শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৩

গার্ডেন হুমকিতে ফেলে টেনিস কোর্ট নির্মাণ

ক্ষুব্ধ বিএম কলেজ শিক্ষার্থী পরিবেশবিদরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

গার্ডেন হুমকিতে ফেলে টেনিস কোর্ট নির্মাণ

বরিশাল ব্রজমোহন (বি এম) কলেজের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের নেট হাউস ও মাঠ পরিবেক্ষণ কেন্দ্রের (বোটানিক্যাল গার্ডেন) পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে টেনিস কোর্ট। শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য প্রায় ৭০ বছর আগে সৃজন করা ওই বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে বিরল প্রজাতির নাগালিঙ্গমসহ বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ ও অর্কিড। অথচ ওই গার্ডেনের মাত্র দেড়-দুই গজ পাশেই কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের জন্য নির্মাণ করছেন লন টেনিস কোর্ট। আর এ কারণে সরিয়ে ফেলা হয়েছে নেট হাউস। এক বছর আগে একই স্থানে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করতে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন অধ্যক্ষ। ফের একই স্থানে টেনিস কোর্ট নির্মাণ শুরু করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বি এম কলেজের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে ছুটি থাকার সুযোগে কর্তৃপক্ষ বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করছেন। এক বছর আগে সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম একই উদ্যোগ নিলে তখন মৃত্তিকা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে টেনিস  কোর্ট নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এবার টেনিস কোর্ট নির্মাণের জন্য গার্ডেনের কয়েকটি গাছও কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। বি এম কলেজের একাধিক সাবেক শিক্ষক জানান, দেশবরেণ্য প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা ১৯৫০ সালে বি এম কলেজের মৃত্তিকা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য এই বোটানিক্যাল গার্ডেন সৃজন করেছিলেন। তিনি তখন বি এম কলেজের শিক্ষক ছিলেন। নিজ হাতেই গার্ডেনে রোপণ করেছিলেন নাগলিঙ্গমসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির গাছ ও অর্কিড। সেসব গাছের একটি তালিকা গার্ডেনের পাশে শোভা পেলেও পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবে একাধিক প্রজাতির বিরল গাছ এখন আর নেই। তবে ১৯৫০ সালের পর থেকেই বি এম কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেন শিক্ষার্থীদের গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই গার্ডেনটি হুমকির মুখে ফেলে টেনিস কোর্ট নির্মাণ শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) বরিশালের বিভাগীয় সমন্বয়ক কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, টেনিস কোর্ট করা হলে গার্ডেনের গাছগুলো সুরক্ষিত থাকবে না। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সঙ্গে সহায়ক পরিবেশ রাখার দাবি জানান তিনি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. রফিকুল আলম বলেন, বি এম কলেজের অমূল্য সম্পদ বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে টেনিস কোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ আত্মঘাতী। কলেজে অনেক ফাঁকা জায়গা আছে। সেসব জায়গায় না করে শিক্ষার্থীদের গবেষণার স্থানের পাশে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করা সমীচীন হবে না। বি এম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শফিকুর রহমান সিকদার দাবি করেন, গার্ডেনের পাশে আগেই টেনিস কোর্ট ছিল। সেটি সংস্কার করা হচ্ছে মাত্র। টেনিস কোর্টের কারণে বোটানিক্যাল গার্ডেনের কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তিনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর