শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৯ ০১:৫০

৯৪ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যসম্মত মাসিক ব্যবস্থাপনার বাইরে

কালের কণ্ঠ-ওয়াটার এইড গোলটেবিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। এদের মধ্যে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৯০ লাখ। বিশাল এই জনসংখ্যার মাত্র ৫ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ডিসপোজেবল স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। বাকি ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ নারী খরচ বাঁচাতে এখনো মাসিক ব্যবস্থাপনার বাইরে রয়ে গেছেন। যা তাদের জন্য নানাভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার এইডের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এমন চিত্র ফুটে ওঠে। কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় এ গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল। ‘স্যানিটারি ন্যাপকিনে ভ্যাট ট্যাক্স হ্রাস : প্রভাব ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক বৈঠকের মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. খাইরুল ইসলাম। আলোচনা করেন অবস্ অ্যান্ড গাইনোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার, একই প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় সচিব মো. তারেক হাসান, বসুন্ধরা গ্র“পের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হাইজিন প্রোডাক্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক মো. মুস্তাফিজুর রহমান, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, ব্র্যাকের পরিচালক (ওয়াস কর্মসূচি) ড. মো. আকরামুল ইসলাম, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক (ট্যাক্স) আবদুল্যাহ আল যাবেদ, এসিআইর বিজনেস ডাইরেক্টর মো. কামরুল হাসান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিতা গাজী রহমান, এলা প্যাড-এর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ডা. নাসরীন জাহান, টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার ডা. ওয়াহিদা সিরাজ, সাজেদা ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন পরিচালক মো. ফজলুল হক, ওয়ার্ল্ড ভিশনের পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মন্দিরা গুহ নিয়োগী, ডরপ-এর পরিচালক (গবেষণা) মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান, বাস্টের স্টাফ আইনজীবী আয়েশা আক্তার। গোলটেবিলের আলোচকরা তথ্য তুলে ধরে জানান, গত ৩০ জুন সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ন্যাপকিন তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তবে নারী ভোক্তারা এখন পর্যন্ত সরকারি এই ঘোষণার সুফল পাচ্ছেন না। স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম এখনো বিপুলসংখ্যক নারীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছে, যা কিশোরী ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা। আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিটি ন্যাপকিনের দাম ৫ থেকে ১৫ টাকা। যা দেশের বেশির ভাগ নারীর জন্য খুবই ব্যয়বহুল। তার ওপর স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর কর, উৎপাদনের ওপর স্থানীয় মূল্য সংযোজন কর এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিক্রয় করের কারণে এই পণ্যের দাম আরও বেড়ে যায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর