শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ মার্চ, ২০১৯ ২২:১১

গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শোষণের নামান্তর

-পীর চরমোনাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শোষণের নামান্তর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই বলেছেন, রাষ্ট্রীয় এবং দলীয় লুটপাট, দুর্নীতি ও কায়েমি স্বার্থবাদীদের কারণে শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। দুর্নীতি বন্ধ না করে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা সাধারণ মানুষকে শোষণের নামান্তর। তিনি বলেন, গ্যাসের মূল্য ১ টাকাও বৃদ্ধি হলে জনগণ মেনে নেবে না। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের জাতীয় শ্রমিক কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফ আলী আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম, হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, মাওলানা এ টি এম হেমায়েত উদ্দীন, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আলহাজ আবদুর রহমান, আলহাজ জান্নাতুল ইসলাম, মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ, ক্যাপ্টেন (অব.) ইব্রাহিম, মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান, মাওলানা মামুনুর রশীদ, ডা. আল আমীন এহসান, অধ্যাপক আবদুল করীম।

পীর চরমোনাই বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও শ্রমিকদের সমস্যার শেষ নেই। সর্বস্তরের শ্রমিকরা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও ন্যায্য মজুরির বঞ্চনা নিয়েই কাজ করছেন। সরকারগুলো শ্রমিকের সংকটের বাস্তবমুখী সমাধান করছে না। যে কারণে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, শিল্পবিরোধ, স্বাস্থ্য সমস্যা, বকেয়া মজুরি, বিনা নোটিসে ছাঁটাই, নারী শ্রমিকদের যৌন হয়রানিসহ সর্বত্র সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ মালিক-শ্রমিক সু-সম্পর্কের অনুপস্থিতি। ইসলামী শ্রমনীতির অনুপস্থিতিতে শ্রমিকরা সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অসহায় জীবনযাপন করছে। শ্রমিকদের আস্থায় নিয়ে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশে শিল্পায়ন সম্ভব। পীর সাহেব বলেন, ডাকসু নির্বাচন বিতর্কিত করার মাধ্যমে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করেছে। সিইসির বক্তব্যের মাধ্যমে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। সংসদে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যে সংসদ কলঙ্কিত হয়েছে। পীর সাহেব বলেন, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। পুঁজিপতিরা শ্রমিকদের কলুর বলদ হিসেবে ব্যবহার করে টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে। আর রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ নির্যাতিত-নিপীড়িত, শোষিত-বঞ্চিত ও পদদলিত হচ্ছে। অতীত-বর্তমান কোনো সরকারই শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করেনি। শ্রমিকরা অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামলে তাদের ওপর গুলি, হামলা-মামলা, ছাঁটাই ও বরখাস্ত করা হয়। এই বৈষম্যের মূলোৎপাটন করে সাম্য-সম্প্রীতিপূর্ণ মানবিক ও ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তিনি।

 


আপনার মন্তব্য