শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ মে, ২০২১ ২৩:১৫

টু ক রো খ ব র

সিলেটে হেফাজত নেতাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

Google News

সিলেটে হেফাজতের দুজন নেতা গ্রেফতারের পর সংগঠনটির স্থানীয় বড় নেতাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা তান্ডব চালালেও সিলেটের পরিস্থিতি ছিল অনেকটা শান্ত। তারা সভা-সমাবেশ করলেও জেলার কোথাও কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড় শুরু হলেও সিলেটের নেতা-কর্মীরা ছিলেন স্বস্তিতে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে গ্রেফতারের পর নেতা-কর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর আগেও হেফাজতের আরেক স্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে সিলেট নগরীর বন কলাপাড়ার আব্বাসী জামে মসজিদ থেকে গ্রেফতার করা হয় মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে। ঢাকা থেকে আসা সিআইডির একটি দল তাকে গ্রেফতার             করে। পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মুখপাত্র জিসানুল হক জানান, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে তান্ডব চালিয়েছে এর সঙ্গে শাহীনুর পাশার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সিলেট বিভাগেও নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন মাওলানা পাশা- এমন অভিযোগও সিআইডির।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শাহবাগ জামিয়া মাদানিয়া কাসিমুল উলুম মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মুফতি মাওলানা মাসউদ আহমেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জকিগঞ্জের বারহাল ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের নিজবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারান্তরিন রয়েছেন। এ দুই নেতা গ্রেফতারের পর সিলেটের হেফাজত নেতাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক চেপে বসেছে।

হেফাজতে ইসলাম সিলেট মহানগর শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে সিলেটে কোনো সহিংসতা না হওয়ায় নেতা-কর্মীরা স্বস্তিতে ছিলেন। সিলেটের কোনো নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হবে না এমন ধারণাই ছিল। কেন্দ্র থেকেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীকে গ্রেফতারের পর নেতা-কর্মীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সংগঠনের সিলেটের শীর্ষ নেতাদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’ হেফাজতে ইসলামের অপর এক নেতা বলেন, ‘সিলেটে যেহেতু কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তাই এখানকার নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হলে তা হবে নিছক হয়রানি। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এই বিভাগের আরও খবর