শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪০

নীরবেই চিরবিদায় নিলেন ‘বীরাঙ্গনা’ সন্ন্যাসী রানী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

নীরবেই চিরবিদায় নিলেন ‘বীরাঙ্গনা’ সন্ন্যাসী রানী

নীরবেই চিরবিদায় নিলেন রাজশাহীর চারঘাটের ‘বীরাঙ্গনা’ সন্ন্যাসী রানী। গতকাল দুপুরে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সন্ধ্যায় চারঘাট কেন্দ্রীয় শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এ সময় তাকে শ্রদ্ধা জানান সাবেক সংসদ সদস্য রায়হানুল হক, সাবেক পৌর মেয়র নার্গিস খাতুনসহ গণমান্য ব্যক্তিরা। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে যেসব বাঙালি নারী নির্যাতিত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু তাদের বীরাঙ্গনা খেতাব দিয়ে সম্মানিত করেন। সন্ন্যাসী রানী ছিলেন তাদেরই একজন। কিন্তু স্বীকৃতি না পেয়েই চলে গেলেন পরপারে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতভাবে চারঘাট আক্রমণ করে। এতে মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক ব্যক্তি শহীদ হন। তাদের মধ্যে সন্ন্যাসীর বাবাও ছিলেন। এলাকার অনেক বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় পাক বাহিনী। ভয়ে বেশিরভাগ মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সন্ন্যাসী রানী বাবাকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে চারঘাটেই থেকে যান। হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোসররা তাদের হাতে তুলে দেয় সন্ন্যাসী রানক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ ৯ মাস ধরে এখানে সন্ন্যাসীর ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। দেশ যখন স্বাধীন হয় সন্ন্যাসী তখন অন্তঃসত্ত্বা। ১৯৭২ সালের মাঝামাঝিতে তিনি এক সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু আগের সন্তানসহ দুটি সন্তানের কোনো হদিস তার জানা ছিল না। এত ত্যাগ স্বীকারের পরও সরকারিভাবে তিনি স্বীকৃতি পাননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভিক্ষা করেই দিনাতিপাত করতেন। আর ছিল সরকারের দেওয়া সামান্য বয়স্ক ভাতা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর