শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৫

কারণ ছাড়াই দাম বাড়ছে নিত্যপণ্যের

আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ

ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

কারণ ছাড়াই দাম বাড়ছে নিত্যপণ্যের

করোনা মহামারীর কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন কমে যাওয়ায় মূলধনী যন্ত্রাংশ আমদানি কমেছে। পক্ষান্তরে বাড়ছে ভোগ্যপণ্য আমদানির পরিমাণ। রমজান সামনে রেখে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই দেশে ৫-৬ ভাগ ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে। তবে কমছে না বাজারদর। উল্টো আমদানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পণ্যের দাম। আমদানি এবং বাজার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই। তবে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিচ্ছেন। বাস্তবে তার যৌক্তিক উপাত্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোজ্য তেলের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টি কে গ্রুপের কর্মকর্তা জাফর আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে গত বছরের নভেম্বরে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ছিল টনপ্রতি ৭১০ ডলার। এখন তা ৯৫০ ডলারের বেশি। একইভাবে ৬০০ ডলারের পামতেলের দাম ৮৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব দেশীয় বাজারে পড়তে পারে। এটি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।’ এদিকে মধ্য এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া রমজানে বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা রেখে এবারও দুই মাস আগ থেকেই প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। যার বদৌলতে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে এ বছর আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। পর্যাপ্ত আমদানির পরও শেষ পর্যন্ত রমজানে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের মতে, করোনার ধাক্কার পর চাহিদা বাড়ায় বিশ্বজুড়ে ভোগ্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তার সঙ্গে খালি কনটেইনার সংকট দেখা দেওয়ায় আমাদের দেশে পণ্য আমদানি খরচ বাড়ছে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার ভোগ্যপণ্য আমদানিতে বন্দরে আবারও ইয়ার্ড রেন্ট কমালে দাম কিছুটা কমতে পারে। রমজান সামনে রেখে ইতিমধ্যে ছোলা, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি নিয়ে অনেক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। আরও কয়েকটি জাহাজ আসার পথে রয়েছে। এভাবে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রমজানের ভোগ্য পণ্যভর্তি জাহাজ আসতে থাকবে। আসন্ন রমজানে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে মাঠ জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে নানামুখী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার। টিসিবির মাধ্যমে সুলভমূল্যে বিপণন সক্ষমতা দ্বিগুণ করা হচ্ছে, পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য আমদানির বিষয়টিও নজরদারিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পিঁয়াজের বাজার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারাকে ‘নানামুখী কলাকৌশল ও পদক্ষেপের সুফল’ হিসেবে দেখছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পিঁয়াজের অভিজ্ঞতা অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭টি ভোগ্যপণ্যকে নিত্যপ্রয়োজনীয় মনে করা হলেও রোজা সামনে রেখে আপাতত ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল, পিঁয়াজ, ছোলা ও খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এসব পণ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ বাজার শুরু করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান সামনে রেখে এ মুহূর্তে আড়াই  কোটি লিটার ভোজ্য তেল, ১৭ হাজার টন ডাল, ৬০০ টন ছোলা, ১৩ হাজার টন চিনি ও অন্যান্য পণ্যের মজুদ নিয়ে সুলভমূল্যের বাজার ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নিয়েছে টিসিবি। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ভোজ্য তেলসহ আরও কিছু পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে- প্রতি অর্থবছরে দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা ২১ লাখ টন, যার ৯০ ভাগই আমদানি করতে হয়। কেবল রোজার মাসে ভোজ্য তেলের চাহিদা থাকে ৪ লাখ টনের মতো। সারা বছরের জন্য প্রয়োজন হয় ১৮ লাখ টন চিনি, এর মধ্যে ৩ লাখ টনের চাহিদা থাকে রোজার সময়। সারা বছর যেখানে ৫ লাখ টন মসুর ডাল লাগে, রোজায় চাহিদা থাকে ৮০ হাজার টনের মতো। ডালের চাহিদা মেটাতে ৫০ শতাংশ আমদানি করতে হয়।

এদিকে রোজার অতি প্রয়োজনীয় পণ্য ছোলা বছরে ৮০ হাজার টন চাহিদা থাকে দেশে, যার ৮০ ভাগই ব্যবহার হয় রোজার মাসে। এ ছাড়া এ সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পিঁয়াজের। ২৫ লাখ টন বার্ষিক চাহিদার ৫ লাখ টনই প্রয়োজন হয় রোজার মাসেই। 

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান, পিএসসি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ মজুদ সক্ষমতা নিয়ে রোজার আগে মাঠে নামছেন তারা। আরও কিছু পণ্যের মজুদ বাড়াতে বিভিন্ন উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। মার্চের শুরু থেকেই বাজারে পণ্য নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাধারণ ক্রেতা সাধারণের ওপর যাতে বাড়তি দামের চাপ না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর