশি মানুষ খবর পড়তে আসে এবং এর মধ্যে একেবারেই নতুন পাঠকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow