শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৯

রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গ্রাফিক্স ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ছাত্রীর শরীরে হাত দেওয়া, যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্ত করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি নিপীড়ন নিরোধ সেলে বিভাগের ছাত্রীরা এসব অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক মোমেনীন চৌধুরী এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। আর অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু। তিনি বলেন, ‘চারুকলা অনুষদের ছাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগপত্র পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।’ এদিকে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীরা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্নভাবে আমরা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর যৌন হয়রানি ও মানসিকভাবে উত্ত্যক্তের শিকার হই। যার কারণে আমরা মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। পড়াশোনা বা অন্য কোনো কাজেই মনোযোগ দিতে পারছি না।’ অভিযোগপত্রে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা আরও উল্লেখ করেন, ‘কারণে-অকারণে স্যার কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করেন। অফিসে ডেকে নিয়ে বসিয়ে রাখেন। ফ্রি মাইন্ডের কথা বলে নানা রকম ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশালীন কথাবার্তা বলেন। অনেক সময় সবার সামনে গায়ে হাত দেন। অন্য নারী শিক্ষকদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন।’ এর আগেও চারুকলা অনুষদের অধীন একাধিক ছাত্রী অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা এবং বিভাগের সভাপতির কাছে মৌখিক নালিশ করেছেন বলে বিভাগসূত্রে জানা যায়। অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি আর মানসিকভাবে সহ্য করতে না পেরে অভিযোগ করেছি। আমি চাই না ওই শিক্ষক আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করুন। আমি ন্যায্য বিচার চাই।’ এ বিষয়ে এই প্রতিবেদককে ভুক্তভোগী কয়েকজন ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা স্যারের যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আসছি। আমরা স্যারকে দেখলে রীতিমতো ভয়ে থাকি।

তিনি সবার সামনে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে হেসে ওঠেন। আবার মাঝেমধ্যে আমাদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন।’

এ বিষয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে বিস্তারিত না জেনে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর