শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৪৬

বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে এত আলসেমি কেন?

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে এত আলসেমি কেন?

বগুড়া শহর আওয়ামী লীগ ছয় বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবেÑ এই আশায় থাকতে থাকতে অনেক নেতা-কর্মী ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার বেলায় জেলা কমিটির এত আলসেমি কেন? বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাচনে সফলতা পেলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সফলতা আসেনি। এর মধ্যেই আবার পৌর নির্বাচন আসছে। এ নির্বাচনে শহর আওয়ামী লীগের বেশ দায়িত্ব রয়েছে। বিএনপির ঘাঁটি বগুড়ায় সবসময় এককভাবে সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে একক বিজয় লাভ করে বিএনপি। নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুটি আসনে জয়ী হয়। এ জয়ের পর থেকে জেলায় আওয়ামী লীগের পালে হাওয়া লেগে যায়। সে হাওয়ায় বগুড়ায় দুলে উঠে নৌকার পাল। জেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বগুড়া পৌরসভায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। বিএনপির অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও পরাজিত হন পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে। বগুড়া পৌরসভার নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের সহযোগিতা করে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগ। এর সঙ্গে যোগ থাকেন জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় নেতারা। ২০১৭ সালে ২১টি ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার পর ওয়ার্ড নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোটার বৃদ্ধির জন্য কাজও করেছে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগ। সদস্য পদ নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহে অভিযান শেষ করলেও তাদের কোনো পদ দিতে পারেনি শহর আওয়ামী লীগ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার প্রত্যাশায় থেকে অনেক নেতা-কর্মীও দমে গেছেন। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েও ভালো ফলাফল করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ সদর আসনে আওয়ামী লীগের মাহবুবুল আলম নৌকা প্রতীকে পান ৫৪ হাজার ৭৭৭ ভোট। ২০০৮ সালে এই ভোট বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭৪ হাজার ৬৩৪ ভোটে। ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে এই ভোট এসে দাঁড়ায় ৬২ হাজারে। ২০১৪ সালে সদর উপজেলা নির্বাচনে যা দাঁড়ায় ৫৪ হাজারে। আর সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়ে মাত্র সাড়ে ৩৭ হাজার। আর ২০১৯ সালের ২৪ জুন উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে টি জামান নিকেতা নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ভোট পান ৩২ হাজার ২৯৭টি। গত ১৮ বছরের মধ্যে বগুড়া সদরে সবচেয়ে কম ভোট।

সূত্র জানায়, গত বছর বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন সংগ্রহ এখন চলছে। বর্তমানে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের ভোটার রয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার। সব মিলিয়ে এ ভোটার সংখ্যা এক লাখে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে শহর আওয়ামী লীগ।

২০১৩ সালে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করা হয় রফি নেওয়াজ খান রবিনকে। এই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক : শাহাদৎ হোসেন শাহীন, মিজানুর রহমান বকুল, শেখ শামীম, ওবায়দুল হাসান ববি, অ্যাডনিস তালুকদার বাবু। ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি হলেও আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।

বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফি নেওয়াজ খান রবিন জানান, শহর আওয়ামী লীগে প্রায় ১ লাখ সদস্য সংগ্রহ করার কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন সদস্য করার ক্ষেত্রে যারা সুশৃঙ্খল, দলীয় চেতনায় বিশ্বাসী তাদের নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা আওয়ামী লীগকে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে। কিন্তু কমিটি গঠন করা হয়নি। আহ্বায়ক কমিটির সবাই চান পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হোক। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে নেতা-কর্মীরা আরও বেশি করে কর্মোদ্যমী হয়ে উঠবেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর