শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:০২

চসিক নির্বাচন : এবার ধরাশায়ী ১০ আলোচিত কাউন্সিলর

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:

চসিক নির্বাচন : এবার ধরাশায়ী ১০ আলোচিত কাউন্সিলর

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পর এবার চমক দেখালেন পুরুষ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নেও। এবার বর্তমান প্রায় এক ডজনেরও বেশি প্রভাবশালী কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন পাননি। যারা দলের মনোনয়ন পাননি, তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় আলোচিত-সমালোচিত এবং নানাবিধ বির্তকিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একইভাবে গোয়েন্দাসহ নানাবিধ তদন্ত প্রতিবেদনেও রয়েছে তথ্য-উপাত্ত। 

এখানে ৪ বার নির্বাচিত হওয়া কাউন্সিলর যেমন কাউন্সিলর ছিলেন, তেমনি প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হওয়া প্রভাবশালী কাউন্সিলরও রয়েছে। আবার অনেকেই বিষয়ে চলছে দুদকসহ নানাবিধ তদন্তও। মনোনয়ন না পাওয়া একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিটি এলাকায় ছিল আধিপত্য বিস্তারের নেপথ্যে ভূমিকাও। আবার যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, এমন কাউন্সিলরদের বক্সির হাট ওয়ার্ডের হাজি নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও রয়েছে আধিপত্য বিস্তার, ফুটপাতে কৌশলে দোকান নির্মাণ, জুট ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ।

দলীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দলের মনোনয়নপত্র পাননি এমন নেতাদের মধ্যে চসিকের ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে গতবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল কাদের। সাবেক এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে কাউন্সিলর হওয়ার আগে ১৯টি মামলা ছিল। যদিও পরে রাজনৈতিক বিবেচনায় বেশির ভাগ মামলা প্রত্যাহার করা হয়। কাদেরের বিষয়ে কাউন্সিলর হওয়ার পর আগ্রাবাদ এলাকায় হকার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, সদরঘাটে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন। এবার দলের মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাহাদুর। ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় একটি খুনের মামলা রয়েছে। তিনি ২০১৬ সালে নূর এলাহী নামের এক যুবলীগ কর্মী খুন হন। এ মামলার আসামি। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিস্তারে অভিযোগ এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ডের টানা তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন এএফ কবির আহমদ মানিক। চলতি মেয়াদে বারবার দ্বিপক্ষীয় সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে এই ওয়ার্ডে। ঘটেছে রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনোখুনির ঘটনাও। কাউন্সিলর মানিক স্থানীয় সাংসদ ডা. আফসারুল আমীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এখানে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবু হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল। ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ড থেকে তিন মেয়াদে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ  হোসেন হীরন। তিনি খুলশী থানা আওয়ামী লীগের আহবায়কের দায়িত্বও পালন করছেন। বিভিন্ন সময় এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও রেলের জায়গা দখলের নানা অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে নেতা পাল্টানোর অভিযোগও। এখানে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী। ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড থেকে টানা দুই মেয়াদে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মোর্শেদ আকতার চৌধুরী। তিনি রাজনৈতিকভাবে আলোচিত-সমালোচিতও হয়েছেন নেতা-কর্মীদের মাঝে। এবার পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইসমাইল।

৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড থেকে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন জহুরুল আলম জসিম। পাহাড় কাটা, ভূমি দখল, সিএনজি অটোরিকসার স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদা তোলা, মাদক ব্যবসাসহ নানান অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি এলাকায় উন্নয়ন করলেও এসব উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এবার এই ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছেন পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আবছার মিয়া। তাছাড়া সাবেক ছাত্রনেতা নগরীর ৩১ নং আলকরণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড হাসান মুরাদ বিপ্লব, ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ডে মো. সাহেদ ইকবাল বাবু, ১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডের মো. সাবের আহম্মেদ ২৭ নং দক্ষিণ আগ্রাবাদে এইচ.এম. সোহেল, ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে হাজী মো. জয়নাল আবেদীন ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী। তাছাড়া এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৭ ও ৮ ওয়ার্ডে জেসমিন পারভীন জেসী ৯, ১০ ও ১৩ নং ওয়ার্ডে আবিদা আজাদ ১৭, ১৮ ও ১৯ নং ওয়ার্ডে মোছাম্মৎ ফারজানা পারভীন ১৬, ২০ ও ৩২ নং ওয়ার্ডে আনজুমান আরা বেগম ১২, ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডে ফারহানা জাবেদ, ২৮, ২৯ ও ৩৬ নং ওয়ার্ডে মিসেস ফেরদৌসি আকবর।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য