Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:০৭

পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকটে রাজশাহী মেডিকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকটে রাজশাহী মেডিকেল

গতকাল বেলা ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক। একটু এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ল ড্রেনে জমে থাকা অপরিষ্কার পানি। দেখা গেল হাজারো মশার আনাগোনা। পানিতে ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখা গেছে, মশা বসে আছে, একটু কাছে গেলেই মশাগুলো উড়ে যাচ্ছে। এই চিত্র শুধু প্রধান ফটকের নয়, রামেক হাসপাতালের বেশির ভাগ ড্রেন ও ভাগাড় অপরিষ্কার থাকায় মশা নির্বিঘেœ বংশবিস্তার করছে। তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে কিছু ওয়ার্ডে পরিষ্কার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। কিছু ওয়ার্ডের আশপাশে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছে হাসপাতালটি। তবে কর্মী সংকটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারের সূত্রমতে, হাসপাতালটিতে মোট ৭৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী সরকারিভাবে নিয়োজিত। ২০ জন সিকিউরিটি গার্ড, ১৯০ জন অফিস সহায়ক ও ১৬৮ জন সুইপার নিয়ে পরিচ্ছন্ন কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সব ওয়ার্ডে তিন শিফটে কাজ করানোর কারণে নিয়মিত পরিষ্কার করতে পারছেন না তারা। তাদের মতে, এত বড় হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মী যা আছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এসব কর্মীদের নিয়ে আবার চিকিৎসক ও অফিসের অফিস সহায়কসহ হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে রাখা হচ্ছে। বাকি অনেক কাজও তাদের দিয়ে করানোয় পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আইসিইউ ও পোস্ট অপারেটরসহ মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ৬৩টি। কিন্তু বাড়ানো হয়নি তেমন জনবল। প্রতিদিন ১২০০ শয্যার জায়গায় চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন প্রায় তিন হাজার রোগী। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আছে ১২৮ জন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ২৯৫ জন। পরিচ্ছন্নতা কর্মী আছে মোট ১৩৮ জন। বর্তমানে তা বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ২১০ জন। খাতা-কলমে এগুলো থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সঠিকভাবে তা নেই। হাসপাতাল ঘুরে কথা হয় কয়েকজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সঙ্গে। একাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানান, এই কয়েক সপ্তাহে তাদের পরিষ্কারের কাজ নিয়ে নাভিশ্বাস অবস্থা দাঁড়িয়েছে। আগের চেয়ে ডিউটির সময় অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। অনেকে কাজ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত তাদের চাপ দিচ্ছে কিন্তু কর্মীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে না।

হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন পরিষ্কার করা হয়, কিন্তু রোগী স্বজনরা অনেক বেশি অসচেতন থাকার ফলে ভোগান্তির শেষ নেই।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, যে পরিমাণ কর্মী তাদের আছে, সেগুলো দিয়েই তারা হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করছেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী অনেক কম।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর