Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০১৯ ১৩:৫৩
আপডেট : ১২ জুলাই, ২০১৯ ১৫:৪৫

বন্যার আশঙ্কা, সিলেটের নিচু এলাকাগুলোতে মোকাবেলায় প্রস্তুতি শুরু

সিলেট ব্যুরো

বন্যার আশঙ্কা, সিলেটের নিচু এলাকাগুলোতে মোকাবেলায় প্রস্তুতি শুরু

উজানে বৃষ্টি হচ্ছে তুমুল। বৃষ্টি হচ্ছে সিলেট অঞ্চলেও। দুয়ের প্রভাবে বাড়ছে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি। সুরমা সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমা প্রায় স্পর্শ করে ফেলেছে। বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে সিলেট নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে।

বিশেষ করে মহানগরীর নিম্নাঞ্চলগুলোর জনপ্রতিনিধিরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। যদি বন্যার পানি বস্তির ঘরবাড়িগুলোতে প্রবেশ করতে শুরু করে তাহলে জানমালের নিরাপত্তা বা ক্ষয়-ক্ষতি যাতে কম হয় তার প্রথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে কয়েকজন কাউন্সিলরের কথাবার্তায় মনে হয়েছে, এ ব্যাপারে এখনো তারা মোটেও সচেতন নয়।

বাংলাদেশে আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল। উজানে, ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ সময়টাতে তুমুল বৃষ্টিপাত হয়। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলেও বৃষ্টি ঝরে অঝোর ধারায়। এবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তাই নদ-নদীর পানি এতদিন মোটামুটি কম ছিল। তবে গত কয়েকদিন উজানের মতো সিলেট অঞ্চলেও বৃষ্টি ঝরছে। আর সাথে সাথে ফুঁসতে শুরু করেছে সুরমা কুশিয়ারা।

বৃহস্পতিবার সুরমা সিলেটে বিপদসীমা থেকে মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেটের আকাশে বৃষ্টি দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। সুতরাং আরো বৃষ্টি হবে। বৃষ্টির পানি উজান থেকে নেমে আসছে দ্রুত, অনেকটা পাগলা ঘোড়ার মতো। এ অবস্থায় সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে শোনা যাচ্ছে বন্যার পদধ্বনি।

সিলেট মহানগরীর নিম্নাঞ্চলগুলো বরাবরই বন্যাপ্রবণ। সুরমার পানি যখন আর ছড়াখালে টানে না, বরং নদী থেকে উজান দিকে ঠেলে শহরে প্রবেশ করে তখন কেউ আর নিরাপদ থাকে না। বিশেষ করে কলোনি বা বস্তিগুলোতে প্রবেশ করে। এতে নিম্ন-আয়ের মানুষেরা দুর্ভোগে পড়েন বরাবর।

এবারও তেমন আশঙ্কা জেগে উঠেছে। বিশেষ করে ১০, ২৩, ২৪, ২৭নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি সবসময়। 

এ অবস্থায় ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলররা বন্যা মোকাবেলার সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তারা নিজ নিজ এলাকার স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করেন বরাবর। এবারও তাই করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি এলাকার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকেও তারা সহায়তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন।

সিসিক’র ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ জানিয়েছেন, মেন্দিবাগ, চালিবন্দর ইত্যাদি এলাকায় কয়েকটি ড্রেন নির্মানের সুফল হিসাবে এবার তার ওয়ার্ড জলাবদ্ধতামুক্ত। তবে সুরমার পানি উজানে ঠেলে নগরীতের প্রবেশ করতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি তার এলাকার স্কুলগুলোর শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছেন। স্কুলগুলোতে যাতে আড়াই/তিনশ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যায় তেমন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি। তাছাড়া তার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকেও তিনি প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে তেমন প্রস্তুত বলে মনে হলো না ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিকন্দর আলীকে। তবে তিনি জানালেন, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তার এলাকা সফর করেছেন বৃহস্পতিবার বিকেলে। বন্যার পানি উজান ঠেলে শহরে প্রবেশ করলে 'আল্লাহ', 'আল্লাহ' করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। 

তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে তার উদ্যোগ সম্পর্কেও পরিস্কার কোন ধারণা দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বলেছেন, প্রাথমিক হাইস্কুল ও মাদ্রাসা মিলিয়ে তিনি ২/৩শ’ পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে তার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করেন।

জানা গেছে, নগরীর ২৪ ও ২৭নং ওয়ার্ডেও তেমন প্রস্তুতি শুরু করেছেন কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য