Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০১:৪৪

সাভারের আমিনবাজারে নারীসহ ৫ অপহরণকারী গ্রেফতার

সাভার প্রতিনিধি

সাভারের আমিনবাজারে নারীসহ ৫ অপহরণকারী গ্রেফতার

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় অপহরণ হওয়া এক ব্যক্তিকে ছয় দিন পর সাভারের আমিনবাজার থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। অপহৃত ব্যক্তির নাম মো. রায়হান। তিনি ফেসবুকে কাজল বেগম নামে এক সুন্দরী নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ফেসবুক প্রেমের এক মাস পর ডেটিং করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন রায়হান। তাকে উদ্ধারের সময় অপহরকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির। আটককৃতরা হলেন আজিজুল হাকিম (৪০), লিটন মোল্লা (২৬), নজরুল ইসলাম বাবু (৪২), নুরু মিয়া ওরেফে মোল্লা (৬২) ও কাজল বেগম (২৬)। অভিযুক্তদের আটকের সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত রায়হানকে।

জানা যায়, সুন্দরী মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতো কাজল বেগম (২৬)। তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারীচক্রের সদস্য। সম্প্রতি মোঃ রায়হান (২৪) নামে এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে অপহরণ করে চক্রটি। এরপর র‌্যাবের হাতে চক্রের পাঁচ সদস্য আটকের পর বেরিয়ে আসে প্রকৃত তথ্য।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, এমনিভাবেই কাজল বেগম অপহৃত রায়হানের সঙ্গে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ডেটিংয়ের কথা বলে ডেকে নেয় ১২ এপ্রিল রাতে। পরে রাজধানীর কলাবাগান থেকে গত ১২ এপ্রিল রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে অপহরহণকারীরা রায়হানকে অপহরণ করে আমিনবাজারে নিয়ে আটকে রাখে। ৬ দিন তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় ৫ লাখ টাকায় মুক্তিপণ দফারফা হয়।

র‌্যাব জানায়, অপহৃত রায়হানের পূর্ব পরিচিত ছিল বাহার। মূলত তার প্রাইভেটকারে করেই ঢাকার কলাবাগান থেকে আমিনবাজার এলাকার একটি অজ্ঞাতনামা বিল্ডিংয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয় রায়হানকে। অপহরণকারীরা ওই রাতেই রায়হানের হাত ও চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর টানা ৬ দিন ধরে আটকে অমানসিক শারীরিক নির্যাতন করে। এ সময় রায়হানকে মারধর করে তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের শব্দ ও কান্নার চিৎকার শোনাত অপহরণকারীরা। প্রথমে তার পরিবারের নিকট ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল অপহরণকারীরা।

পরবর্তীতে অপহরণকারীরা তাদের মোবাইল নম্বর হতে রায়হানের বাবা ও বোনের নম্বরে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে দফারফা করে। তাদের কথা মতো ১৫ এপ্রিল রাতে মিরপুর ষাটফিট ভাংগা ব্রিজ এলাকায় অপহরণকারীদের ১ লাখ টাকা দেয় রায়হানের পরিবার। এরপর অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় যে, বাকি ৪ লাখ টাকা না দিলে রায়হানকে মুক্তি দেবে না। বেশি দেরি করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে তারা।

র‌্যাব-৪ সূত্রে জানা যায়, রায়হানের পরিবারের দেওয়া অপহরণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে উদ্ধারে র‌্যাব-৪ এর একটি দল কাজ শুরু করে। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার ১৭ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটায় অভিযান পরিচালনা করে রায়হানকে উদ্ধারসহ অপহরণকারীদের গ্রেফতার করেন। তাদের মধ্যে সেই কথিত প্রেমিকা কাজল বেগমও আছেন। এ সময় অপহরণকারীদের অপহরণের কাজে ব্যবহার করা প্রাইভেটকারটিও উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতার আসামিরা গত ১০ বছর যাবৎ বিভিন্ন পন্থায় ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও চাকুরীজীবী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে টার্গেট অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছিল। মানুষকে ফাঁদে ফেলতে তারা বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন ও কৌশল অবলম্বন করে আসছিল।

নারী দিয়ে ফাঁদ পাতা ছাড়াও তারা ঢাকাসহ আশপাশের বাস স্টেশন থেকে যাত্রীদের মাইক্রো বা প্রাইভেটকারে অন্যত্র নামিয়ে দেবার কথা বলে তুলে নিত। এরপর গাড়িতে ওঠানোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীবেশে থাকা তাদের ৩/৪ জন সঙ্গী গাড়ি চলা অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে অজ্ঞান করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলতো। অজ্ঞান করে হাত-পা বেঁধে অপহৃত ব্যক্তিকে পহরণকারীরা তাদের পরিকল্পিত এলাকায় নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করতো।

র‌্যাব-৪ প্রধান বলেন, আটক নুরু মিয়া ও কাজল বাবা-মেয়ের পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। ভাড়া বাসাতেই তারা অপহরণ করে নিয়ে এসে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করতো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী টের পাওয়ার ভয়ে এক মাস কিংবা দুই মাস পর পর তারা বাসা পরিবর্তন করতো।

মঞ্জুরুল কবির আরও বলেন, সাধারণত লোকলজ্জার ভয়ে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা এসব বিষয়ে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসে না। অনেকেই লাখ লাখ টাকা খোয়া দিয়েও ভয়ে কিংবা মান সম্মানের জন্য কাউকে জানায় না।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য