শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২২:০৮

যেভাবে উদ্ধার হলেন শাবি ছাত্রলীগের ২ নেতাকর্মী

দুই অপহরণকারী আটক

সিলেট ব্যুরো:

যেভাবে উদ্ধার হলেন শাবি ছাত্রলীগের ২ নেতাকর্মী

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সজিবুর রহমান ও ছাত্রলীগ কর্মী তারেক হালিমী নামে দুই নেতাকর্মীকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের পাশাপাশি দুই অপহরণকারীকে আটক করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অকিল উদ্দিন আহম্মদ। তিনি বলেন, গতকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা তাদেরকে উদ্ধার করি। তবে এ বিষয়টি কোতয়ালী থানার আওতাধীন হওয়ায় তাদেরকে ওই থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে সজিবুর রহমান বাদী হয়ে অপহরণকারী অভ্র কুমার দাস ও মুন্না কোরায়েশির বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন বলে নিশ্চত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার।

সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ইমরান আহমেদ শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মী নিখোঁজের ঘটনায় জালালবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। জিডি নং: ১১৭৯।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে সজিব ও তারেক বাসায় যায়। তার কিছুক্ষণ পর বাসায় রুমে ঢুকে পিস্তল দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাদের সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে অপহরণকারীদের একজন তাকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারেক ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্টাটাস দেয়। এছাড়া ভয় দেখিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে তাদের বিরুদ্ধচারণ করতে বাধ্য করে।

পরবর্তীতে সজিবকে অপহরণ করে দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের কাছে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা সজিবের ফোন, মানিব্যাগ রেখে টিকিট কেটে নরসিংদীর বাসে তুলে দেয়। সিলেট না ছাড়লে তাকে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা আছে বলে হুমকি প্রদান করে বলেও জানা যায়। পরে সজিব সুরমা বাইপাসের কাছে বাস থেকে নেমে সিএনজি ড্রাইভারের মাধ্যমে থানায় ফোন দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

পরবর্তীতে সজিবের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পুলিশ জানতে পারে তারেক হালিমী অপহরণকারীদের কাছে জিম্মি রয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে রাতেই তারেক হালিমীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

শাবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রুহুল আমিন বলেন, আমরা ঘটনাটি জানার পর প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি। সজিব নিজেই মুক্ত হয়ে যোগাযোগ করেছে। আর তারেক হালিমীকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। আমি মনে করি এ ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে এবং যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে তাদের মুল উৎপাটন করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আবু হেনা পহিল বলেন, এ ঘটনায় আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আশা করি অপহরণকৃতদেরকে ও এর সাথে জড়িতদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে তাদেরকে আইনের আওতায় নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত সজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের অনুসারী এবং তারেক হালিমী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. রুহুল আমিনের অনুসারী।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর