প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:১৮

ইবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা দ্বন্দ্বে শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

ইবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা দ্বন্দ্বে শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অমর একুশে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদিতে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্বের ফলে শহীদ বেদীতে এ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শ্রদ্ধা জানানোর পর একে একে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা সমিতি, শাখা ছাত্রলীগ, বিভিন্ন আবাসিক হল, বিভাগ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সময় বঙ্গবন্ধু পরিষদের পর ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন’ এবং কর্মকর্তা সমিতির পর ‘অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশ’ এর নাম ঘোষণা করায় তাৎক্ষণিক বেদিতে হট্টগোল শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আরফিন, কর্মকর্তা সমিতির একাংশের সভাপতি শামছুল ইসলাম জোহা ও সাধারণ সম্পাদক মীর মোর্শেদুর রহমান সঞ্চালক কেন এসব নাম ঘোষণা করেছে এবং কে এই নামের লিস্ট দিয়েছে তা জানতে চান। এসময় তারা সঞ্চালককে ঘিরে ধরে ধমকাতে থাকেন। পরে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন কিছু সময় বন্ধ থাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তারা উপ-উপাচার্যের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা নয়, আমরা জানতে চেয়েছিলাম কেন্দ্র থেকে দেয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটির পরেও নির্বাচন কমিশনের নামে ফুল দেয়ার জন্য কেন নাম ঘোষণা করা হলো? এদের নামটা কিভাবে লিস্ট করা হলো? নির্বাচন কমিশনের নামে ফুল দিলে দুই থেকে তিনজন যাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে প্রশাসনপন্থি শিক্ষকরা গিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।’

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে বেদিতে শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে এরকম পরিস্থিতি না হওয়াই সমীচীন ছিল।’

উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘শহীদ বেদিতে যে কোন কারণেই হোকনা কেন বিশৃঙ্খলার ঘটনা সমর্থন যোগ্য নয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য